
নিজস্ব প্রতিবেদক : কক্সবাজার জেলার চকরিয়ায় হারবাং ইউনিয়নে মং চিন ফেন (৪২) নামে একজন রাখাইন যুবককে গলাকেটে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
বৃস্পতিবার (১২ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে স্থানীয় মধুখালী গ্রামের নামার পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ডুলাহাজারা হাসপাতালে ও পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বর্তমানে তিনি চমেক হাসপাতালের ২০ নম্বর ওয়ার্ডে সহকারী অধ্যাপক ডা. চবিং চ চ’র ততত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন আছেন। মং চিন ফেন চকরিয়ায় হারবাং ইউনিয়নে মধুখালী গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম আপ্রু মং।
ডা. চবিং চ চ’র বরাত দিয়ে ভাগিনা কে কে একুশে পত্রিকাকে জানান, দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার মামা মংচিং ফেন এর শ্বাসনালী কেটে গেছে। তিনি কৃত্রিম উপায়ে শ্বাস নিচ্ছেন। কথা বলতে পারছেন না। তবে চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন। হাত-পা নাড়ছেন। চিকিৎসকরা বলেছেন, আগামী এক মাস তিনি কথা বলতে পারবেন না।
জানা গেছে, দশ বছর আগে ঢাকার গাজীপুরে ‘ড্যান্ডি ডাইং’ নামে একটি পোশাক কারখানায় ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে কাজ করতেন। পেশা ছেড়ে দিয়ে তিনি চলে আসেন হারবাং মধূখালী গ্রামের শ্বশুর বাড়িতে। সেখানে ছোট একটি মাছের খামার গড়ে তুলেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে মাছের খামার দেখাশোনা করে বাড়ি ফিরছিলেন মংচিং ফেন। এসময় আকস্মিকভাবে অজ্ঞাত কয়েকজন যুবক তার উপর হামলা চালায়। প্রথমে তাকে লাটি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়।
এসময় তিনি মাটিতে পড়ে গেলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করা হয়। মারা গেছে ভেবে তাকে ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা। স্থানীয় কিছু লোক মং চিং ফেনকে ধানক্ষেতে রক্তাক্ত অবস্থায় কাতরাতে দেখে সেখান থেকে উদ্ধার করে ডুলাহাজারা হাসপাতালে নিয়ে যান।
মং চিং ফেন এর ভাগিনা কে কে দাবি করেন, তার মামা কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। তার একটি কন্যাসন্তান আছে। গ্রামে তার (মং চিং) সাথে কারও শত্রুতাও নেই। সহজ-সরল মানুষটিকে কে বা কারা হত্যার চেষ্টা করল,তিনি বুঝে উঠতে পারছেন না।
কেউম নামে মং চিং ফেন এর এক বন্ধুর দাবি, এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে বিশেষ কোনও মহল এ ঘটনা ঘটাতে পারে।
একুশে/এমআর/এটি