চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে সার কারখানার ট্যাংক বিস্ফোরিত হয়ে অ্যামোনিয়া গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর প্রভাবে মানবদেহের নানা রোগের সৃষ্টি, নদী-পুকুরের মাছ মারা যাওয়া, গাছপালার ক্ষতি ও এসিড বৃষ্টিসহ প্রাণী ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাবের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মহসিন কলেজের রসায়নের বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ইদ্রিস আলী বলেন, ‘অ্যামোনিয়া গ্যাসের ঘনত্ব কমানোর জন্য পানি ছিটানো হয়েছিল। এই পানি আর অ্যামোনিয়া মিশে অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড নামের এক ধরনের ক্ষারের সৃষ্টি হয়। এটা মানুষ ও পরিবেশের ক্ষতি করে।’
কর্ণফুলীর মাছ মারা যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে ইদ্রিস আলী বলেন, ‘ইতিমধ্যে ওই কারখানার আশপাশের এলাকার বিভিন্ন জলাশয়ের মাছ মরে ভেসে উঠছে। এটা হচ্ছে অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ছড়িয়ে পড়ার কারণে। এখন এই ক্ষার যেদিকে ছড়িয়ে পড়বে, সেদিকেই মাছ মারা যাবে। বৃষ্টি হলে পানির সাথে মিশে এই ক্ষার কর্ণফুলী নদীতে গিয়ে মিশবে। নদীর যে জায়গায় এই ক্ষারের ঘনত্ব বেশি থাকবে, সেখানে মাছসহ জলজ প্রাণী ধ্বংস হবে।’
অ্যামোনিয়া গ্যাসের নিঃসরণের ফলে আক্রান্তরা নানা জটিলতার মুখে পড়বে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আক্রান্তদের কিডনী নষ্ট হওয়া ও চোখের সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গর্ভবতী নারীদের জন্য ক্ষতির কারণ এই গ্যাস। আক্রান্তদের রক্তের চাপ বাড়বে-কমমে। দিন যত যাবে, ততই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। তবে সময় লাগবে।’
কারাখানা এলাকার আশপাশে ক্ষারীয় বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে জানিয়ে ইদ্রিস আলী বলেন, ‘কারখানাটি নদীর তীরে হওয়ায় অ্যামোনিয়া গ্যাস বাতাসের সঙ্গে খুব দ্রুত মিশে যাচ্ছে। তাই ওই এলাকায় ছড়িয়ে থাকা ক্ষারীয় (অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড) বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
গাছপালার উপর অ্যামোনিয়ার প্রভাব বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গাছের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হবে। গাছ সবুজ থাকবে না।’
এ ধরনের প্ল্যান্টের নিরাপত্তাব্যবস্থা আরো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ হওয়া উচিত বলে মনে করেন মহসিন কলেজের রসায়নের বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ইদ্রিস আলী।
তিনি বলেন, ‘অ্যমোনিয়াম গ্যাস বিষাক্ত। এ গ্যাস মানুষ তথা প্রাণীকূল এবং প্রকৃতির জন্য ক্ষতিকর। আমি যতটুকু জেনেছি প্লান্টগুলো অনেক পুরনো। এ ধরনের প্ল্যান্টের নিরাপত্তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের আরো মনোযোগ দেওয়া দরকার।’
একই বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত ও পরিবেশ রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুমন গাঙ্গুলী বলেন, ‘অ্যামোনিয়া গ্যাস পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।’
এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক, ফায়ার সার্ভিস এবং বিসিআইসি’র কর্মকর্তারা। জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, গ্যাস পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে সব ধরনের চেষ্টা চলছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে খুব দ্রুতই প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমদ খান বলেন, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সর্বোচ্চ চালিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন। পরিবেশের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে।
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হবে। এছাড়া দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।