চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য সন্দেহে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি ল্যাপটপ ও ১৩টি জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, এদের মধ্যে একজন শিবির নেতা ছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনজনই আনসারুল্লাহর সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
গ্রেফতার তিনজন হলেন- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সাবেক ছাত্র মোঃ ফরহাদ আহম্মেদ ওরফে রিপন (২৭), চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সাবেক ছাত্র মোঃ ইমরান (২৬) ও বেসরকারি শ্যামলী আইডিয়াল টেকনিক্যাল কলেজের পঞ্চম সেমিস্টারের ছাত্র আহম্মেদ হোসেন রনি ওরফে রুবেল (২১)। তাদের মধ্যে ফরহাদকে নগরীর ডবলমুরিং এলাকা থেকে, ইমরানকে কর্ণফুলী এলাকা থেকে ও আহম্মেদ হোসেন রনিকে পটিয়ার দলঘাট এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার নাজমুল হাসান বলেন, গ্রেফতার রনি স্বীকার করেছে, সে দক্ষিণ চট্টগ্রামের শিবিরের নেতা এবং আনসারুল্লাহর সঙ্গে জড়িত। তবে সে শিবিরের কোন পদে আছে সেটা জানতে পারিনি। তবে ধলঘাট ইউনিয়নের তেকোটা গ্রামে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে গোলাম আজম, শিবির এবং জামায়াতী ভাবধারার বিভিন্ন লেখকের বই ও শিবিরের সাংগঠনিক নথিপত্র পাওয়া গেছে।
তিন বলেন, আনসারুল্লাহর সঙ্গে জড়িত ফরহাদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করে বর্তমানে কর্ণফুলী ইপিজেডে এনলাইটিক্যাল কেমিস্ট হিসেবে কর্মরত আছে। আনসারুল্লাহর আরেক সদস্য ইমরান চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে পাওয়ার টেকনোলজিতে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করে।
চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (বন্দর) মোঃ মারুফ হাসান বলেন, ফরহাদ, রনি এবং ইমরানকে জঙ্গি সংগঠনে এনেছে গত ২১ জুলাই সীতাকুন্ড থেকে গ্রেফতার হওয়া ধর্মান্তরিত জঙ্গী মুসয়াব ইবনে উমায়ের। তারা বেশ কয়েকবার নাশকতা সংগঠিত করার উদ্দেশ্যে বৈঠক করেছে বলে জানিয়েছে। তারা চট্টগ্রামের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আনসারুল্লাহকে সংগঠিত করার দায়িত্বে ছিল।
এদিকে গ্রেফতারকৃত আনসারুল্লাহর তিন সদস্যকে শুক্রবার বিকেলে আদালতে হাজির করা হয়। এসময় তাদের প্রত্যেককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। আদালত রোববার রিমান্ড শুনানির দিন নির্ধারণ করে গ্রেফতারকৃতদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।