
চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের পটিয়ায় প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে (পিটিআই) যৌন হয়রানির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের আজীবন বহিষ্কার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র।
বুধবার সংগঠনটির চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি আসমা আক্তার ও সাধারণ সম্পাদক ডা. রত্না বৈষ্ণব তনু এক বিবৃতিতে পটিয়া পিটিআইয়ে প্রশিক্ষক কর্তৃক প্রশিক্ষণার্থীদের যৌন হয়রানির ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তারা অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্ত প্রশিক্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসাবে কর্মক্ষেত্র থেকে আজীবন বহিষ্কার দাবি করেন।
এর আগে গত শুক্রবার রাতে পিটিআইয়ের চার প্রশিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলে ও তার প্রতিবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে নিজের বাসায় ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান প্রশিক্ষক (আইটি) দেবব্রত বড়ুয়া দেবু। এ ঘটনায় প্রশিক্ষণার্থীদের টানা দুইদিনের আন্দোলনের মুখে গত রোববার অভিযুক্ত চার প্রশিক্ষককে প্রত্যাহার করা হয়।
অভিযোগ উঠেছে, কমপক্ষে ৫০ জন নারী প্রশিক্ষণার্থীকে দুই বছর ধরে যৌন হয়রানি করে আসছেন চারজন প্রশিক্ষক। নাম্বার বাড়িয়ে দেয়া, বিয়ের প্রলোভন, চাকুরি রক্ষা কথা বলে শ্লীলতাহানি ও যৌন হয়রানি করা হচ্ছে।
অন্য সব ঘটনার মত এই ঘটনাও ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা হিসাবে যৌন হয়রানির তদন্ত না করে অভিযুক্ত চারজন প্রশিক্ষককে কর্মস্থল থেকে তরিঘরি করে অব্যহতি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের নেতৃবৃন্দ প্রশাসনের এই ধরণের ভূমিকারও তীব্র নিন্দা জানান এবং যারা অপরাধীদের রক্ষা করতে চায় তাদেরও শাস্তি দাবি করেন। পাশাপাশি নির্যাতনের শিকার সকল নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন নির্যাতন বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে পিটিআই কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করতে আহ্বান জানান।