চট্টগ্রাম: দীর্ঘ বিরতীর পর সাবেক সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও বিএনপি সমর্থিত সাবেক সিটি মেয়র এম মনজুর আলমকে ফের এক মঞ্চে দেখা গেছে। শনিবার সকালে নগরীর উত্তরকাট্টলী মোস্তফা বিশ^বিদ্যালয় কলেজ মাঠে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের ৪৪ গুনি ব্যক্তিকে দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দু’জন এক মঞ্চে বক্তব্য রাখেন।
আট বছর আগে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র প্রার্থী হয়ে বিপুল ভোটে জয়লাব করেছিলেন এম মনজুর আলম। মনজুর এক সময় আওয়ামী লীগ সমর্থিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর হলেও সিটি নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ছিলেন। তিনি মহিউদ্দিন চৌধুরীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর পুরনো সম্পর্কের অবনতি হয়। এর পর থেকে কোথাও দু’জনকে এক মঞ্চে বক্তব্য রাখতে দেখা যায়নি। শনিবার দু’জন এক মঞ্চে বক্তব্য রাখার পর নগর আওয়ামী লীগের নয়া মেরুকরণ নিয়েও অনেকে হিসাব নিকাশ করছেন।
শনিবারের ওই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফজিলাতুন্নেছা মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব মনজুর আলম। আওয়ামী রাজনীতি ও সমাজ সেবায় বিশেষ অবদানের জন্য প্রবীন এসব সমাজ সেবক ও আওয়ামীলীগ নেতাদেরকে এ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এছাড়া ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে আসন্ন শারদীয় দুর্গপুজা উপলক্ষে প্রত্যেক পুজা মন্ডপের সহ¯্রাধিক সনাতনি সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, কেউ দলের পতাকাতলে আসতে চাইলে বাধা দিবেননা। যারা আওয়ামী লীগের পতাকাতলে আসতে চায় তাদেরকে উৎসাহিত করবেন। শ্রেষ্ঠ নাগরিক হতে হলে গুনের এবং জ্ঞানের প্রয়োজন। আজকে যাদের সংবর্ধিত করা হলো তারা সবাই স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠত। সমাজ এবং রাষ্ট্রের উন্নয়নে তাঁদের ভূমিকা অপরিসীম।
তিনি বলেন, বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত অনেক গুনি ব্যক্তিকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। ফাউন্ডেশনের পক্ষে সাবেক মেয়র মনজুর আলম আজকে গুনিজনকে যে ভাবে সংবর্ধিত করেছেন তা আগামী প্রজম্মের জন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে।
জঙ্গিবাদের কারণে দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে উল্লেখ করে মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, জঙ্গিবাদ দমনে সকলকে লাঠি হাতে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। শেখ হাসিনা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আপোষহীন নেত্রী। তার দক্ষহাতে দেশে ইতোমধ্যে জঙ্গিবাদের পতন হতে শুরু হয়েছে।
অনুষ্ঠানে এম মনজুর আলম বলেন, আমি যখন মেয়রের দায়িত্বে ছিলাম তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, মনজুকে কাজ করতে দাও। মহিউদ্দিন চৌধুরীর কারণেই আমি মেয়র হতে পেরেছি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সীতাকুন্ড পৌর মেয়র বদিউল আলম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন ছাবেরী,আকবর শাহ থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি সোলতান আহমদ চেয়ারম্যান সেক্রেটারী কাজী আলতাফ,সীতাকুন্ড থানা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. ইছহাক, মোস্তফা হাকিম ওয়েলফেয়ার ফাইন্ডেশনের পরিচালক নিজামুল আলম, আওয়ামী লীগ নেতা রেহান উদ্দিন রেহান,জুলফিকার আলী মাসুদ শামীম,ইঞ্জিনিয়ার মিজানুর রহমান, মোস্তফা হাকিম বিশ^বিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ মো. আলমগীর, উপাধ্যক্ষ বাদশা আলম, মোস্তফা হাকিম গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক (এইচআর অ্যান্ড লিগ্যাল) আলী আহম্মদ, প্রধান শিক্ষক আবদুচ ছাত্তার মজুমদার, মহিবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।