
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : টিকার প্রতি আস্থা আছে এমন তালিকায় বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। তালিকায় কয়েক পয়েন্টের ব্যবধানে সবার ওপরে রয়েছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বব্যাপী টিকার প্রতি মানুষের আস্থা নিয়ে করা একটি গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষকেরা বলছেন, টিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, কতটা নিরাপদ ও কতটা কার্যকর—এ তিনটি বিষয় আস্থা তৈরিতে সহায়তা করে। যুক্তরাজ্যের লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন, ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন, যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেলজিয়ামের সেন্টার ফর দ্য ইভালুয়েশন অব ভ্যাকসিনেশন, ভ্যাকসিন অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজ ইনস্টিটিউটের পাঁচজন গবেষকের একটি প্রবন্ধ ১০ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্যভিত্তিক জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সাময়িকী ল্যানসেট-এ ছাপা হয়েছে। অবশ্য করোনার টিকার কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণাটি হয়নি।
ল্যানসেট-এর ওই গবেষণা প্রবন্ধে বলা হয়েছে, টিকার ওপর আস্থা সবচেয়ে বেশি রাখে আর্জেন্টিনা ও বাংলাদেশের মানুষ। বাংলাদেশের প্রায় ৮৬ শতাংশ মানুষের ধারণা, টিকা নিরাপদ। এই হার বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। প্রথম স্থানে আছে ম্যারাডোনা-মেসির দেশ আর্জেন্টিনা। দেশটির প্রায় ৮৯ শতাংশ মানুষ টিকা নিরাপদ বলে মনে করে। ফ্রান্স ও জাপানের মানুষ টিকাকে সবচেয়ে কম নিরাপদ বলে মনে করে। এই দুটি দেশের ৯ শতাংশ মানুষ টিকা নিরাপদ বলে মনে করে।
বিশ্বের ১৪৯টি দেশের ২ লাখ ৮৪ হাজার ৩৮১ জনের মতামত ওই গবেষণার জন্য নেওয়া হয়েছে। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই মতামত নেওয়া হয়। মতামত দেওয়া ব্যক্তিদের বয়স ছিল ১৮ বছর বা তার বেশি। গবেষকেরা দাবি করছেন, টিকা কতটা নিরাপদ বা টিকার ওপর আস্থা বিষয়ে এত বড় গবেষণা এর আগে হয়নি।
গবেষণায় নেতৃত্বদানকারী লন্ডন হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিকাল মেডিসিনের অধ্যাপক হেইডি লারসন বলেন, কোভিড-১৯ এর মতো নতুন উদীয়মান রোগের হুমকির সঙ্গে সঙ্গে আমরা জনগণের দৃষ্টিভঙ্গিও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করি।
তিনি বলেন, টিকা সম্পর্কে মানুষের ধারণা আগের তুলনায় অনেক বেশি উদ্বেগজনক। সামগ্রিকভাবে টিকা সম্পর্কে বিশ্বে অনেক আস্থা রয়েছে। তবে এটিকে সন্তোষজনক বলে গ্রহণ করবেন না। আত্মবিশ্বাস উঠছে এবং নামছে, এটি অত্যন্ত পরিবর্তনশীল।
ল্যানসেট মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণা ২০১৯ সালে দুই লাখ ৮৪ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের তথ্য নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। সেখানে তাদেরকে টিকার গুরুত্ব, নিরাপদ এবং কার্যকর কিনা এসব বিষয়ে তাদের মতামত জানতে চাওয়া হয়।
লারসন বলেন, বিশ্বজুড়ে মাদক প্রস্তুকারীরা এবং গবেষকরা কোভিড-১৯ মহামারির টিকা তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে। তবে সরকারকে একন টিকার প্রতি মানুষের আস্থা এবং প্রতিক্রিয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। এ বিষয়ে অতিরিক্ত সচেতন হতে হবে।
তিনি বলেন, কোভিড-১৯ এর ক্ষেত্রে টিকা বিকাশের গতি সম্পর্কে উদ্বেগ রয়েছে। তবে জনগণ গতির চেয়ে মূল্য, কার্যকারিতা এবং সুরক্ষার বিষয়ে বেশি আগ্রহী।