মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

চবিতে ভর্তি পরীক্ষায় অভিনব জালিয়াতি, আটক ১

| প্রকাশিতঃ ২৯ অক্টোবর ২০১৯ | ৮:৫৭ অপরাহ্ন


চবি প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) এ- ইউনিটের প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে একজনকে আটক করেছে প্রশাসন। আজ মঙ্গলবার বিকেলে দ্বিতীয় শিফটের পরীক্ষায় ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ৫৩২ নম্বর রুম থেকে তাকে আটক করা হয়।

আটক হওয়া পরীক্ষার্থীর নাম জোবায়ের আহমেদ সিয়াম। তার বাড়ী পাবনা জেলায়। তিনি পাবনার বুলবুল কলেজের শিক্ষার্থী। তার সাথে এই জালিয়াত চক্রে রয়েছে আরও দু’জন। তাদের একজন পিয়াম। তিনি সম্পর্কে সিয়ামের খালাতো ভাই।

গত ২৬ তারিখ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বি-১ ইউনিটে একই পন্থা অবলম্বন করে পিয়াম সফলভাবে ভর্তি পরীক্ষা দেয়। সেখানে এই প্রক্রিয়ায় তারা ৪০টি প্রশ্নের উত্তর দেয়। তাদের সাথে জড়িয়ে আছে মেহেরান নামে অপর একজন। তিনি নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থী ও পিয়ামের বন্ধু।

সূত্রে জানা যায়, পিয়াম একটি বিশেষ ক্যালকুলেটরের বিষয়ে সিয়ামকে অবগত করে। যে ক্যালকুলেটরের সাহায্যে মোবাইল ফোন কানেক্ট করা যায়। বিশেষ প্রক্রিয়ায় মোবাইলকে ক্যালকুলেটরের সাথে সংযুক্ত করা হয়। এতে করে মোবাইলে বাইরে থেকে কোন তথ্য আসলে তা ক্যালকুলেটরেও দেখা যায়। এসব বিষয় জানতে পেরে সিয়াম ও পিয়াম চায়না থেকে ১৬ হাজার টাকা দামের একটি ক্যালকুলেটর কিনে আনে। এবং পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কায়দাটি রপ্ত করে। তাদের টার্গেট ঠিক করে যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা হয় সেখানে।

শাহজালালে সফল হয়ে তারা টার্গেট করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। সে অনুযায়ী এ- ইউনিটে আবেদন করে সিয়াম। পূর্ব প্রস্তুতি অনুযায়ী মোবাইল ও ক্যালকুলেটর নিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করে সিয়াম। আর বাইরে থেকে তাদের সাহায্য করার জন্য যুক্ত হয় পিয়াম ও মেহরান। আগে থেকেই মোবাইল ও ক্যালকুলেটর সংযুক্ত করা হয়। যেটির মাধ্যমে মোবাইলের কোন তথ্য আসলে তা ক্যালকুলেটরেও ভেসে উঠে।

পরীক্ষার প্রশ্ন দেওয়ার পর বিকেল ৩টা ৩১মিনিটে সর্বপ্রথম সিয়াম মোবাইলে ছবি তুলে টেলিগ্রামের সাহায্যে বাইরে পাঠায়।আর অপরদিক থেকে পিয়াম ও মেহরান মোবাইলে উত্তর পাঠায়। আর তা দেখা যায় ক্যালকুলেটরে। এভাবে আটবার বাইরে তথ্য আদান প্রদান করে সে। তার মোবাইল দিয়ে ছবি তোলা ও প্রশ্নের উত্তর করা সব দেখতে পায় পাশে বসা একটি মেয়ে পরীক্ষার্থী। হল পরিদর্শকরা পরিদর্শনে আসলে মেয়েটি তাদের সিয়ামের অসৎ উপায়ের কথা জানিয়ে দেয়।এ সময় দায়িত্বরত শিক্ষকরা সিয়ামের ফোন ও ক্যালকুলেটর জব্দ করে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে হস্তান্তর করে।

জালিয়াতির অভিযোগে আটক জোবায়ের আহমেদ সিয়াম বলেন, আমরা অনলাইন থেকে এসব বিষয়ে জানতে পারি।আমার সাথে পিয়াম আর মেহেরান ছাড়া আর কেউ জড়িত নেই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ রকম ধরা পড়লে পরীক্ষা বাতিল ছাড়া আর কিছু হয় না বলে আমি জানি। তাই এসবে গিয়েছি।

এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর প্রণব মিত্র বলেন, আমরা ভর্তি জালিয়াতির খবর পেয়ে তাকে আটক করি। এবং জালিয়াতির সব আলামত জব্দ করি। পরে তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এখন তাকে হাটহাজারী থানায় হস্তান্তর করা হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা জালিয়াতিসহ এসব বিষয় যাতে আর না হয় সেজন্য যা যা দরকার করবো।