শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

রেডিও সাগর গিরি পরিদর্শনে পিসিআইইউ সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা

| প্রকাশিতঃ ২ ডিসেম্বর ২০১৬ | ৬:৩৫ অপরাহ্ন

received_1614734192166472নজিব চৌধুরী: কমিউনিটি রেডিও ‘সাগর গিরি’ স্টেশন পরিদর্শন করেছে পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

‘ডেভেলপমেন্ট কমিউনিকেশন’ কোর্সের শিক্ষকের দেয়া অ্যাসাইনমেন্টের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে উদ্যোক্তা সংস্থা ইপসা পরিচালিত রেডিও সাগর গিরি ও মানব সম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্রের ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেছে তারা।

বুধবার (৩০ নভেম্বর) বেলা ১২ টা, পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগের ষষ্ঠ ও সপ্তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা উদ্যোক্তা সংস্থা ইপসার পরিচালিত ‘ রেডিও সাগর গিরি এফএম ৯৯.২’ এর স্টেশন ও মানব সম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্রের ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেছে।

শুরুতেই তারা স্টেশন ম্যানেজার মো: শাহ সুলতান শামীম, অনুষ্ঠান প্রযোজক মোহছেনা মিনা ও টেকনিক্যাল প্রযোজক সঞ্জয় চৌধুরীর সাথে ফুলের তোড়া ও উপহার সামগ্রী দিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তারাও শিক্ষার্থীদেরকে খুব আন্তরিকতার সহিত বরণ করে নেন। তারপর তারা ইপসা এইচআরডিসি ভবনের কনফারেন্স কক্ষে দীর্ঘ দেড় ঘণ্টার উল্লেখযোগ্য এক মতবিনিময় সময় ব্যয় করেন, পারস্পরিক পরিচয় পর্বের পর স্বাগত বক্তব্য রাখেন মো: শাহ সুলতান শামীম এবং তিনি বলেন কিছুদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরাও রেডিও সাগর গিরির স্টেশন পরিদর্শন করে গেছেন। তারপর প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হয়:

শিক্ষার্থীরা: আপনাদের রেডিও সাগর গিরির উদ্দেশ্য কী? –

শামীম: আমাদের রেডিও সাগর গিরির উদ্দেশ্য হচ্ছে,সম্প্রচার এলাকা সীতাকুন্ডে দারিদ্র্য বিমোচন তথা সামাজিক সার্বিক উন্নয়নের, জনগণের মাঝে সহজবোধ্য ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে কৃষি, স্বাস্থ্য, জলবায় পরিবর্তন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, অধিকার প্রভৃতি নানা আর্থসামাজিক ও সংস্কৃতি সংশ্লিষ্ট তথ্য ও সৃজনশীল বিনোদন মূলক অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা। –

শিক্ষার্থীরা: আমনাদের উদ্যোক্তা সংস্থা ইপসা সম্পর্কে একটু জানতে চাচ্ছি।

received_1614734015499823শামীম: ইপসার প্রতিষ্ঠাকাল ১৯৮৫ ইংরেজিতে, সীতাকুণ্ড থেকেই এর যাত্রা শুরু হয়। আমি এখানে শুরু থেকেই আছি। এটি একটি বেসরকারি অলাভজনক সামাজিক উন্নয়নমুলক সংস্থা। আমরা মোট ১৮ টি বিষয় নিয়ে কাজ করছি। এর মধে কিছু হচ্ছে প্রজেক্ট আর কিছু হচ্ছে প্রোগ্রাম। প্রজেক্ট আর প্রোগ্রামের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে। প্রজেক্টগুলো কিছু দাতা গোষ্ঠী ভিত্তিক একটি নির্দিষ্ট সময় পরিচালিত হওয়ার পর শেষ হয়ে যায়। আর প্রোগ্রামগুলো হচ্ছে দীর্ঘকালব্যাপী চলতে থাকবে। যেমন: তন্মধ্যে কমিউনিটি রেডিও একটা, ক্ষুদ্র ঋণপ্রদান ব্যবস্থা, ওয়াটার সাপ্লাই,স্যানিটেশন,জলবায়ু পরিবর্তন এবং এই সব।

শিক্ষার্থীরা: ক্ষুদ্রঋণ কি গ্রামীণ ব্যাংকের মতো দিয়ে থাকেন?

শামীম: গ্রামীন ব্যাংকতো শুধু টাকা দেয়া আর নেয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। আমরা তেমন না। ঋণ দেয়ার ব্যাপারে আমরা খুবই সচেতনতা অবলম্বন করি, ঋণ গ্রহিতা উপকৃত হচ্ছে কিনা তা পর‍্যবেক্ষণ করি। এবং তার মৌলিক অধিকারগুলো আদায় হচ্ছে কিনা তাও দেখি,সে সঠিক খাতে আমাদের টাকাগুলো ব্যয় করছে কিনা আমরা তাও পর‍্যবেক্ষণ করে থাকি। সুতারাং আমরা এই ব্যাপারে খুবই বদ্ধপরিকর।

শিক্ষার্থীরা: আপনারা কি কি খাতে ঋণ প্রদান করেন?

শামীম: কৃষি, গবাদি পশু-পাখি, হাস-মুরগি, বাটিক, মত্স্য খামার প্রভৃতি এবং এর পরিচর্যা সম্পর্কেও শিখিয়ে দিই। তাছাড়া আমরা বেকারত্ব দূর করা,মাদকাসক্তি ও পতিতাবৃত্তি কমানোর ব্যাপারেও কাজ করে যাচ্ছি।

শিক্ষার্থীরা: গনমাধ্যম এবং সমাজে এনজিও বা ক্ষুদ্রঋণ দাতাদের ব্যাপারে একটা নেতিবাচক প্রভাব আছে যে,অনেক ঋণগ্রহিতা টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে সর্বস্ব হারা হয়েগেছে। এই ব্যাপারে আপনার অভিমত কি?

শামীম: এই ব্যাপারে আমাদের ক্যাস স্টাডি আছে, আমরা পর‍্যবেক্ষণ করে দেখেছি যে, ঋন পরিশোধ করতে তারাই দেউলিয়া হয়েছে যারা টাকাটা সঠিক কাজে ব্যয় করেনি, আমাদের কাছ থেকে নিয়ে আরেকজনকে ঋণ পরিশোধ করেছে, তাদের কাছ থেকে নিয়ে আমাদেরকে পরিশোধ করেছে। এই ধরণের কিছু ধান্দাবাজ লোক আছে। তা আমাদের কাছে প্রমাণ আছে। তবে আমরা সাধারণত একজনকে ঋন দিইনা, কোন গোষ্ঠী বা পরিবারকে ঋন দিই যারা স্বাবলম্বী হতে চাই। তবে কিছু এনজিও আছে যারা টিনের চালা পর‍্যন্ত খুলে নিয়ে গেছে এই ধরনেরনজির আছে যাদেরকে হয়েও তো আপনারা চেনেন। আমাদের ইপসাতে ঋণ গ্রহিতার নামে বীমা করা থাকে এবং গ্রহিতা যদি মারা যায় তার সব ঋণও মাফ করে দিই।

শিক্ষার্থীরা: এনজিও গুলোর কারণে, দেশের উন্নয়নের ধারা ধীরগতি হয়ে যায়,আমাদের দেশেতো আনাচেকানাচে এনজিও গুলো ছড়িয়ে গেছে। এই ব্যাপারে আমাদের যদি একটু বলতেন।

শামীম: এনজিও বলতে বড় বড় সব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে বুঝায় কেউ পরোক্ষভাবে কেউ বা প্রত্যক্ষভাবে সেটা হতে পারে ব্যাংক,বীমা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি,স্বাধীনতা উত্তর এই দেশে কিছু অসাধু উদ্দেশ্যসাধক এনজিও এসে দুর্নাম করে ফেলছে যার প্রায়শ্চিত্ত ভালো এনজিও গুলোকেও পোহাতে হচ্ছে আর কিছু সমাজে পণ্ডিত ব্যাক্তি আছে যারা সমাজ উন্নয়নমুলক সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আলাদা করতে চাই, যারা প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান গুলোকে দেখতে পারেনা অথচ পৃথিবীর দুটি পরাশক্তি তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোকে বিভিন্ন শর্তে ঋন দিয়ে সবার মাথায় ঋণের বোঝা তুলে দিচ্ছে এসব তারা একটু কম বুঝে। যত দোষ, নন্দ ঘোষ।

received_1614734052166486শিক্ষার্থীরা : রেডিও সাগর গিরিতে কি কি প্রোগ্রাম সম্প্রচার করা হয়?

শামীম: ফ্যামিলি প্লানিং, হেলথ কেয়ার, স্যানিটেশন বা স্বাস্থ্যবিধি এটাকে আমরা তিনটা ভাগে ভাগ করেছি। নিরাপদ পায়খানা, নিরাপদ পানি,ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা তাছাড়া শিক্ষা ও বিনোদনমুলক,নারী ও শিশু বিষয়ক অধিকার প্রোগ্রাম, সচেতনা ও আইন বিষয়ক কর্মসূচী। আমরা প্রোগ্রাম গুলো দুটি ভাসায় সম্প্রচার করে থাকি, চলিত ও আঞ্চলিক ভাষায়। আমাদের প্রায় ৩০ হাজারের মতো শ্রোতা আছে।

সবশেষে শিক্ষার্থীরা রেডিও সাগর গিরির প্রোডাকশন কন্ট্রোল রুম, রেকর্ডিং রুম, স্টুডিও ফ্লোর ও টেরিস্ট্রিয়াল টাওয়ার এবং মানব সম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্রের ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন, এবং স্টেশন ম্যানেজার মো: শাহ সুলতান শামীম ও রেডিও সাগর গিরির সকল কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।