সোমবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২১, ১২ মাঘ ১৪২৭

দারাজের বিরুদ্ধে বিপুল ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ, মিলছে পুলিশি সরঞ্জাম

প্রকাশিতঃ রবিবার, জানুয়ারি ১০, ২০২১, ৯:৫১ পূর্বাহ্ণ


শরীফুল রুকন : দেশে ই-কমার্স বাড়ছে খুবই দ্রুত। সব ধরণের পণ্যই এখন অনলাইনে কেনা-বেচা হচ্ছে। ই-কমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের হিসেব অনুযায়ী, ই-কমার্স খাতের ৩৯ শতাংশ ক্রেতা চট্টগ্রামের; এই খাতে বার্ষিক লেন-দেন এখন ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। এই মূহুর্তে দেশের ই-কমার্স খাতের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান হচ্ছে শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগে গড়ে উঠা দারাজ। চীনের ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবা এটা কিনে নিয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক নীতি নিয়ে অভিযোগ-প্রশ্নের শেষ নেই। বিপুল পরিমাণ ভ্যাট-ট্যাক্স ফাঁকির অভিযোগ আছে দারাজের বিরুদ্ধে। এছাড়া প্রচলিত আইনের তোয়াক্কা না করে পুলিশি সরঞ্জাম থেকে শুরু করে নির্যাতন যন্ত্র, যৌন উত্তেজক ওষুধসহ নিষিদ্ধ নানা পণ্য বিক্রির সুযোগ করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ৭০ লাখ গ্রাহক নিয়ে দেশের ই-কমার্সের এক নম্বর জায়গা দখলে নেয়া দারাজের বিরুদ্ধে।

দারাজের বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ, তারা পণ্যের মূল সরবরাহকারী বা বিক্রেতার কাছ থেকে ভ্যাট কেটে রাখলেও ভ্যাট পরিশোধের প্রমাণপত্র দেয় না। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী, দারাজ যে লাভে পণ্য বিক্রি করবে সেই লাভের ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয় ক্রেতাকে। ক্রেতার কাছ থেকে প্রাপ্ত মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট আদায় করেন বিক্রেতা। এক্ষেত্রে পণ্যের মূল বিক্রেতার কাছ থেকে ভ্যাট আদায় করে দারাজ। নিয়ম অনুযায়ী, এসব ভ্যাট সরকারি কোষাগারে জমা দেবে দারাজ। কিন্তু দারাজের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করে আসা ব্যবসায়ীদেরকে ভ্যাট পরিশোধ করা সংক্রান্ত চালান বা ভ্যাট পরিশোধ সংক্রান্ত কোনো সনদ দেয়া হয় না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

দারাজের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করে আসা চট্টগ্রামের চকবাজারের একজন ব্যবসায়ী উদাহরণ দিয়ে একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘একজন ক্রেতা দারাজের মাধ্যমে ২৯ হাজার ৯০৫ টাকা দিয়ে আমার একটি পণ্য কিনেছেন। এর বাইরে পণ্যটির ডেলিভারি চার্জ বাবদ ক্রেতা ৯০ টাকা পরিশোধ করেছেন। এখন এই পণ্যটির উপর দারাজ আমার কাছ থেকে কমিশন নিয়েছে ২ হাজার ৭৮৫ টাকা। এই কমিশনের উপর ৫ শতাংশ ভ্যাট হিসাব করে এসেছে ১৩৯ টাকা। কমিশন ও ভ্যাট মিলে ২ হাজার ৯২৫ টাকা কেটে রেখে দারাজ আমাকে উক্ত পণ্যটি বিক্রি বাবদ দিয়েছে ২৬ হাজার ৬৯ টাকা। এখন আমার কথা হচ্ছে, ভ্যাট যেহেতু আমার কাছ থেকে কাটা হয়েছে সে হিসেবে আমাকে ভ্যাটের চালান কপি বা ভ্যাট আদায়ের সনদ দিতে হবে, এটাই তো নিয়ম। কিন্তু ভ্যাটের চালান বা ভ্যাট পরিশোধ সংক্রান্ত কোনো সনদ আমাকে দিচ্ছে না দারাজ। এ ধরনের কথা তারা শুনতেই চায় না’ ভ্যাট পরিশোধের প্রমাণপত্র না দেয়ায় এক্ষেত্রে ভ্যাট ফাঁকি দেয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

দারাজে পণ্য সরবরাহকারী আরেকজন ব্যবসায়ী একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘দারাজ আমাকে ১৫ দিনের হিসাব দিয়ে বলেছে, এই সময়ে দারাজের মাধ্যমে আমার বিভিন্ন পণ্য ক্রেতারা ৬ লাখ ৬০ হাজার ৮৭৮ টাকা দিয়ে কিনেছেন। এসব পণ্য ডেলিভারি নিতে ক্রেতারা আরও ৯০৮ টাকা খরচ করেছেন। পণ্যগুলো বিক্রি বাবদ দারাজ কমিশন নিয়েছে ২২ হাজার ৮৭৩ টাকা। এই কমিশনের ৫ শতাংশ হিসেবে দারাজ ভ্যাট কেটে রেখেছে ১ হাজার ১৪৩ টাকা। কমিশন ও ভ্যাট কেটে দারাজ আমাকে দিয়েছে ৬ লাখ ৩৭ হাজার ৭৬৯ টাকা। কিন্তু ভ্যাট কেটে রাখা সংক্রান্ত কোন সনদ অথবা ভ্যাটের চালান দেয়নি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যারা ভ্যাট দিই, তাদেরকে ভ্যাটের চালান কপি বা সার্টিফিকেট দিতে দারাজ আইন অনুযায়ী বাধ্য। অন্যান্য প্রতিষ্ঠান আমাদের কাছ থেকে ভ্যাট কেটে রাখলে ভ্যাটের চালান কপি দেয়। আর কেউ মোট এত টাকা বিল, এর মধ্যে এত টাকা ভ্যাট কেটে রেখেছে বলে সার্টিফিকেট দেয়। এই সার্টিফিকেট অথবা চালান কপি আমরা ভ্যাট অফিসে দাখিল করি। কিন্তু দারাজ এ ধরনের কিছুই দেয় না। এটা দেয়া যে নিয়ম, সেটা তারা মানতেই চায় না।’

দারাজের মাধ্যমে পণ্য বিক্রিতে যুক্ত একজন ব্যবসায়ী বলেন, চট্টগ্রামে বিশাল আকারের ১০টির বেশি অফিস বা পণ্যাগার আছে দারাজের। আগ্রাবাদে তিনটি, মুরাদপুরে দুটি, প্রবর্তকে একটি, জিইসি মোড়ে একটি অফিস বা পণ্যাগার আছে দারাজের। এছাড়া অলংকার মোড়ে দুটি অফিস-পণ্যাগার আছে দারাজের, এর মধ্যে একটি একে খান থেকে ভাড়া নিয়েছে তারা। অক্সিজেনের শীতল ঝর্ণা আবাসিক এলাকায়ও অফিস-পণ্যাগার করেছে দারাজ। নিয়ম অনুযায়ী, অফিস বা পণ্যাগারের ভাড়ার উপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আদায় করা হয়। দারাজের অফিস-পণ্যাগারগুলোর যে বিশালতা তাতে শুধু অফিসের উপরই মাসে কয়েক লাখ টাকা ভ্যাট আসবে। এসব ভ্যাট ঠিকমতো আদায় হয় কিনা, সন্দেহ আছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, চট্টগ্রামের কমিশনার মোহাম্মদ আকবর হোসেন একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘ভ্যাট দিলেই চালান দিতে হবে। দারাজ অনলাইনে ভ্যাট সংগ্রহ করছে। অনলাইনে ভ্যাট নেয়ার ক্ষেত্রে কিছু ফাঁকি হচ্ছে। এনবিআরের বিভিন্ন সংস্থা এ বিষয়ে কাজ করছে। দারাজের অফিসে আমি লোক পাঠিয়ে এ বিষয়ে খবর নেব। যদি ভ্যাট ফাঁকি দেয়, অবশ্যই ধরা হবে।’

ভ্যাটের চালান না দেয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে দারাজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা ইমেইলে প্রশ্ন পাঠানোর পরামর্শ দেয়। গত ৬ জানুয়ারি দারাজকে ইমেইলে বিভিন্ন অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ১২টি প্রশ্ন পাঠানো হয়; কিন্তু ৯ জানুয়ারি এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত একটি প্রশ্নেরও জবাব দেয়নি দারাজ। নগরের মুরাদপুরে দারাজের অফিসে গেলেও এ নিয়ে কেউ কথা বলতে রাজী হননি।

টাকা দিলেই ‘পুলিশি সরঞ্জাম’ তুলে দিচ্ছে দারাজ
পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে প্রতারণা করতে ‘পিস্তল, হ্যান্ডকাফসহ’ কিছু সরঞ্জামের প্রয়োজন হতে পারে প্রতারকদের। এক্ষেত্রে এসব সরঞ্জাম সংগ্রহের কাজটি একেবারে সহজ করে দিয়েছে দারাজ। অনলাইনে অর্ডার করলেই দেশের যে কোন প্রান্তে ‘পুলিশি সরঞ্জাম’ পৌঁছে যাচ্ছে।

দারাজের ওয়েবসাইট বা অ্যাপসে ‘হ্যান্ডকাফ’ লিখে সার্চ দিলে একেক দামে পণ্যটি দেখা যাচ্ছিল গত প্রায় দুই বছর ধরে। ‘লালালাইভ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ‘হ্যান্ডকাফ’ বিক্রি করছে ৫৪০ টাকায়। টেকশার্ক নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ‘হ্যান্ডকাপ’ বিক্রি করা হচ্ছে ৪৩৪ টাকায়। বিএসঅটো নামের প্রতিষ্ঠান থেকে ৪২৩ টাকায় ‘হ্যান্ডকাফ’ বিক্রির প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। ট্রায়াঙ্গেলমল নামের প্রতিষ্ঠান থেকে ৪৪১ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে ‘হ্যান্ডকাফ’। সবগুলো প্রতিষ্ঠানই চীনের বলে উল্লেখ করেছে দারাজ। এসব হ্যান্ডকাফ দেখতে পুলিশের ব্যবহার করা হ্যান্ডকাফের মতোই। পণ্যটি হোম ডেলিভারি দেয়ার ক্ষেত্রে ৬৫ টাকা ও ১৯ থেকে ২৬ দিন পর্যন্ত সময় লাগবে বলে দারাজ উল্লেখ করে। কেউ কেউ হ্যান্ডকাফ হাতে পেয়ে ছবিসহ পোস্ট করে সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন। হ্যান্ডকাফ বিক্রির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দারাজের বক্তব্য চেয়ে গত ৬ জানুয়ারি একুশে পত্রিকার পক্ষ থেকে ইমেইল করা হয়; এরপর ৮ জানুয়ারি দারাজের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যায় হ্যান্ডকাফ বিক্রির সব প্রস্তাব উধাও! যদিও দারাজ এ বিষয়ে বক্তব্য পাঠায়নি।

পুলিশ সদস্যরা বলেছেন, এক সময় ঢাকার পলওয়েল মার্কেট ও পুলিশের বিভিন্ন স্টোরে হ্যান্ডকাফ পাওয়া যেত। কিন্তু হ্যান্ডকাফ ব্যবহার করে প্রতারণা শুরু হওয়ায় কয়েক বছর আগে পুলিশ সদরদপ্তর হ্যান্ডকাফসহ পুলিশের সরঞ্জাম বাইরে বিক্রি করা নিষিদ্ধ করে। এখন হ্যান্ডকাফসহ সব সরঞ্জাম শুধুমাত্র পুলিশের পক্ষ থেকে সরবরাহ করা হয় এবং পিস্তলের মতো হ্যান্ডকাফেরও হিসাব রাখা হয়।

একজন পুলিশ পরিদর্শক একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘পুলিশের ব্যবহার করা হ্যান্ডকাফে পুলিশ লেখা থাকে। কিন্তু দারাজে যে হ্যান্ডকাফগুলো পাওয়া যাচ্ছে সেখানে পুলিশ লেখা নেই, এগুলো আকারে আমাদেরগুলো থেকে সামান্য ছোট হতে পারে। তারপরও বলবো, এসব বিক্রির দরকারটা কী? এসব তো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সরঞ্জাম। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মীরা শুধু হ্যান্ডকাফকে সম্বল করে আসামি ধরতে যায়, তাদের হাতে অস্ত্র থাকে না। এখন এই হ্যান্ডকাফ সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দেয়ার সুযোগ করে দিল দারাজ। এ বিষয়ে দারাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি কারা এসব হ্যান্ডকাফ কিনেছে, সেই তথ্য দারাজের কাছ থেকে নিয়ে খতিয়ে দেখা উচিত।’

এদিকে অবিকল নাইন এমএম মেটাল পিস্তলের মতো দেখতে বিভিন্ন ‘লাইটার’ পাওয়া যাচ্ছে দারাজে। এসব ‘পিস্তল’ ব্যবহার করে প্রতারণার পাশাপাশি ডাকাতি-ছিনতাইয়ের মতো ঘটনাও ঘটছে। দারাজ থেকে সংগ্রহ করা ‘পিস্তল’ দিয়ে গত ১৫ নভেম্বর দিনদুপুরে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথলী বাজারে অবস্থিত সোনালী ব্যাংকের শাখা থেকে ৮ লাখ ৮২ হাজার টাকা লুট হয়। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তারের পর গত ১৫ ডিসেম্বর পুলিশ সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানায়।

অন্যদিকে এখনও দারাজে ‘নাইন এমএম পিস্তল লাইটার মেটাল’ লিখে সার্চ দিলে ৬৩টি পণ্য দেখা গেছে। সবগুলো পণ্যই বাংলাদেশের বিক্রেতাদের। এসব পণ্যের দাম ৫২৯ টাকা থেকে শুরু করে ২ হাজার ২৯০ টাকা পর্যন্ত। সর্বোচ্চ দামের ‘লাইটার পিস্তলটি’ হুবহু পুলিশের ব্যবহার করা পিস্তলের মতো। এটি বিক্রি করছে ‘পিউর শপ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। তারা দারাজের মাধ্যমে ৬৫ টাকার বিনিময়ে ৩ থেকে ৬ দিনের মধ্যে এটি হোম ডেলিভারি দিতে পারবে বলে জানিয়েছে।

সর্বোচ্চ দামের পিস্তলটির বিবরণের নিচে একজন মন্তব্য করেছেন, ‘দামটা ভারতের তুলনায় বেশি।’ দারাজে বিক্রেতার পক্ষ থেকে উত্তর দেয়া হয়, ‘ভারতে অনেক বেশি সহজলভ্য এবং ভ্যাটও কম। কিন্তু বাংলাদেশে দ্বিগুণ ভ্যাট।’ আরেকজন প্রশ্ন করেন, ‘পিস্তলটার কী কী জিনিস প্ল্যাস্টিকের।’ উত্তর আসে, ‘হাতলে খুব সামান্য প্লাস্টিক, আর সব মেটাল।’ একজন প্রশ্ন করেন, ‘অরিজিনাল রিভলবারের সাইজ আর এটার সাইজ কি একই?’, উত্তর দেয়া হয়, ‘একই, ৭ ইঞ্চি লম্বা।’ পিস্তলটার ওজন ৪৩০ গ্রাম বলেও উল্লেখ করেন বিক্রেতা। একজন ক্রেতা মোবাইল নাম্বার চাইলে বিক্রেতা বলেন, ‘দু:খিত, দিতে পারবো না। যদি ভালো লাগে দ্রুত অর্ডার করুন।’

এদিকে সম্প্রতি ঢাকা মহানগর পুলিশের সাত হাজার ও চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের তিন হাজার পুলিশ সদস্যকে ‘ট্যাকটিক্যাল বেল্ট’ দেয়া হয়। সেখানে ‘থাই হোলেস্টার উইথ আর্মস, এক্সপান্ডেবল ব্যাটন, হ্যান্ড কাফ, ওয়ারলেস, টর্চ লাইট, ওয়াটার বটল, মাইক্রোফোন’ রাখার ব্যবস্থা আছে। এই ‘ট্যাকটিক্যাল বেল্টটি’ দারাজে অর্ডার করে এখন যে কেউ কিনতে পারছেন। ৩ হাজার ৫৩০ টাকা থেকে শুরু করে ২ হাজার ৪১২ টাকা পর্যন্ত মূল্যমানের ‘ট্যাকটিক্যাল বেল্ট’ বিক্রিতে যুক্ত অন্তত ১০টি প্রতিষ্ঠান দেখা গেছে দারাজে। কাকো নামের চীনের একটি প্রতিষ্ঠান এক কেজি ওজনের কালো ‘ট্যাকটিক্যাল বেল্ট’ দিচ্ছে ২ হাজার ৪৩১ টাকায়। এটাও হোম ডেলিভারির ক্ষেত্রে ৬৫ টাকা ও ১৯ থেকে ২৬ দিন সময় লাগবে জানানো হয়।

‘এক্সপান্ডেবল ব্যাটন’ নামের একটি সরঞ্জাম পুলিশ ব্যবহার করছে; এটি ‘ট্যাকটিক্যাল বেল্টে’ রাখা হচ্ছে। সুইচ টিপলে এটি লাঠির আকৃতি ধারণ করে। আবার সুইচ টিপে এটি ছোট করে ফেলা যায়। এই এক্সপান্ডেবল ব্যাটন এখন দারাজ থেকে যে কেউ কিনতে পারছেন। ১ হাজার ২৫০ টাকা থেকে শুরু করে ২৯৯ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন দামের এক্সপান্ডেবল ব্যাটন পাওয়া যাচ্ছে দারাজে।

এসব তথ্য-প্রমাণ পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানাকে পাঠানো হয়; পরে একুশে পত্রিকাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এসব তথ্য-প্রমাণ আমি বাংলাদেশ পুলিশের সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে পাঠিয়েছি, যাতে তারা পদক্ষেপ নিতে পারেন।’

এ বিষয়ে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, চট্টগ্রামের কমিশনার মোহাম্মদ আকবর হোসেন একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘হ্যান্ডকাফ চায়না থেকে আসলে প্রথমে ঢাকা বিমানবন্দরে আসবে। সেখানে স্ক্যানিং করার সময় ধরা পড়ে যাওয়ার কথা। তবে ১০ হাজার, ২০ হাজার পণ্য যদি এক সাথে আসে, প্রত্যেকটি কার্টন খোলা তো সম্ভব না, হয়তো চোখ ফাঁকি দিয়ে ঢুকতে পারে।’

যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রি
ডিজিটাল কমার্সের নীতিমালায় বলা আছে নিষিদ্ধ কোনও কিছু বিক্রি করা যাবে না। এরপরও দারাজে মিলছে যৌন উত্তেজক বিভিন্ন নিষিদ্ধ ওষুধ। এসব ওষুধ ক্রেতাদের অধিকাংশই উঠতি বয়সি। তারা পণ্যটি ক্রয় করার আগে জেনে নিচ্ছেন এর কার্যকারিতা ও ব্যবহার বিধি। এদের অনেকেই জিজ্ঞেস করছেন এটা ব্যবহার করলে কোনো ক্ষতি হবে কিনা বা এটা কিভাবে ব্যবহার করা যাবে ইত্যাদি। আবার এই ট্যাবলেট কোক বা অন্য কোন পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে অন্য কাউকে খাওয়ানো যাবে কিনা। যাকে খাওয়ানো হবে সে এটা বুঝতে পারবে কিনা। উত্তরে বিক্রেতার পক্ষ থেকে জানানো হয়, খাওয়ানো যাবে এবং তাতে কাজও হবে।

দারাজের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যায়, গিনেরা ভেজ ক্যাপসুল নামের একটি ওষুধ বিক্রি করছে পূর্ণাভা লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান। সেখানে একজন ক্রেতা প্রশ্ন করেছেন, পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া আছে কিনা, আর শতভাগ কাজ করবে কিনা। বিক্রেতার পক্ষ থেকে উত্তর দেয়া হয়, ‘পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। এটা ক্লান্তি দূর করতে ও সেক্সুয়াল পারফরমেন্সের জন্য সেবন করতে বলা হয়।’ ১৫০ টাকা দামের এই ওষুধটি কিনতে প্রেসক্রিপশনেরও প্রয়োজন নেই।

এছাড়া এনার্জি প্লাস ক্যাপসুল নামের একটি পণ্য পাওয়া যাচ্ছে ৩৭০ টাকায়। এটির সেবন করলে হারানো যৌবন ও উদ্যম ফিরে আসে এবং শারীরিক দুর্বলতা দূর হবে বলা হয়েছে। দারাজে রূপসা, আইচুন বিউটিসহ আরও কিছু প্রতিষ্ঠান মেয়েদের বিশেষ অঙ্গ বড়-ছোট করার ক্রিম বিক্রির প্রচুর বিজ্ঞাপন দিয়েছে। এর বাইরে জিরা পাউডার, কুশতা কলসী, চ্যবন প্রাশ, শরবত জিনসিন, শিমুল মূল, ত্রিফলা পাউডারসহ আরও কিছু পণ্য দেখা গেছে, যেগুলো শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি করে বলে দারাজে বিক্রেতারা উল্লেখ করেছেন। এই ধরনের পণ্য অনলাইনে বিক্রির ফলে সহজলভ্য হচ্ছে। উঠতি বয়সিরা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়তে পারেন বলেও আশংকা করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলার সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘নিষিদ্ধ যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রি করার মাধ্যমে দারাজ ও মূল বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান অপরাধ করছে। এ বিষয়ে ওষুধ প্রশাসন ব্যবস্থা কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারবে। এছাড়া ভোক্তারা আমাদের কাছে অভিযোগ করলে, আমরাও দেখবো বিষয়টি।’

এদিকে যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে দারাজ কর্তৃপক্ষকে গত ৬ জানুয়ারি ই-মেইলে প্রশ্ন পাঠিয়েও ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি।

নির্যাতন যন্ত্র বিক্রিতে দারাজ
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, মানুষের ওপর নির্যাতন চালানোর সরঞ্জামের একটি বড় ধরনের বাজার রয়েছে। এই ‘লজ্জাজনক ব্যবসা’ বন্ধে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে সংগঠনটি। নির্যাতন যন্ত্র আমদানি-রপ্তানির ওপর ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে আমদানি নিষিদ্ধ করে এনবিআর যে তালিকা প্রকাশ করেছে, সেখানে নির্যাতন যন্ত্র আমদানির বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলা নেই। এই সুযোগে বিভিন্ন নির্যাতন যন্ত্র সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দিচ্ছে দারাজ।

নির্যাতন যন্ত্রের মধ্যে অন্যতম ইলেকট্রিক শক দেয়ার যন্ত্র দারাজে অর্ডার করলেই পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশ ও চীনের অসংখ্য প্রতিষ্ঠান দারাজের মাধ্যমে ইলেকট্রিক শক দেয়ার যন্ত্র বিক্রি করছে। যদিও চীনে ইলেকট্রিক শক দেয়ার যন্ত্র নিয়ে চলাফেরা নিষিদ্ধ। দারাজের সার্চ বক্সে ‘ইলেকট্রিক শক’ লিখে সার্চ দিলে ১৩ হাজার ৩৭৮টি পণ্য দেখা যাচ্ছে। সর্বনিম্ন ৬৯০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে ইলেকট্রিক শক দেয়ার যন্ত্র। এসব যন্ত্র অপরাধীদের ব্যবহার করার সুযোগ আছে।

এছাড়া দারাজে প্রচুর টিপ ছোরা ও ফোল্ডিং ছোরা পাওয়া যাচ্ছে। এ ধরনের ছোরা নিয়ে প্রায় সময় ছিনতাইকারীরা গ্রেপ্তার হচ্ছেন। ‘হিট লিস্ট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ৪৪০ টাকায় একটি টিপ ছোরা বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছে দারাজে। ৬৫ টাকার বিনিময়ে ২ থেকে ৫ দিনের মধ্যে এটা হোম ডেলিভারি দেয়া যাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সাধারণত টিপ ছোরা ও ফোল্ডিং ছোরা গৃহস্থালি কাজে ব্যবহার হয় না। এরপরও এ ধরনের ছোরা বিক্রির বিজ্ঞাপন রেখে ছিনতাইকারীদের সুবিধা করে দিচ্ছে দারাজ- এমন অভিযোগও উঠছে।

অনলাইন বিজ্ঞাপনে ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছে দারাজসহ বিদেশি কোম্পানিগুলো
দারাজসহ বিদেশি কোম্পানিগুলোর ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের লেনদেন অবৈধ উপায়ে হয় বলে অভিযোগ আছে। ফেইসবুক, গুগল বা ডিজিটাল প্লাটফর্মগুলোতে এই কোম্পানিগুলো যে কোটি কোটি টাকা বিজ্ঞাপন বাবদ ব্যয় করে সেটি দেশের বাইরে হতে পরিশোধ হয়, সেসব দেশে অনলাইন বিজ্ঞাপনে ভ্যাট-ট্যাক্স নেই। এতে বাংলাদেশ সরকার ভ্যাট-ট্যাক্স কিছুই পায় না। এতে একদিকে সরকার যেমন কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে তেমনি দেশীয় উদ্যোক্তারা আইন মেনে ভ্যাট-ট্যাক্স দিয়ে বিজ্ঞাপন দিতে গিয়ে অসম-অনৈতিক প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়ছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দারাজসহ বিদেশি কোম্পানিগুলো ৭০ টাকায় যে বিজ্ঞাপন দিচ্ছে আর দেশীয় উদ্যোক্তারা সেটি ১৪০ টাকা, প্রায় দ্বিগুণ খরচ করে একই বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপনের বাজার ২ হাজার কোটি টাকা না ৫০০০ কোটি টাকা সেটিও জানার উপায় নেই। কারণ এই কোম্পানিগুলো কত টাকা খরচ করে সেটি তো জানা যাচ্ছে না। এর বেশির ভাগই হিসাবের মধ্যে রাখা যায় না।

ই-কমার্স মার্কেটপ্লেস আজকের ডিল এবং বিডিজবস ডটকমের প্রধান নির্বাহী ও প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম মাসরুর একুশে পত্রিকাকে বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসার জন্য দেয়া বিজ্ঞাপনের টাকা সরকারের ভ্যাট-ট্যাক্স না দিয়ে বিদেশের কোনো জায়গা হতে পরিশোধ করা আইনগতভাবে অবৈধ। এটি সরাসরি মানি লন্ডারিং। দারাজসহ বিদেশি কোম্পানির বিনিয়োগের টাকা বাইরে হতে খরচের কোনো বৈধতা নেই। টাকাটা দেশে আনতেই হবে। দেশে এনে এরপর এখান হতে খরচ করতে হবে।

চীনে বসেই বাংলাদেশের বাজার দখল
বিশ্ববাজারে দেশিয় পণ্য পৌঁছে দিতে ‘ক্রস-বর্ডার ই-কমার্স’ সুবিধা পেতে বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা পদে পদে ভোগান্তিতে পড়ছেন বলে অভিযোগ আছে। এমন অবস্থায় দারাজের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে চীনে বসেই সেখানকার ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের ই-কমার্স খাতে আধিপত্য বিস্তার করছেন।

সংশ্লিষ্টরা তথ্য দিয়েছেন, ‘ক্রস-বর্ডার ই-কমার্সের’ মাধ্যমে বাংলাদেশের বাজার ধরতে চায়নার ব্যবসায়ীদের নানা সুবিধা দেয় তাদের সরকার। বাংলাদেশের বাজার দখল করতে চীনের আলীবাবার প্রতিষ্ঠান দারাজ ও আলী এক্সপ্রেস চায়নার ব্যবসায়ীদের সাথে মিলেমিশে কাজ করছে। এসব যৌথ প্রচেষ্টার ফল, তারা অনেক পণ্য কম দামে বাংলাদেশে বিক্রি করতে পারছে। এক্ষেত্রে চায়নার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে যথাযথভাবে ভ্যাট আদায় হয় না বলেও অভিযোগ আছে। কারণ চীনের ব্যবসায়ীদেরকে বাংলাদেশে টিন নাম্বার, ভ্যাট নাম্বার নিতে হয় না। তারা শুধু কাস্টমস ডিউটি দিয়ে কাজ শেষ করে। অন্যদিকে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা ব্যবসায়ীরা আমদানি করলে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স নিতে হয় ভ্যাট-ট্যাক্স দিয়ে, আবার পরে পণ্যটি বিক্রির উপর ভ্যাট-ট্যাক্স দিতে হয়।

ই-কমার্স মার্কেটপ্লেস আজকের ডিল এবং বিডিজবস ডটকমের প্রধান নির্বাহী ও প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম মাসরুর একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘বাংলাদেশে ঠিকমতো ভ্যাট-ট্যাক্স দিয়ে আনলে তো পণ্যের দাম অনেক বেশি পড়ে। কিন্তু দারাজের অনেক বিদেশি পণ্যের ক্ষেত্রে দাম বেশি পড়ছে না। কারণ তারা ঠিকমতো ভ্যাট-ট্যাক্স দিচ্ছে না। আমাদের দেশের একজন আমদানিকারক যখন বিদেশ থেকে পণ্য আনতে যান, তখন তাকে এলসি খুলতে হয়, অনেককিছু করতে হয়। এজন্য অনেক খরচ আছে। এই খরচগুলো চায়নিজদের দিতে হয় না।’

চট্টগ্রামের একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘চীনা ব্যবসায়ীরা তাদের দেশে বসে বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে পণ্য বিক্রি করছে। তারা বাংলাদেশের গ্রাহকের কাছ থেকে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স বাবদ অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছে না। তারা বলে কাস্টমস খরচ মোট মূল্যের মধ্যে ধরা হয়েছে। অথচ খেলনাসহ এমন অনেক পণ্য আছে যেগুলোকে ভ্যাট-ট্যাক্স পুরো ধরলে বাংলাদেশে আমাদের পক্ষে ১০০ টাকার কমে আনা সম্ভব নয়, সেখানে চীনারা ৭০-৮০ টাকায় এসব পণ্য দেশে বিক্রি করছে। এটা কিভাবে করছে তারাই ভালো জানে। এ কারণে দেশিয় ব্যবসায়ীরা ইলেক্টনিক্স পণ্য ও খেলনার আমদানি বাণিজ্যে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’

এদিকে দারাজের মাধ্যমে ব্যবসা করার জন্য বিভিন্ন সময় চীনা ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ‘পণ্য মেলা’ করে আসছেন। করোনাকাল হওয়ায় গত বছর এ ধরনের মেলা হয়নি। তবে ২০১৯ সালের নভেম্বরে ঢাকার পূর্বানী হোটেলে এ ধরনের একটি মেলার আয়োজন করে অন্তত ৩০টি চীনা প্রতিষ্ঠান। মেলায় নিজেদের প্রতিষ্ঠানের পণ্যের প্রচারণা চালান তারা। পাশাপাশি এটাও বলেন, দারাজের মাধ্যমে অর্ডার করলে পণ্য তারা বাংলাদেশের ঠিকানায় পৌঁছে দেবেন, কাস্টমসের কোন ঝামেলা পোহাতে হবে না। উক্ত মেলায় চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা যোগ দেন। কিন্তু সেখানে অভিযান চালিয়ে মেলার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় এনবিআর। তখন এনবিআর কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশে ব্যবসা করার অনুমতি না নিয়ে এভাবে মেলার আয়োজন করা যাবে না। জানতে চাইলে সেদিন অভিযানে যাওয়া এনবিআরের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সেলিম হোসাইন একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘চীনের ব্যবসায়ীরা আইন না মেনে বাংলাদেশে পণ্য বিক্রি করছেন, এটা সত্য। এ কারণে সেদিন মেলা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল।’

এসব বিষয় হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খানকে অবহিত করা হলে তিনি মন্তব্য করেননি; মুঠোফোনে কল দেয়া হলে রিসিভ করেননি।

বহু গ্রাহক প্রতারণার শিকার
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলার সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান একুশে পত্রিকাকে বলেন, দারাজের বিরুদ্ধে এক পণ্যের জায়গায় অন্য পণ্য ডেলিভারি দেয়া, নিম্নমানের পণ্য দেয়া, দাম বেশি রাখাসহ বহু অভিযোগ পাচ্ছি আমরা। অভিযোগের বিষয়ে গণশুনানির জন্য দারাজকে একাধিকবার তলব করা হলেও তারা হাজির হয়নি। বিষয়টি আমাদের প্রধান কার্যালয়কে জানালে দারাজকে সেখানে ডেকে আনা হয়। তখন সিদ্ধান্ত হয়েছে, দারাজের বিরুদ্ধে যে জেলায় অভিযোগ উঠবে সেখানেই তাদেরকে শুনানিতে হাজির হতে হবে। গত মাসে এ সংক্রান্ত আদেশটি আমি পেয়েছি। এখন তারা শুনানিতে না আসলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ করলে দারাজ সহজে টাকা ফেরত দিয়ে দেয়। কিন্তু ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ করার নিয়ম অনেকের জানা না থাকায়, তারা প্রতারণার শিকার হন। এমনকি দারাজের কোথায় গেলে ৭ দিনের মধ্যে পণ্য ফেরত দেয়ার সুযোগ আছে, সেটিও বেশিরভাগ গ্রাহক জানেন না। আর কেউ জানলেও অল্প টাকার পণ্য নিয়ে ঝামেলায় যেতে চান না- এসব সুযোগ নেয় দারাজ।

উপরোক্ত অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে দারাজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তারা ইমেইলে প্রশ্নগুলো পাঠানোর পরামর্শ দেয়। গত ৬ জানুয়ারি দারাজকে ই-মেইলে প্রশ্ন পাঠানো হলেও ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত তারা জবাব দেয়নি।

দারাজের বিরুদ্ধে অনিয়মের এসব অভিযোগ হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নজরে আনা হয়; তবে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।