
চবি প্রতিনিধি : বিভাগের ক্রিকেট খেলার অধিনায়ক নির্ধারণ নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫ কর্মী আহত হয়েছেন। বিবদমান গ্রুপ দুইটি হলো শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেলের অনুসারী সিএফসি ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপুর অনুসারী সিক্সটি নাইন।
রোববার (১ মার্চ) দুপুর দেড়টার দিকে লেডিস ঝুপড়িতে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে তা সর্বত্র ছড়িয়ে পরে। বিকেল পর্যন্ত থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছিল। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আহতরা হলেন, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের মেহেদী হাসান, পারভেজ, মোহন, রসায়ন বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের মিনহাজ, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের রেদওয়ান।
সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলছিলো ‘চাপা বিরোধ’। সেখানে সিক্সটি নাইনের কর্মীরা বেশি থাকলেও আধিপত্য বিস্তার করতে চাইতো সিএফসির কর্মীরা।
হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের ক্রিকেট খেলার অধিনায়ক নির্ধারণের বিষয়কে কেন্দ্র করে আজ লেডিস ঝুপড়িতে দুই গ্রুপের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সভাপতির অনুসারী হিসেবে পরিচিত নেতাকর্মীরা সাধারণ সম্পাদকের অনুসারী নেতাকর্মীদের মারধর করে।
এর জের ধরে কলা ঝুপড়িতে সাধারণ সম্পাদকের কর্মীরা সভাপতির কর্মীদের পাল্টা মারধর করে। এই ঘটনা উভয় গ্রুপের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করে। পরে সভাপতি গ্রুপের নেতাকর্মীরা শাহ আমানত হলে ও সাধারণ সম্পাদকের কর্মীরা শাহজালাল হলে অবস্থান নেয়।
লেডিস ঝুপড়ি ও কলা ঝুপড়ির সামনে প্রথম দফা মারামারির পর শাহ আমানত ও শাহজালাল হলে উভয় গ্রুপের মধ্যে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ হয়েছে। এ সময় উভয় গ্রুপের হাতে দেশীয় ধারালো অস্ত্রও দেখা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপু একুশে পত্রিকাকে বলেন, বিভাগের বিষয় নিয়ে জুনিয়রদের মধ্যে হালকা ঝামেলা হয়েছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে বসে আলোচনা করছি। আশা করি সমাধান হয়ে যাবে।
চবি ছাত্রলীগ সভাপতি রেজাউল হক রুবেল বলেন, ভুল বোঝাবুঝি থেকে এমনটা হয়েছে। আমরা সমাধান করার চেষ্টা করছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এস এম মনিরুল হাসান বলেন, ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের নেতাদের অফিসে আসতে বলা হয়েছে। তারা আসলে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে, পরিস্থিতি শান্ত রাখতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।