
ঢাকা : ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) গুলশান শাখা থেকে ৪ কোটি টাকার ভুয়া ঋণ সৃষ্টি করে আত্মসাতের মামলায় সাবেক বিচারপতি এস কে সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিটের অনুমোদন দিয়েছে দুদক। বুধবার সংস্থাটির কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
আলোচিত মামলাটির অভিযোগপত্র অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে বুধবার বিকালে ব্রিফিং করে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন দুদকের মহাপরিচালক (বিশেষ তদন্ত) সাঈদ মাহবুব খান।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। শিগগিরই তা আদালতে পেশ করা হবে বলে জানান।
দুদক মহাপরিচালক সাঈদ বলেন, এস কে সিনহার বিরুদ্ধে দুজন সাধারণ ব্যক্তির নামে চার কোটি টাকার ভুয়া লোন সৃষ্টি করে নিজের একাউন্টে নিয়ে আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা হয়েছিল। এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন বেনজির আহমেদ। এই মামলাতে এস কে সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দালিখ করেছেন, এটি কমিশন অনুমোদন দিয়েছে।
অভিযোগপত্রে আসামির তালিকায় তৎকালীন ফারমার্স ব্যাংকের অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী ওরফে বাবুল চিশতীর নাম অন্তর্ভূক্ত হয়েছে বলে জানান দুদক কর্মকর্তা।
তবে মামলার ১১ আসামির মধ্যে ব্যাংকটির গুলশান শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক মো. জিয়া উদ্দিন আহমেদকে তদন্ত কর্মকর্তা বাদ দিয়েছেন। একজন নতুন যুক্ত হওয়ায় এবং একজন বাদ পড়ায় আসামি ১১ জনই থাকছেন।
২০১৭ সালে ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে ব্যবসায়ী পরিচয়ে দুই ব্যক্তির নেয়া ঋণের চার কোটি টাকা বিচারপতি সিনহার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢোকার অভিযোগ ওঠে। এরপর অভিযোগের তদন্তে নামে দুদক। গেল বছরের অক্টোবরে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, ফারমার্স ব্যাংকের দুটি অ্যাকাউন্ট থেকে চার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে জালিয়াতির ‘প্রমাণ’ পাওয়া গেছে অনুসন্ধানে।
এরপর চলতি বছরের ১০ জুলাই কমিশনের জেলা সমন্বিত কার্যালয় ঢাকা-১ এ এই মামলাটি করা হয়। দণ্ডবিধি-১৮৬০ এর ৪০৯, ৪২০, ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) এবং মানিল্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪(২), (৩) ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় ওই মামলায়।
একুশে/এএ