মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

নির্মাণের পর একবারও মেরামত করা হয়নি ডিএপি কারখানা

| প্রকাশিতঃ ২৪ অগাস্ট ২০১৬ | ৭:৪২ অপরাহ্ন

Captureচট্টগ্রাম: প্রতিটি কারখানা বছরে ন্যুনতম একবার পরীক্ষা নীরিক্ষার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু নির্মাণের দীর্ঘ দশ বছরে একবারও মেরামত কিংবা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়নি আনোয়ারার ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি-১) কারখানাটি। দীর্ঘদিন তদারকি না থাকায় এ কারখানার অ্যামোনিয়া গ্যাসের ট্যাংকে ক্রুটি থাকলেও তার সমাধান হয়নি। ফলে ঘটে যায় এই দুর্ঘটনা।

বাংলাদেশ কেমিকেল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, একটি চীনা প্রতিষ্ঠান এই কারখানাটি তৈরি করেছে। তাদের প্রকৌশলীরা কী তৈরি করে দিয়ে গেছেন আমরা কিছুই জানি না। এখানে ঝুঁকি মোকাবেলার ব্যবস্থাপনা খুবই দুর্বল।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নির্মাণ ক্রুটির কারণে ডিএপি-১ এর ধারণক্ষমতা ৫০০ টন হলেও কখনও ৪০০ টনের বেশি এমোনিয়া গ্যাস সংরক্ষণ করা যেতো না। কারখানায় উৎপাদনের শুরুতেই এখানে কিছু ক্রুটি দেখা দেয়। ৫০০ মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতার ট্যাংকের সেফটি বাল্ব নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।

বাল্বটি চালু থাকলে দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। এছাড়া কয়েক বছর ধরে কন্ট্রোল রুমের মনিটরও কাজ করত না। ফলে যান্ত্রিক ক্রুটির সিগনাল নিরূপণ করা যেত না। তাছাড়া সেফটি ট্যাংকের একটি লেভেল ছিল। সেটিও অনেকদিন ধরে অকেজো। এই লেভেলটি সচল থাকলে ট্যাংকের মধ্যে কী পরিমাণ গ্যাস ছিল তা নিরূপণ করা যেত। সেই সাথে লেভেল গ্যাস ক্যাপটিও ছিল বিকল। এটি চালু থাকলে ট্যাংকের ভেতর-বাইরের অবস্থান জানা যেত। ট্যাংকের ড্রেন লাইনের বাল্বটিও কাজ করত না।

ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক অমল বড়–য়া বলেন, ট্যাংকে কিছু ক্রুটি ছিল। গ্যাসের চাপ নিয়ন্ত্রণে দুইটি ব্যবস্থা ছিল। সেগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ে। কেন তা হলো তা তদন্তে উঠে আসবে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অ্যামোনিয়া গ্যাসের প্রতি টনের বাজার মূল্য ছাপ্পান্ন হাজার টাকা। বিস্ফোরিত ট্যাংকে ৩০০ মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া থাকায়, সে হিসেবে এক কোটি আটষট্টি লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্থ ট্যাংকটি পুনঃনির্মাণ ও কারখানা সচল করতে আরো এক বছর সময় লাগবে। সে হিসেবে আগামী এক বছর কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

এদিকে অ্যামোনিয়া গ্যাস ট্যাংক বিষ্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্থ ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানী লিমিটেড কারখানা বুধবার বিকেলে পরিদর্শন করেছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।

এসময় ভুমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান জাবেদ, বিসিআইসি, সিইউএফএল, ডিএপি’র উধ্বর্তন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে মন্ত্রী এ ঘটনায় অসুস্থ চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের দেখতে যান।

পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, ‘ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানী লিমিটেড কারখানায় অ্যামোনিয়া গ্যাস ট্যাংক বিষ্ফোরণের ঘটনা অনাকাঙ্খিত। এ ঘটনার আসল রহস্য উম্মোচনের জন্য তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে কারো দায়িত্ব অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে দোষিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

প্রসঙ্গত, গত সোমবার রাতে আনোয়ারা উপজেলায় অবস্থিত ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানী লি’র অ্যামোনিয়া গ্যাস বিষ্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে গ্যাসক্রিয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন অর্ধশত মানুষ। এ ঘটনা তদন্ত করতে পৃথক দুটি কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।