মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

অব্যাহতিই দেয়া হলো বাবুল আক্তারকে

| প্রকাশিতঃ ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | ৬:২৯ অপরাহ্ন

babulআলোচিত পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারকে শেষ পর্যন্ত অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যার ঘটনায় জেরে এক পর্যায়ে তাকে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

তখনই বাবুল আক্তারের কাছ থেকে অব্যাহতিপত্র নেয়া হয়। বাবুল আক্তার চাকরিতে যোগ দেয়ার জন্য কয়েক দফা পুলিশ সদর দপ্তরে গেলেও তাকে চাকরিতে যোগ দিতে দেয়া হয়নি। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে তাকে জানিয়ে দেয়া হয়, পদত্যাগপত্রটি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন পুলিশ সদর দপ্তরের কিছু করার নেই। পরে বাবুল আক্তার চাকরি ফিরে পেতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গেলেও তাতে কাজ হয়নি। এ নিয়ে বাবুল আক্তার ফেসবুকে আবেগঘন পোস্টও দেন।

জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাঁর অব্যাহতিপত্রের আদেশ পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হয়।

উপসচিব ইলিয়াস হোসেনের স্বাক্ষরিত এই অব্যাহতিপত্রে বলা হয়েছে- ‘২৪ তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারে যোগদানকৃত জনাব মো. বাবুল আক্তার, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, সিএমপি, চট্টগ্রাম (বর্তমানে পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত এবং পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত)-কে তাঁর আবেদনের প্রেক্ষিতে চাকরি (পুলিশ ক্যাডার) হতে এতদ্বারা অব্যাহতি প্রদান করা হলো।’

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পুলিশ সদর দপ্তরে বদলি হয়ে আসার দুই দিন পর গত ৫ জুন সকালে চট্টগ্রামের ও আর নিজাম রোডে সন্ত্রাসীর গুলিতে নিহত হন বাবুলের স্ত্রী মাহমুদা খানম। এ ঘটনায় বাবুল বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় তিনজনের বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন। শুরুতে জঙ্গিদের সন্দেহ করা হয়েছিল। কিন্তু পরে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে পুলিশের ধারণা পাল্টে যায়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে গত ২৪ জুন গভীর রাতে খিলগাঁও ভূঁইয়াপাড়ার শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবুলকে ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়। ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর আবার তাঁকে শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়।

ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সময়ই বাবুলকে শর্ত দেয়া হয়েছিল, হয় তাকে বাহিনী থেকে সরে যেতে হবে, নইলে স্ত্রী হত্যা মামলার আসামি হতে হবে। ওই সময় কর্মকর্তারা দাবি করেছিলেন, স্ত্রী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বাবুলের জড়িত থাকার তথ্য পেয়েছেন তারা। এ নিয়ে পরে আর মুখ খুলেনি পুলিশ।