চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। ওই হাসপাতালের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ও চট্টগ্রামের সাবেক সিভিল সার্জন ডা. সরফরাজ খান চৌধুরীর বিরুদ্ধে তদন্ত করে এ দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।
বুধবার সকালে জেনারেল হাসপাতালে সম্মেলন কক্ষে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা হয়।
সেখানে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও সংসদ সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর হাতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন কমিটির প্রধান চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা দামের এমআরআই মেশিন ৯ কোটি ৯৫ লাখ ৫০ হাজার টাকায় এবং সাড়ে ২৪ লাখ টাকার হিটাচি কালার ড্রপলার মেশিন ৬৫ লাখ টাকায় কেনা হয়েছে। জেনারেল হাসপাতালে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাজেট বরাদ্দের বাইরেও যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। এছাড়া চাহিদাপত্রের বাইরেও দুটি শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রসহ বেশ কিছু যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। এছাড়া আরও ১০ ধরনের যন্ত্রপাতি অস্বাভাবিক অধিক মূল্যে কেনা হয়েছে।
প্রতিবেদনে অভিযোগ তোলা হয়, ডা. সরফরাজ খান চৌধুরী প্রকিউরিং এনটাইটি’র (পিই) এর প্রধান ছিলেন। একই ব্যক্তি দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি (টিইসি) এবং টেকনিক্যাল সাব কমিটির (টিএসসি) সভাপতি ছিলেন। যা পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর)-২০০৮ দ্বারা অসমর্থিত এবং প্রতারণার পর্যায়ভুক্ত।
সভায় সাংসদ জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় কি পরিমাণ অনিয়ম হয়েছে তা তদন্ত প্রতিবেদন দেখেই বুঝা যাচ্ছে। কেনাকাটায় গণখাতে ক্রয়বিধি পিপিআর-০৮ অনুসরণ করা হয়নি।
জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, কেনাকাটার জন্য গঠিত কারিগরি উপকমিটির সভায় প্রধানের (সরফরাজ খান) সই ছাড়া বাকি তিন সদস্যের সই নেই। তাহলে ওই সভার ভিত্তিতে কীভাবে যন্ত্রপাতি কেনা হলো? এ বিষয়ে অধিকতর তদন্ত করার জন্য মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও দুদককে জানাবো।
সভায় আলোচনায় অংশ নেন- তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব ও সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী, তদন্ত কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) চট্টগ্রামের যুগ্ম সম্পাদক ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী, বিএমএ চট্টগ্রামের সভাপতি মুজিবুল হক খান, ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী, ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনজুমান আরা বেগম, জেনারেল হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক মুরশিদ আরা বেগম, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক মহসিন চৌধুরী প্রমুখ।