শুক্রবার, ৫ মার্চ ২০২১, ২১ ফাল্গুন ১৪২৭

দুতলা থেকে পড়ে অলৌকিকভাবে বেঁচে গেল শিশুটি!

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, জানুয়ারি ২২, ২০২১, ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ


মোহাম্মদ রফিক : চট্টগ্রামে দু’তলা ভবন থেকে পড়ে গিয়েও অলৌকিকভাবে বেঁচে গেল দেড় বছরের শিশুকন্যা পার্বতী মজুমদার। এটি গল্প, সিনেমা-নাটকের দৃশ্য নয়, বাস্তব। বেঁচে যাওয়া শিশুটি এখন সুস্থ আছে।

গত সোমবার দুপুর ১২টায় নগরের আসকার দিঘির দক্ষিণ পাড়ের কাচাবাজার এলাকায় ঘটনাটি ঘটলেও প্রকাশ হয় বৃ্হস্পতিবার।

দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ২৮ নং ওয়াডে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে গত মংগলবার বিকালে তাকে ছাড়পত্র দেন চিকিৎসকেরা।

সে দিনের ঘটনার কথা মনে করলে এখনো কেঁপে উঠেন শিশুটির বাবা দীপক মজুমদার আর মা উর্মী মজুমদার। পেশায় ফ্রিজ মেকানিক দীপক মজুমদার বলেন, ‘দু’তলার ছাদ থেকে পড়ে গিয়েও সৃষ্টিকর্তার অপার কৃপায় আমার মেয়ের বড় ধরনের কোন ক্ষতি হয়নি। চিকিৎসকেরা তার মাথার এক্সরেসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করেছেন৷ তার ডান কানের পাশে সামান্য ফুলা আছে। আমার মেয়ে দুরন্ত স্বভাবের ছিল। দুর্ঘটনার পর থেকে কখনও হাসছে, কখনও কাদছে।’

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, দু’তলা ভবনটির মালিক সিরাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। পরিবার নিয়ে তিনি থাকেন নিচতলায়। দু’তলায় থাকেন কয়েকটি ভাড়াটিয়া পরিবার। দু’তলার ছাদের উপর দক্ষিণ পাশে তৈরি করা হয়েছে টিনশেড ঘর।

দেখা গেছে, ভবনটি বেশ পুরোনো এবং ঝুঁকিপূর্ণ৷ ছাদের উপর আছে আড়াই ফুট উচ্চতার পাকা রেলিং৷ দীপক মজুমদার জানান, দু’তলার ছাদে গড়ে তোলা টিনশেড ঘরেই তিনি এবং তার বড়ভাইয়ের পরিবারের ৭/৮জন সদস্য ভাড়ায় থাকেন। সাত বছর আগে তারা ঘরটি ভাড়ায় নেন৷ প্রতিমাসে ভাড়া দেন ৮ হাজার টাকা৷

প্রতিবেদককে সেদিনের দুর্ঘটনার বণনা দেন শিশুটির মা উর্মি মজুমদার। তিনি জানান, ঘটনার দিন তিনি ছিলেন কর্মস্থলে। বাসায় ছিলেন তার ভাবী এবং শাশুড়ি। সেদিন দুপুর ১২টার দিকে ছাদের রেলিং ধরে একটি খেলনার গাড়ির উপর দাঁড়িয়ে খেলছিল তার মেয়ে৷ এসময় হঠাৎ সে নিচে পড়ে যায়। ছাদ থেকে নিচে কিছু একটা পড়ার শব্দ শুনে প্রতিবেশী কয়েকজন যুবক গিয়ে দেখেন পাশের বাড়ির সীমানা দেয়ালের ভেতরে মাটিতে অচেতন হয়ে পড়ে আছে শিশুটি। দ্রুত তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যান তারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দু’তলায় টিনশেড ঘরটির মূল দরজা থেকে ছাদের রেলিংটির দূরত্ব আড়াই ফুটের বেশি নয়৷ কম উচ্চতার হওয়ায় রেলিংটি ও ভবনটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।

এদিকে শিশুটি অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও দুর্ঘটনার জন্য ভবন মালিক সিরাজকে দুষছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ভবন মালিক সিরাজুল ইসলামের ছেলে দিদারুল আলম তাদের ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ বলে স্বীকার করেন। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমাদের ভবনটির ভিত্তি নড়েবড়ে। তাই ইট গেঁথে রেলিংয়ের উচ্চতা বাড়ানো যাচ্ছে না।’

তবে এ দুর্ঘটনার জন্য তিনি (দিদারুল) শিশুটির মা ও বাবার অবহেলাকে দায়ী করেছেন। তিনি একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘দেড় বছরের শিশু সন্তানকে ঘরে রেখে মা-বাবা চলে যান কাজে৷ এর আগেও অনেকবার দুর্ঘটনার হাত থেকে শিশুটিকে আমরা রক্ষা করেছি।’

এ ব্যাপারে চমেকের এক চিকিৎসক একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘দু’তলা থেকে নীচে পড়ে রক্তও বের হল না৷ শরীরের কোন অংশের বড় ক্ষতি হল না, মাত্র দুই দিনের মাথায় হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়ে বাড়ি চলে গেল আহত শিশুটি। এটা অলৌকিক এবং বিরল ঘটনা।’

স্থানীয় বাসিন্দা মৃনমুন চৌধুরী বলেন, ‘এত উঁচু থেকে পড়ে কীভাবে অক্ষত থাকল শিশুটি? ওর তো বুকের পাঁজর ভেঙে যাওয়ার কথা, ফুসফুসও ফেটে যেতে পারত। ও বেঁচে ফিরেছে এখনও ভাবতে পারছি না।