মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

চবিতে ছাত্রলীগের দুই পক্ষে সংঘর্ষ, শাটল-বাস চলাচল বন্ধ

| প্রকাশিতঃ ১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ১২:২৭ অপরাহ্ন

চবি প্রতিনিধি: শোকের মাস আগস্ট শেষ হতে না হতেই আবারও সংঘর্ষে জড়িয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রলীগের দুইটি পক্ষ।

রবিবার (১লা সেপ্টেম্বর) রাত ১২টা ২০মিনিট থেকে শুরু হয় সংঘর্ষ। সংঘর্ষে জড়ানো দুটি গ্রুপ শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরীর অনুসারী বিজয় ও সিএফসি গ্রুপ হিসেবে পরিচিত।

জানা যায়, বিজয় গ্রুপ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেলের পরামর্শ অনুযায়ী চলার সিদ্ধান্ত নিয়ে মিচুয়াল করতে আলাওল হলে মিটিং ডাকে। ঠিক সে সময় সোহরাওয়ার্দী হলে বিজয় গ্রুপের কর্মীদের মারধর করে রুম দখল করে সিএফসির নেতাকর্মীরা।

পরে বিজয় গ্রুপের নেতাকর্মীরা বাধা দিতে গেলে সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিজয় গ্রুপের নেতা ইলিয়াস হোসেনকে বেধড়ক মারধর করে সিএফসির নেতা-কর্মীরা।পরে দু পক্ষে তুমুল সংঘর্ষ বাধে।

এসময় উভয়পক্ষের নেতা-কর্মীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ও এক রাউন্ড গুলির শব্দ শুনা যায়। এতে ৫ ছাত্রলীগ কর্মী আহত হয়। প্রায় দেড় ঘন্টা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়।

এদিকে মধ্যরাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ সকালে নগরীর বটতলী রেল স্টেশনে অবস্থান করা দুটি শাটল ট্রেনের হোসপাইপ কেটে দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে করে সকাল সাড়ে ৭টা ও ৮টার নির্ধারিত ট্রেন দুটি ক্যাম্পাসের উদ্দেশে আসতে পারেনি। একইসঙ্গে ট্রেনের লোকো মাস্টারকে অপহরণ করার কিছু সময় পর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। অন্যদিকে ভোরে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহনের সকল শিক্ষক ও স্টাফ বাসের তালায় সুপারগ্লু লাগিয়ে দেয়ায় বাস চলাচলও বন্ধ রয়েছে।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান ট্রেনের হোসপাইপ কেটে দেওয়া ও লোক মাস্টারকে অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সিএফসি গ্রুপের নেতা রেজাউল হক রুবেল বলেন, বারবার একটি চক্র ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার জন্য সংঘর্ষের সৃষ্টি করে। সেই চক্র গতরাতে সংঘর্ষের সৃষ্টি করেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নতুন কমিটি গঠিত হওয়ার পর তারা সবসময় বলে আমরা সভাপতির নির্দেশ মেনে চলবো। কিন্তু বাস্তবে তা কিছুই হয় না।

এসময় তিনি সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস হোসেনকে কিছুদিনপূর্বে শাটলে দেখা যাওয়া হিজবুত তাহরীরের পোস্টার লাগানোর সাথে সম্পৃক্ত থাকার দাবি করেন। এবং তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথাও জানান।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ছাত্রলীগ কর্মীদের থেকে অস্ত্র উদ্ধার করার আহবান জানান রেজাউল হক রুবেল।

এবিষয়ে বিজয় গ্রুপের নেতা ও সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এইচ এম তারেকুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেলের নির্দেশে এই অতর্কিত হামলা চালানো হয়। তাকে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগীতা করতে চেয়েছি। কিন্তু সবাইকে নিয়ে একসাথে রাজনীতি করার মনমানসিকতা তার নেই। তার মতো একজন অছাত্রের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের রাজনীতি কখনো সফল হবে না। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি এবং দ্রুত তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করার জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কাছে দাবি জানাচ্ছি।