মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

সেই বদিকে পিতা দাবি করে আদালতে যুবক

| প্রকাশিতঃ ১৪ ডিসেম্বর ২০২০ | ১:৩৯ অপরাহ্ন


কক্সবাজার প্রতিনিধি : কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের সাবেক বিতর্কিত এমপি আবদুর রহমান বদিকে পিতা দাবি করে আদালতের দ্বারস্ত হয়েছেন মো. ইসহাক (২৬) নামের এক যুবক।

আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে বদির বিরুদ্ধে সমন জারি করেছে।

রোববার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে টেকনাফ সহকারী জজ জিয়াউল হকের আদালতে আবেদনটি করেন ইসহাক (মামলা নং ১৪৯)।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাদীপক্ষের আইনজীবী নাজিম উদ্দীন জানান, অভিযোগ আমলে নিয়ে বিজ্ঞ আদালত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছে। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে এ ব্যাপারে আদালত হাজির হতে বলা হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯২ সালে ৫ এপ্রিল তার মা (ইসহাকের) সুফিয়া খাতুনকে কালেমা পড়ে বিয়ে করেন আবদুর রহমান বদি। বিয়ে পড়ান আবদুর রহমান বদিদের পারিবারিক আবাসিক হোটেল নিরিবিলিতে তৎসময়ে কর্মরত মৌলভী আবদুস সালাম। বিয়ের স্বাক্ষী ছিলেন হোটেলের দারোয়ান এখলাছ।

বদির ছেলে দাবিদার ইসহাক ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে আদালতের কাছে ডিএনএ টেস্ট করার আবেদনও করেছেন।

মো. ইসহাক একুশে পত্রিকাকে জানান, ছোটবেলা থেকে গর্ভধারিণী মায়ের কাছে শুনে আসছেন তার পিতা আবদুর রহমান বদি। কিন্তুু কখনো তিনি পিতার স্নেহ ভালোবাসার স্বাদ পাননি।

পিতার স্বীকৃতির দাবিতে মায়ের হাত ধরে অসংখ্যবার পিতার কাছে যান। কিন্তুু আবদুর রহমান বদি তার রাজনৈতিক শত্রু ও সামাজিক অবস্থানসহ নানা কারণ দেখিয়ে তাকে এবং তার মাকে বিষয়টি গোপন রাখতে বলেন।

দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে তারা মা-ছেলে আবদুস ছালামের কাছে আশ্রিত আছেন। অভাব অনটনে চলছে জীবন সংসার। তবু নিষ্ঠুর পিতা আবদুর রহমান বদির মন গলেছে না।

ইসহাকের দাবি, বিষয়টি নিয়ে মা-ছেলে আবদুর রহমান বদির ছোটবোন শামসুন নাহারের সাথে যোগাযোগ করেন। তারা ঘরোয়াভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। কিন্তু আবদুর রহমান বদি কৌশলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।

ইসহাক জানান, সম্প্রতিকসময়ে দুদকের মামলায় হাজিরা দিয়ে টেকনাফে ফুলের সংবর্ধনা গ্রহণকালে তার পিতা বদি ছেলে শাওন আর মেয়ে ছাড়া আর কোনও ছেলে মেয়ে নাই দাবি করে বক্তব্য রাখেন। এর পরে সিদ্ধান্ত নেন তিনি আর চুপ থাকবেন না। তাই তিনি আদালতের আশ্রয় নেন। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবরেও অভিযোগ করেছেন বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে আবদু রহমানের বদির ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করার পরও তিনি রিসিভ করেননি। এরপর ক্ষুদেবার্তা পাঠালে তাতে কোনও সাড়া দেননি।