চট্টগ্রাম: নগরীর কোতোয়ালী থানার স্টেশন রোডের নিউমার্কেট এলাকায় পুলিশের সঙ্গে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। এছাড়া আটক করা হয়েছে শতাধিক শ্রমিককে।
বুধবার সকাল ১১টার দিকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এতে নিউমার্কেট মোড় থেকে পুরাতন স্টেশন রোড এলাকায় ঘন্টাখানেক গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকে। যার প্রভাবে পুরো নগরজুড়ে সৃষ্টি হয় যানজটের।
সংঘর্ষের ঘটনায় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কোতোয়ালী জোনের সহকারী কমিশনার আবদুর রহিম, কোতোয়ালী থানার ওসি জসিম উদ্দিন, পরিদর্শক (তদন্ত) নূর আহমদসহ অন্তত ২০জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। অন্যদিকে পুলিশের লাঠিপেটা ও রাবার বুলেটে আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন শ্রমিক।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, তিন মাস আগে এশিয়ান অ্যাপারেলস লিমিটেড নামের একটি কারখানা নগরীর স্টেশন রোড এলাকা থেকে সরিয়ে উত্তর কাট্টলী বাদামতল এলাকায় নেওয়া হয়। তবে স্টেশন রোডের পাঁচ তলা পুরনো ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় কারখানার প্রধান কার্যালয় থেকে যায়। এদিকে গত মঙ্গলবার সকালে উত্তর কাট্টলীর ওই কারখানার কাটিং সেকশনের নারী শ্রমিকরা কাজ করছেন না অভিযোগ তুলে তাদের গালিগালাজ করেন একজন সুপারভাইজার।
শ্রমিকদের অভিযোগ, উত্তর কাট্টলী এলাকায় বেশকিছু বহিরাগত যুবক নারী শ্রমিকদের বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে আসছিল। এই কারণে তারা স্টেশন রোড শাখায় কারখানার কার্যক্রম পুনরায় চালু করার দাবি জানিয়ে আসছিল। পাশাপাশি বেতন-ভাতা বাড়ানোর দাবিও ছিল। এসব দাবির প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর স্টেশন রোডে কারখানার প্রধান কার্যালয়ের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। এরপর ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের আশ্বাস দেন- বুধবার দুপুরে মালিকপক্ষ তাদের অভিযোগ শুনে ব্যবস্থা নেবে।
বুধবার সকাল ১১টার দিকে ওই কারখানার শ্রমিকরা নিউমার্কেট মোড় এলাকায় সড়ক অবরোধ করে ফের বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে তারা ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। এতে বাধা দেওয়ায় তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুঁড়ে। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে পার্কিং করে রাখা একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোতোয়ালী থানা পুলিশের পাশাপাশি শিল্প পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা যোগ দেন। একপর্যাংে রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছুড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। পুলিশের ধাওয়ায় শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে গিয়ে অবস্থান নেয়। পরে কারখানা থেকে শ্রমিকদের বের করে এনে গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় শ্রমিকরা কান্নাকাটি করতে থাকে।
আন্দোলনরত নারী শ্রমিক তাসলিমা বলেন, বুধবার মালিকপক্ষের সাথে আমাদের বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তারা আসেনি। তাই বাধ্য হয়ে আমরা সড়কে অবস্থান নিয়েছিলাম। কোন কারণ ছাড়ায় পুলিশ আমাদেরকে মারধর করেছে।
কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর আহমদ বলেন, শ্রমিকরা বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে সড়ক অবরোধ করে। সরিয়ে দিতে চাইলে তারা পুলিশের উপর হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেশ কয়েকজন শ্রমিকদের আটক করা হয়েছে।