
চবি প্রতিনিধি: সবুজ বৃক্ষরাজি আর পহাড়ি প্রকৃতি নিয়ে দেশের সর্ববৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)। দেশের অন্যসব বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে এখানে ভর্তি হতে একটু বেশিই আগ্রহ শিক্ষার্থীদের। তাইতো দূর দূরান্ত থেকে পাড়ি দিয়ে ভর্তিচ্ছুরা এসেছে স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে। আজ রোববার বি-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে স্নাতক (সন্মান) (২০১৯-২০) শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা। যা চলবে আগামী বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) পর্যন্ত।
ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষ্যে ক্যাম্পাস সেজেছে নতুন রূপে। পাহাড়ি পথ ঘেঁষে এই ক্যাম্পাসের সড়কগুলো। তারপাশে বসেছে ছোট ছোট খাবারের দোকান। যা পরিচালিত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের দ্বারা। রয়েছে আরও কতো আয়োজন।
সচরাচর উৎসব বলতে আমরা নববর্ষ, ঈদ, পূজা-পার্বন ইত্যাদিকেই বুঝি। তবে এই ক্যাম্পাসে চিত্রটা একটু উল্টোই।এখানে উৎসব মানে ভর্তি পরীক্ষা। আর এই উৎসবের কেন্দ্রে থাকে ভর্তিচ্ছুরা।যাদের চোখে মুখে কেবল স্বপ্ন আর স্বপ্ন।
তাইতো প্রথমদিন সকাল থেকে শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর এই সবুজ ক্যাম্পাস। পাহাড়ী নির্জন পথেও পৌঁছে গেছে স্বপ্নবিলাসীদের কন্ঠ। ভোর হতেই উৎসবের আমেজ বইছে পুরো ক্যাম্পাসে। কেউ বা শাটলে ঘর্মাক্ত হযে সামিল হচ্ছে স্বপ্ন পূরণের মিছিলে আবার কেউবা তাদের পথ চিনিয়ে দিচ্ছে। রয়েছে কড়া নিরাপত্তা। ভর্তিচ্ছুরা যেমন ব্যস্ত তেমনি এখানকার শিক্ষার্থীরাও। এই ব্যস্ততা ছেড়ে যায়নি ক্যাম্পাসের দোকানী কিংবা পরিবহন শ্রমিকদেরও। ভোরের আলো ছড়াতেই শহর থেকে ছেড়েছে শাটল। সেই শাটলে করেই এসেছে অধিকাংশ শিক্ষার্থী। আবার কেউবা পৌঁছে গেছে আগের দিন।
শহর থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরবর্তী হওয়ায় এই ক্যাম্পাসে সারা বছর সাধারণ মানুষের আনাগোনা একদম নেই বললেই চলে। তবে ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষ্যে নতুনদের বরণ করে নিতে যেমন ব্যস্ত সময় পার করছে এখানকার শিক্ষার্থীরা আবার তেমনি মেতে উঠেছে উৎসবে। তাদের মুখেই শুনা যায় সেই উৎসবের কথা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের (১৪-১৫) শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আনোয়ারুজ্জামান মুরাদ একুশে পত্রিকাকে বলেন, ভর্তি পরীক্ষা মানেই এক অন্যরকম পরিবেশ। চারদিকে ব্যস্ততা আর ব্যস্ততা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থী কিংবা অভিভাবকদের আগমন। যা ক্যাম্পাসকে করে তুলে কল্লোলিত। ঘুমন্ত ক্যাম্পাস ও জেগে উঠে। চারদিকে ছুটোছুটি। যেন এক উৎসবের আমেজ। তিনি আরও বলেন, আমার নিজ এলাকা থেকে প্রায় ৩০ জন পরীক্ষার্থী এসেছে তাদের বিভিন্ন রুমে রেখেছি। শিক্ষার্থীদের একটুখানি উপকার করতে পেরেও নিজের কাছে অনেক ভালো লাগছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মো. রুবেল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রায় পাঁচ বছর কেটে গেছে কিন্তু ভর্তি পরীক্ষার সময় কখনও থাকা হয়নি। এবারই প্রথম ভর্তি পরীক্ষার সময় ক্যাম্পাসে আছি। তিনি বলেন, আসলেই এই সময়টায় চারদিকে অন্যরকম পরিবেশ বিরাজ করছে। যা অন্য সময়ের চেয়ে আলাদা।হল, ক্যাফেটেরিয়াসহ ক্যাম্পাসের সর্বত্র জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। যেন এক উৎসব।