কিশোরগঞ্জ: রাজধানীর গুলশান ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ময়দানে ঈদের জামাতে হামলার চেষ্টা নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআ’তুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ বা জেএমবির কাজ বলে জানিয়েছেন পুলিশ প্রধান এ কে এম শহীদুল হক। হামলার দুই দিন পর কিশোরগঞ্জে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আইজিপি একথা বলেন।
গত বৃহস্পতিবার ঈদের দিন সকালে শোলাকিয়া ময়দানের অদূরে পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে জঙ্গি হামলার পর আটক হয় হামলাকারীদের একজন। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি নিজের নাম আবু মোকাদিল জানালেও পরে পুলিশ জানায়, হামলাকারীর নাম সাইফুল ইসলাম ওরফে শফিউল। তার বাড়ি দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে।
সেদিন সাইফুলের সহযোগী আবীর রহমান পুলিশের গুলিতে নিহত হন। তিনি নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন এবং গত মার্চ থেকে নিখোঁজ ছিলেন। আর সাইফুল ঘোড়াঘাটেই একটি মাদ্রাসায় পড়তেন। হামলার সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে দুই পুলিশ সদস্য নিহত হন।
সাইফুল পুলিশকে জানান, এক ওস্তাদের নির্দেশে তারা শোলাকিয়ায় হামলা করতে এসেছিলেন। তবে তারা কোন সংগঠনের সঙ্গে জড়িত বা কেন ওস্তাদ এই হামলা করতে বলেছেন, তাৎক্ষণিকভাবে তা বলেননি সাইফুল।
আটকের পর থেকে সাইফুল র্যাবের হেফাজতে আছেন। তার কাছ থেকে শোলাকিয়া ময়দানে হামলার বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য জানা গেছে বলে জানিয়েছেন আইজিপি।
আইজিপি বলেন, জেএমবি সদস্যরা সেদিন ঈদগাহ ময়দানে আক্রমণ চালাতে চেয়েছিল। কিন্তু পুলিশ বাহিনী প্রতিরোধ করায় তারা ব্যর্থ হয়েছে।
দেশে সাম্প্রতিক বেশ কিছু জঙ্গি হামলার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হামলাকারীর পক্ষ থেকে দায় স্বীকারের দাবি করা হলেও শোলাকিয়া হামলার পর কেউ দায় স্বীকার করেনি। শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতের ইমাম মাওলানা ফরিদউদ্দিন মাসঊদ জানিয়েছেন, তাকে হামলা করাও জঙ্গিদের উদ্দেশ্য থাকতে পারে। পুলিশ অবশ্য সেদিন নিরাপত্তার কারণে তাকে মাঠে যেতে দেয়নি। মাওলানা মাসঊদের বদলে সেদিন শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতে ইমামতি করেন স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আবদুর রউফ বিন শোয়ায়েব।
গুলশানে অভিজাত রেস্টুরেন্ট হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার ঘটনায় সারাদেশে যখন নিন্দার ঝড় বইছে তখন ঈদের দিন দেশের সবচেয়ে বড় জামাতে হামলার চেষ্টায় হতবিহ্বল হয়ে পড়ে দেশবাসী। বিশেষ করে জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় জামাতের আশেপাশে ব্যাপক নিরাপত্তার মধ্যেই এ রকম অতর্কিত হামলায় হতচকিত হয়ে যায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। তবে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ভড়কে গেলেও পরে নিজেদেরকে সামলে নিয়ে পাল্টা হামলা চালায় তারা এবং পুলিশের গুলিতে এক হামলাকারী নিহত হয় এবং গুরুতর আহত অবস্থায় আটক হন সাইফুল।
হলি আর্টিজানে হামলার পর বিশ্বে জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সাইট ইন্টিলিজেন্স গ্রুপ জানিয়েছিল, আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংস্থা আইএস এই হামলার রায় স্বীকার করেছে। হামলাকারীদের ছবিও এই সংস্থাটিই প্রকাশ করে।
তবে পুলিশ দাবি করেছে, হলি আর্টিজানে হামলায় জড়িত দেশীয় জঙ্গী সংগঠন জেএমবি। আর্টিজানে হামলা এবং শোলাকিয়া হামলা একই সূত্রে গাঁথা বলেও দাবি করেছেন পুলিশ প্রধান এ কে এম শহীদুল হক। তিনি বলেন, ‘জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের নিশ্চিহ্ন করে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ তৎপর আছে। যে কোনও মূল্যে দেশ ও জনগণকে রক্ষা করা হবে’।
শোলাকিয়া ময়দানের অদূরে জঙ্গি হামলার ঘটনায় দুই পক্ষের গোলাগুলিতে মারা যান স্থানীয় বাসিন্দা ঝর্ণা রানী ভৌমিক। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার সময় তার বাড়িতেও যান আইজিপি।
ঝর্ণার পরিবারকে শান্তনা দেয়ার পাশাপাশি তাদেরকে আর্থিক সহায়তা এবং নিহতের ষষ্ঠ শ্রেণি পড়ুয়া ছোট ছেলের পড়াশোনার দায়িত্ব নেয়ার ঘোষণাও দেন পুলিশ প্রধান।