চবি প্রতিনিধি : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) সাপের আনাগোনা বেড়েছে। গত ১৫ দিনে ৬ বারের মতো সাপের দেখা মিলেছে। এক শিক্ষার্থীকে ছোবলের ঘটনাও ঘটেছে।
পাহাড় আর বনবৃক্ষে আচ্ছাদিত ১৭ হাজার একরের এই বিশ্ববিদ্যালয় যেমনটা মানুষের কাছে খুব সৌন্দর্যের আবার তেমনি বন্যপ্রাণী, কীটপতঙ্গ, জীবজন্তুরও বেশ আকর্ষণের জায়গা।
এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাহাড়ে দেখা যায় মায়া হরিণ, সজারু, বন্য শুকর, বাঘডাশ, পশুপাখি ও নানান জাতের জীব-জন্তু। পাহাড়ের প্রাচীরে গড়ে ওঠা এই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সাপের এক নিরাপদ আশ্রয়স্থল। এখানে সাপ থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সম্প্রতি সাপ এসে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে।
রোববার (৭ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাওল হল এবং বেগম রোকেয়া হলে দুইটি বিষধর সাপের দেখা পাওয়া যায়। আলাওল হলে আসা সাপটিকে মেরে ফেলা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি কলেজের সামনে থেকে মারা হয়েছে আরও দুটি বিষাক্ত সাপ।
এর আগে গত মাসে আমানত হল এবং গত বুধবার দক্ষিণ ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আলী আজাদীর বাসবভনেও সাপ দেখা যায়। এছাড়া গত ১ অক্টোবর শাহাজালাল হলের তাইজুল ইসলাম নামক এক আবাসিক শিক্ষার্থী সাপের কাটায় আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
তাইজুলের বন্ধু জানায়, সে গোসল করতে গেলে একটি সাপ তাকে ছোবল দেয়। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেকে) চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করা তোলা হয়।
এদিকে আলাওল হলের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিযোগ, হলের চারপাশে ঝোঁপঝাড় বেড়ে যাওয়ায় সাপের উপদ্রব বেড়েছে। এমন অবস্থায় ক্যাম্পাসে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে হলের নিচতলার রুমগুলোতে থাকা বেশি বিপজ্জনক। কারণ বেশিরভাগ সময় নিচতলায় সাপের দেখা মিলে।
শিক্ষার্থীরা মনে করেন, ঝোঁপঝাড় পরিস্কার করে, ওষুধ প্রয়োগ করে এখনই সাপ তাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া উচিত। তা নাহলে যে কোনো বিষধর সাপের ছোবলে প্রাণ হারাতে পারেন শিক্ষার্থী।
একুশে/আইএস/এসসি/এটি