মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

জঙ্গি ইস্যু: হেফাজতের ৫০ নেতাকে নিয়ে তৎপর গোয়েন্দারা

| প্রকাশিতঃ ২১ অগাস্ট ২০১৬ | ৯:৪৯ অপরাহ্ন

hefazatচট্টগ্রাম : হরকাতুল জিহাদকে (হুজি) জঙ্গি সংগঠন উল্লেখ করে ২০০৫ সালের ১৭ অক্টোবর নিষিদ্ধ করে সরকার। নিষিদ্ধ হওয়ার পর এ জঙ্গি সংগঠনের নেতাকর্মীরা হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশে যোগ দিয়েছে বলে তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটির ১১৬ নেতার মধ্যে ৫০জনই বিভিন্ন সময়ে হুজির নেতা ছিলেন; দুইজন আছেন ‘আফগান ফেরত মুজাহিদ’।

শাহরিয়ার কবির সম্পাদিত ‘হেফাজত-জামায়াতের মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস’ নামের একটি গ্রন্থে এই তথ্য উঠে আসে। এ তালিকাটি নিয়ে এখন তৎপর রয়েছে সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশ।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মশিউদ্দৌলা রেজা বলেন, হেফাজতের মধ্যে হুজি নেতাদের প্রবেশের বিষয়টি নিয়ে একটি গ্রন্থ প্রকাশ হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা অবগত আছি। এ নিয়ে আমাদের রুটিন ওয়ার্ক আছে।

শাহরিয়ার কবির সম্পাদিত গ্রন্থে উল্লেখ করা হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পাওয়া ‘হুজি নেতারা’ হলেন- হেফাজতের মহাসচিব মাওলানা জুনাইদ বাবুনগরী, সিনিয়র নায়েবে আমীর মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী, নায়েবে আমীর ইজাহারুল ইসলাম চৌধুরী, নায়েবে আমীর মাওলানা আশরাফ আলী। নায়েবে আমীর ও প্রথম মহাসচিব সুলতান যওক নদভী, নায়েবে আমির মুফতি ওয়াক্কাস, নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুল মালেক হালিম, নায়েবে আমীর মুফতি মোফাফফর আহমদ, নায়েবে আমীর মাওলানা হাফেজ তাজুল ইসলাম, নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, নায়েবে আমীর মাওলানা রফিক আহমদ, নায়েবে আমীর মাওলানা রহমতুল্লাহ কাউছার, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মাওলানা লোকমান হাকিম, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সলিম উল্লাহ, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুফতি ফয়জুল্লাহ, সহ সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সাজেদুর রহমান, সহ সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুফতি আমিনুল হক, সহ সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সালাউদ্দীন নানুপুর, সহ সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মাহমুদ হাসান, সহ সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ওবায়দুর রহমান, সহ সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল হক, সহ সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হাফেজ সালামতুল্লাহ, সহ সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবুল কাসেম, অর্থ সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ আইয়ুব বাবুনগরী, সহ অর্থ সম্পাদক মাওলানা কাতেব ইলিয়াছ, সহ অর্থ সম্পাদক মাওলানা হাফেজ মুজাম্মেল বিন ইউনুছ, সহ অর্থ সম্পাদক হাফেজ মুহাম্মদ তৈয়ব, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী, সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মীর খলিলুর রহমান মাদানী, সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুছা বিন ইজহার, সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা জিয়াউল হোসাইন, সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা নুর আহমদ, প্রচার সম্পাদক আনাছ মাদানী, সহ প্রচার সম্পাদক মাওলানা ওছমান সাঈদী, সহ প্রচার সম্পাদক মাওলানা আনোয়ার, দপ্তর সম্পাদক মাওলানা ফোরকান আহমদ, সহকারি দপ্তর সম্পাদক মাওলানা আ ব্দুল জব্বার, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুফতি হারুন বিন ইজহার, সহ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মাওলানা গোলাম রব্বানী, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা হেলালুদ্দীন বিন জমীরুদ্দীন, সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হাজী মুহাম্মদ ইউসুফ, সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা রশিদ আহমদ হাবিবী, আন্তর্জাতিক বিষয়ক যুগ্ন সম্পাদক মুহম্মদ শফী, সহ সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাওলানা জসিমুদ্দীন, কার্য বিনর্বাহী কমিটির সদস্য মাওলানা মুফতি কেফায়েতুল্লাহ, মাওলানা নোমান, মাওলানা নুরুল আবছার, মাওলানা আব্দুল্লাহ, মাওলানা হোসাইন বিন ইউনুছ।

আফগানফেরত ‘মুজাহিদ’দের মধ্যে রয়েছেন- হেফাজতের কেন্দ্রীয় সহ অর্থ সম্পাদক মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী ও কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মুফতি হাবিবুর রহমান।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হেফাজতের চট্টগ্রাম মহানগরের প্রচার সম্পাদক আ ন ম আহমদ উল্লাহ বলেন, শাহরিয়ার কবির সম্পাদিত গ্রন্থটি আমি সংগ্রহ করে পড়েছি। সেখানে অনেকগুলো ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে। গ্রন্থটিতে আন্দরকিল্লার একটি দোকানকে তিনি মাদ্রাসা হিসেবে দেখিয়েছেন। হুজি থেকে হেফাজতে কেউ আসেনি। সব অপপ্রচার। মনগড়া তথ্য দিয়ে গ্রন্থটি বের করা হয়েছে।