মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

চট্টগ্রামে সন্দেহভাজন দুই জঙ্গি আটক

| প্রকাশিতঃ ১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | ১:০৫ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগরী বাকলিয়া থানা এলাকার একটি মেস থেকে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। ওই মেসে তল্লাশি চালিয়ে ২টি মোবাইল সেট ও ১৩টি উগ্রবাদী জিহাদী বই উদ্ধার করা হয়। বুধবার দুপুরে কেবি আমান আলী রোডের বড় মিয়ার মসজিদের দ্বিতীয় তলার মেসে এ অভিযান চালানো হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার সোনাকানিয়া এলাকার আহমদ কবিরের ছেলে নিজাম উদ্দিন (২৫) ও বাঁশখালী উপজেলার বানিয়ারদিঘীর পশ্চিমপাড় বৈলগাঁও গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে রোকন উদ্দিন (২৪)। এদের মধ্যে নিজাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ¯œাতকোত্তর (এলএলএম) পর্বের ছাত্র। রোকন পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করে একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত আছে।

এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) পরিতোষ ঘোষ জানান, চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের একটি দল সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তারা ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিভিন্ন সময়ে বৈঠক করে। আগে বিভিন্ন সময় গ্রেফতার হওয়া আনসারুল্লাহর সদস্যদের সঙ্গে নিজাম ও রোকনের যোগাযোগ ছিল।

তিনি বলেন, নিজাম সাতকানিয়া কলেজে পড়ার সময় থেকেই ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত হলে তিনি শিবিরের নিয়ন্ত্রিত সিটগুলোয় থাকতেন। আর রোকন পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা রাখেন। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখতেন।

এদিকে গত বুধবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে নিজামের পরিবার। সেখানে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, নিজামকে গত রোববার গ্রেফতার করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে গোয়েন্দা কর্মকর্তা পরিতোষ ঘোষ বলেন, নিজাম উদ্দিনের বিষয়টি পরিবার জানত বলেই ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে সংবাদ সম্মেলন করেছিল। এ বিষয়ে বাকলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আনসারুল্লাহর অন্যান্য সদস্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের দুই সদস্যকে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম হারুন-অর-রশিদের আদালতে হাজির করা হয়। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে, তা শুনানির জন্য রোববার দিন ধার্য্য করেন আদালত। পরে তাদেরকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।