ঢাকা: সারাদেশে আদালতপাড়ার নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আজ বুধবার সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে অধস্থন আদালতে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে সারাদেশের আদালতের নিরাপত্তা বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।একই সঙ্গে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তা বৃদ্ধির সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হয়েছে। সম্প্রতি হলি আর্টিজান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার পর রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে।এরই অংশ হিসাবে সুপ্রিম কোর্ট এই পদক্ষেপ নিলো।
সুপ্রিম কোর্টের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার সাব্বির ফয়েজ বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য অধস্থন আদালতকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কি ধরণের নিরাপত্তা দরকার তা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রাজধানীর গুলশান ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার পর আদালতপাড়ার নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে তৎপর হয় সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। নিরাপত্তা ইস্যুতে গতকাল মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনা করেন। আজ বুধবার সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ আদালতের বিভিন্ন শাখার সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করেছে।
সাব্বির ফয়েজ জানান, সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তা ইস্যুতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন শাখার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। বৈঠকে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এদের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের মূলভবন ও এনেক্সভবনের প্রধান গেট ছাড়া বাকি সব গেট বন্ধ করে দেয়া, সুপ্রিম কোর্টের গেটে স্ক্যানার মেশিন ও আর্চওয়েও বসানোর সিদ্ধান্ত হয় । আইনজীবী ছাড়া কেউ যাতে এ দুই ভবনে প্রবেশ করতে না পারেন সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হবে। বিচারপতি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনজীবী ও আইনজীবীদের সহকারীদের আইডি কার্ড ব্যবহার করতে হবে।
বিচারপতি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও আইনজীবীদের গাড়ি ব্যতীত কারো গাড়ি সুপ্রিম কোর্টে প্রবেশ না করার ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। গাড়িতে আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে দেয়া স্টিকার লাগানোর ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে। আদালতে প্রবেশের সময় প্রতিটি গাড়িকে অর্টো স্ক্যানার ডিভাইস দিয়ে পরীক্ষা করা হবে। আইনজীবীভবন রাত সাতটার পর বন্ধ থাকবে।
এদিকে বুধবার থেকেই সুপ্রিম কোর্টের ভেতরে রিক্সা প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না।
সুপ্রিম কোর্টের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার সাব্বির ফয়েজ জানান, আগামীতে মাজার গেট থেকে মূলভবন পর্যন্ত একটি ওয়াকওয়ে তৈরি করা হবে যাতে বৃষ্টির মধ্যে শেডের নিচ দিয়ে আদালতে প্রবেশ করতে পারেন। আদালত প্রাঙ্গণে সিসি ক্যামেরার সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হবে। সিসি ক্যামেরাগুলো মনিটারিং করার জন্য আলাদা একটি কক্ষ থাকবে। সেখান থেকে প্রতি তা মনিটরিং করা হবে।
গুলশান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার পর সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তা নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা করছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। প্রধান বিচারপতিও বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।