সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

দেশে করোনা সংক্রমণ কমেছে

| প্রকাশিতঃ ৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৮:১৬ অপরাহ্ন


ঢাকা : দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার কমেছে এবং সুস্থতা বেড়েছে।

গত ২৪ ঘন্টায় ১৩ হাজার ৭৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১ হাজার ৯২৯ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গতকালের চেয়ে আজ ২২৯ জন কম শনাক্ত হয়েছেন। গতকাল ১৪ হাজার ৪২২ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছিলেন ২ হাজার ১৫৮ জন। গত ২৪ ঘন্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ। আগের দিন এ হার ছিল ১৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে আজ শনাক্তের হার দশমিক ২ শতাংশ কম।

দেশে এ পর্যন্ত মোট ১৬ লাখ ৫ হাজার ১১১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩ লাখ ২১ হাজার ৬১৫ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মোট পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২০ দশমিক ০৪ শতাংশ। গতকাল এই হার ছিল ২০ দশমিক ০৮ শতাংশ।

আজ স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় হাসপাতাল এবং বাসায় মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ২১১ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯১ জন।

আজ শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৬৭ দশমিক ২২ শতাংশ। আগের দিন এই হার ছিল ৬৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে আজ সুস্থতার হার দশমিক ২৯ শতাংশ বেশি।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২৯ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। গতকালের চেয়ে আজ ৪ জন কম মৃত্যুবরণ করেছেন। গতকাল মৃত্যুবরণ করেছেন ৩৩ জন। এখন পর্যন্ত দেশে এ ভাইরাসে মৃত্যুবরণ করেছেন ৪ হাজার ৪১২ জন। করোনা শনাক্তের বিবেচনায় আজ মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩৭ শতাংশ। গত ৩০ আগস্ট থেকে মৃত্যুর একই হার বিদ্যমান রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ‘করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘন্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৩ হাজার ৩৬৯ জনের। আগের দিন সংগ্রহ করা হয়েছিল ১৪ হাজার ৬১৭ জনের। গতকালের চেয়ে আজ ১ হাজার ২৪৮টি নমুনা কম সংগ্রহ হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় দেশের ৯৩টি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে
১৩ হাজার ৭৩ জনের। আগের দিন নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল ১৪ হাজার ৪২২ জনের। গত ২৪ ঘন্টায় আগের দিনের চেয়ে ১ হাজার ৫৩টি কম নমুনা পরীক্ষা হয়েছে।’

২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণকারী ২৯ জনের মধ্যে পুরুষ ২২ জন, আর নারী ৭ জন। এখন পর্যন্ত করোনাতে আক্রান্ত হয়ে মোট পুরুষ মৃত্যুবরণ করেছেন ৩ হাজার ৪৫৪ জন; যা ৭৮ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং নারী মারা গেছেন ৯৫৮ জন; যা ২১ দশমিক ৭১ শতাংশ। ২৯ জনের মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ২৭ জন, আর বাড়িতে ২ জন।

২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণকারীদের বয়স বিবেচনায় দেখা যায়, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ১ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ৩ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৩ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৭ জন এবং ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে ১৫ জন। এখন পর্যন্ত মৃত্যুবরণকারীদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ১৯ জন; যা দশমিক ৪৩ শতংশ। ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ৩৭ জন; যা দশমিক ৮৪ শতাংশ। ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ১০৫ জন; যা ২ দশমিক ৩৮ শতাংশ। ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ২৬৭ জন; যা ৬ দশমিক ০৫ শতাংশ। ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ৫৮৫ জন; যা ১৩ দশমিক ২৬ শতাংশ। ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ১ হাজার ২০৮ জন; যা ২৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সের রয়েছেন ২ হাজার ১৯১ জন; যা ৪৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

বিভাগভিত্তিক মৃতের সংখ্যায় ২৯ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে রয়েছেন ১৪ জন, চট্টগ্রাম, খুলনা, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে ২ জন করে, রাজশাহী বিভাগে ৪ জন এবং বরিশাল বিভাগে রয়েছেন ৩ জন। এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণকারীদের বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে ঢাকা বিভাগে মারা গেছেন ২ হাজার ১৩৪ জন; যা ৪৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ। চট্টগ্রাম বিভাগে ৯৫২ জন; যা ২১ দশমিক ৫৮ শতাংশ। রাজশাহী বিভাগে ২৯৫ জন; যা ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ। খুলনা বিভাগে ৩৬৫ জন; যা ৮ দশমিক ২৭ শতাংশ। বরিশাল বিভাগে ১৭২ জন; যা ৩ দশমিক ৯০ শতাংশ। সিলেট বিভাগে ১৯৭ জন; যা ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ। রংপুর বিভাগে ২০২ জন; যা ৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৯৫ জন; যা ২ দশমিক ১৫ শতাংশ।

গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হওয়া ২ হাজার ২১১ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে রয়েছেন ১ হাজার ১০৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৭২ জন, রংপুর বিভাগে ৮ জন, খুলনা বিভাগে ১৯১ জন, বরিশাল বিভাগে ৭০ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৩৮ জন, সিলেট বিভাগে ১৭৪ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৮০ জন রয়েছেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ৪০১ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৯ হাজার ৬৭৬ জন। ২৪ ঘন্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৫৯৪ জন, এখন পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৮৯০ জন। এখন পর্যন্ত আইসোলেশন করা হয়েছে ৭৩ হাজার ৫৬৬ জনকে। প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টিন মিলে ২৪ ঘন্টায় কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে ১ হাজার ৬৭৩ জনকে। কোয়ারেন্টিন থেকে গত ২৪ ঘন্টায় ছাড় পেয়েছেন ১ হাজার ৩৮৪ জন, এখন পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ৪ লাখ ৫০ হাজার ৩৬৯ জন। এখন পর্যন্ত কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে ৫ লাখ ২ হাজার ৮৪১ জনকে। বর্তমানে কোয়ারেন্টিনে আছেন ৫২ হাজার ৪৭২ জন।