ঢাকা : সদ্য সমাপ্ত মারাকাস জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের মন্ত্রী-এমপিদের অনানুষ্ঠানিক বিভিন্ন বৈঠকে সাবেক পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওইসব বৈঠকে উপস্থিত সরকারি উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, গত ১৩ নভেম্বর মরক্কোতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিতে মরক্কো পৌঁছেন প্রধানমন্ত্রী। উঠেন মারাকাসের হোটেল লা মামৌনিয়াতে। ১৫ নভেম্বর জলবায়ু সম্মেলনের উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি ৭ দিন ধরে পুরো জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেন। এসময়টাতে জলবায়ু ও পরিবেশ ইস্যুতে অনির্ধারিত আড্ডাগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর মুখে উঠে আসে সাবেক পরিবেশমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের প্রশংসা।
সূত্রটি জানায়, একদিন এধরনের এক আড্ডায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদহ, পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুসহ সরকারের সচিব ও উচ্চপর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা। সেই আড্ডার মাঝপথে যুক্ত হন সাবেক পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
হাছান মাহমুদকে দেখে প্রধানমন্ত্রী বলে উঠেন, ‘এইতো এক্সপার্টিস এসে গেছে। হি ইজ দ্যা এক্সপার্ট।’ বলেই প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে মন্ত্রী থাকাকালে হাছান মাহমুদের বিভিন্ন ভূমিকা ও যোগ্য নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।
সুযোগ বুঝে ড. হাছান মাহমুদ আরও একধাপ এগিয়ে যান। বলেন, ‘আপা, জ্বালানি কাঠের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব ‘ক্লিন কুক স্টোভ’ ব্যবহারের উদ্যোগটিও আমি নিয়েছিলাম। বাংলাদেশ যখন সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের এই সংক্রান্ত উদ্যোগের চুক্তিবদ্ধ সদস্য হয় তখন অনেকেই বলেছিলেন আমি নাকি বাংলাদেশের চুলা বন্ধ করার চুক্তি করে এসেছি। তিনি বলেন, আমরা যখন এ বিষয়ে চুক্তিবদ্ধ হই তখন বাংলাদেশসহ এর সদস্য দেশ মাত্র ৬টি। পরবর্তীতে সদস্য দেশের সংখ্যা বেড়ে ৫০টি হয়েছে। বর্তমানে আরও ৫০টি দেশ সদস্য হওয়ার জন্য আবেদন করেছে।’
হাছান মাহমুদের এই কথায় সমর্থন দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, কাজটা ভালো করেছো।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ড. হাছান মাহমুদ একুশে পত্রিকাকে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি। তিনি বলেন, এটা তেমন কিছু নয়। তিনি যেই হোন, ভালো কিছু করলেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অকুণ্ঠ প্রশংসা করেন, উৎসাহ দেন।
প্রসঙ্গত, বিশ্বে পরিবেশবান্ধব, ধোঁয়াবিহীন রান্নাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ২০১১ সালের শুরুতে ‘ক্লাইমেট এন্ড ক্লিনএয়ার কোয়ালিশন’ শীর্ষক উদ্যোগটি গ্রহণ করেন সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। প্রাথমিকভাবে এতে যুক্ত হয় বাংলাদেশ, সুইডেন, কানাডা, মেক্সিকোসহ ৬টি দেশ।
২০১১ সালের শুরুর দিকে আমেরিকার পররাষ্ট্র দপ্তরে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ড. হাছান মাহমুদকে আমন্ত্রণ জানিয়ে নিয়ে যান হিলারি ক্লিনটন। আমেরিকা ছাড়াও চুক্তিবদ্ধ ৫টি দেশের পরিবেশমন্ত্রী যোগ দেন সেই অনুষ্ঠানে।
এই চুক্তি স্বাক্ষরের পর ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ড. হাছান মাহমুদ মেক্সিকো সিটিতে ইউনাইটেড ন্যাশন্স এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউএনইপি) এর ব্যবস্থাপনায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে গৃহাভ্যন্তরের দূষণ কমাতে উন্নত ধরনের চুলা ব্যবহারে বাংলাদেশের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে যে সকল সনাতন চুলায় জ্বালানি কাঠ ব্যবহৃত হয় সেগুলো উন্নত চুলায় রূপান্তর হলে জ্বালানি কাঠের ব্যবহার তিন ভাগের এক ভাগে কমে আসেব। এতে বনাঞ্চল রক্ষা পাবে এবং দূষণের মাত্রাও অনেক কমে যাবে। তাই উদ্যোগে এগিয়ে নিতে উন্নত দেশগুলোর সহযোগিতা কামনা করেন ড. হাছান মাহমুদ।
২০১২ সালে হিলারি ক্লিনটনও বাংলাদেশ সফরে এসে বাংলাদেশের এই উদ্যোগটির প্রশংসা করেন। এটি এন নিউজের মুন্নী সাহাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হিলারি বলেন, আমি আশাবাদী যে, স্বল্পমেয়াদী দূষণ উপাদান রোধে আমার উদ্যোগের শুরুতে যে পাঁচটি দেশ পেয়েছি তার একটি বাংলাদেশ। বাংলাদেশ অনেক পরিবেশ সচেতন হয়ে উঠেছেও বলেও মন্তব্য করেন হিলারি ক্লিনটন।
এদিকে এরমধ্যেই ৩০ মিলিয়ন উন্নত চুলা সরবরাহের জন্য জার্মান উন্নয়ন সংস্থাসহ (জিআইজেড) বেশ কয়েকটি দাতা সংস্থা সহযোগিতা করছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। সম্প্রতি রাজধানীতে পরিবেশবান্ধব ধোঁয়াবিহীন রান্না ব্যবস্থার ওপর এক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা জানান।
এসয় তিনি বলেন, আশা করা হচ্ছে আগামীতে কাঠের চুলার আর প্রয়োজন হবে না। ২০৩০ সালের মধ্যে ধোঁয়াবিহীন রান্নাঘর করার সরকারের যে পরিকল্পনা আছে তা আরো দ্রুত বাস্তবায়ন করার উপর গুরুত্বারোপ করেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী।