চট্টগ্রাম: আনোয়ারার সিইউএফএল সংলগ্ন ডাই অ্যামোনিয়া ফসফেট (ডিএপি) কারখানার প্ল্যান্ট থেকে পাইপ লিকেজের কারণে অ্যামোনিয়া গ্যাস ছড়িয়ে পড়লেও এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইয়ংওয়ান গ্রুপের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার সাইফুদ্দিন সাইফ বলেন, অ্যামোনিয়া গ্যাস তীব্র জাজালো গন্ধের, যা ১০০ জন মানুষের প্রস্রাবের গন্ধের সমান।
এখন ১০০ জন মানুষ প্রস্রাব করার পর পানি না দিলে কখনো আগুন ধরতে কেউ দেখছেন ওই জায়গায়? – প্রশ্ন রাখেন সাইফুদ্দিন সাইফ।
তিনি বলেন, সেখানে আগুন ধরলে তো আর কথায় ছিল না, বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট করে ফেলা যেত!
‘আমরা হুজুগে বাঙ্গালি বলে আখ্যায়িত করা হয়, এবার যেন তা না হয়।’ যোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নেই জানিয়ে তিনি পরামর্শ দেন, ‘যাদের নার্ভ দূর্বল, তারা যেন অজ্ঞান না হন… তাদের জন্য পরামর্শ হল রুমাল অথবা কাপড়ে পাউডার মেখে দু’ভাজ দিয়ে তা মুখে বেধে ফেলুন। ঘরের দরজা জানালা খোলা রাখুন, পর্যাপ্ত আলোবাতাসের ব্যাবস্থা যেন থাকে।’
‘কেউ শ্বাসকষ্টে ভুগলে, মুখে এক হাত দিয়ে শ্বাস নিন, তার পরক্ষণে হাত ছেড়ে দিয়ে শ্বাস ছাড়ুন। এভাবে বার বার করুন।’ – বলেন সাইফুদ্দিন সাইফ।
মহসিন কলেজের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ইদ্রিস আলী বলেন, বাতাসে অ্যামোনিয়া ছড়ালে এর প্রভাবে মাথায় ঝিমুনি, বমি ভাব ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। এ অবস্থায় নিরোধক ‘মাস্ক’ ব্যবহার করা যেতে পারে।
ডিএপি সার কারখানার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কারখানায় কাছাকাছি তিনটি ট্যাংকের একটিতে ছিদ্র হলেও বাকি দুটি ঠিক আছে। ট্যাংকে থাকা সবগুলো গ্যাস বের হয়ে গেছে। এখন ঘটনাস্থলের আশপাশে বিপুল পরিমাণ পানি ছিটিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।
এদিকে নগর পুলিশের বন্দর জোনের সহকারী কমিশনার জাহিদুল ইসলাম বলেন, অ্যামোনিয়া গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার পর কেউ কেউ শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। সার কারখানার প্রকৌশলীরা কাজ করছেন ত্রুটি সারাতে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।