শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ৩ বৈশাখ ১৪২৮

সায়নী-জ্বরে কাঁপছে আসানসোল

প্রকাশিতঃ শনিবার, এপ্রিল ৩, ২০২১, ৭:২৭ অপরাহ্ণ

আবছার রাফি : ২৭ মার্চ থেকে ভারতে শুরু হয়েছে বিধানসভা নির্বাচন। চলছে পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে ভোট গ্রহণের প্রথম ধাপ। পশ্চিমবঙ্গে ৩০, আসামের ৪৭ আসনে বেড়েছে হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে তারকা-প্রার্থীদের কদর। এরই মধ্যে তারকা-প্রার্থী হিসেবে সমস্ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে দক্ষিণ আসানসোল আসনের তারকা-প্রার্থী সায়নী ঘোষ। তার অভিনব প্রচারকৌশল আর নানা কথার ফুলঝুরিতে রাজ্য-রাজনীতি যেন তোলপাড়।

অভিনেত্রী সায়নী ঘোষের বয়স সবেমাত্র ২৭ পেরুলো। সদ্য রাজনীতি-অভিষেক এই অভিনেত্রীর হাতেই ‘জোড়াফুল’ প্রতীক তুলে দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। দলীয় প্রধানের এ সিদ্ধান্ত শুরু থেকেই যেন মেনে নিতে পারছিলেন না খোদ জেলার তৃণমূলের নেতা-কর্মীরাই। শেষমেশ ‘ভূমিপূত্র চাই’ এমন স্লোগানে মাঠে নেমে নিজেদের ক্ষোভও উগরে দিতে দেখা যায় তাদের।

প্রতীক পাওয়ার পর থেকে ভোটের মাঠে বিরামহীন চষে বেড়ানো, ঘরের মেয়ের মতো দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে মনছোঁয়া প্রচারণা; সবমিলিয়ে সায়নী ঘোষই আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিজয়ের মুকুট পরবেন বলে চাউর হয়েছে এখনই।

শুধু তা নয়, চলচ্চিত্র জগতে টেলিফিল্ম, ওয়েব সিরিজ, ওয়েব ফিল্মের বহু চরিত্রে দর্শকের নজরকাড়া পারফরম্যান্সে ডাকসাইটে অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ একে একে টিটিআইএস সেরা অভিনেতা পুরস্কার-২০১০, মিরকি মিউজিক অ্যাওয়ার্ড বাংলা-২০১৩ ও Laugh U সিজন৩-২০১৫, স্টার জলসা পরিবার অ্যাওয়ার্ড-২০১৬-সহ বহু নামিদামি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। অভিনয়-জগতে বেশ পারঙ্গম মানুষটি রাজনীতির মাঠেও যে এভাবে সবার মন কাড়বেন তা হয়তো অনেকেই ভাবেননি বা সময়মতো বুঝে উঠতে পারেননি।

অন্যদিকে, বিজেপির প্রার্থী ‘ভূমিকন্যা’ ও বিজেপি মহিলা-মোর্চা সভানেত্রী অগ্নিমিত্রা পালও পিছিয়ে নেই। বিজেপির হয়ে তিনিও প্রচার-প্রচারণায় বেশ মাতিয়ে রেখেছেন নির্বাচনী মাঠ। ভোটযুদ্ধের আগে বাকযুদ্ধে নাছোড়বান্দা এই দুই প্রার্থী এখন শব্দবোমা ছুঁড়ছেন একে অপরের দিকে।

ইতোমধ্যে ২০১৫ সালে সায়নী ঘোষের করা টুইটার পোস্ট সম্পর্কিত বিতর্ক নতুন করে চাউর হতে শুরু করে। টুইট করা ওই ব্যঙ্গচিত্রে দেখা যায় ‘শিবলিঙ্গের মাথায় কনডম পরাচ্ছে বুলাদি নামে এক চরিত্র’- এতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত পেয়ে বসে নিজ ধর্মানুসারীরা। পরে দুঃখপ্রকাশ করে সে পোস্ট ডিলিট করলেও ভোটের মাঠে সেই পুরোনো কাসুন্দিই সায়নীবিরোধী শিবিরের বড় অস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অপরদিকে, গত ২৪ নভেম্বর তৃমলুকে ধর্ষণের ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে উদ্দেশ করে অগ্নিমিত্রা পাল বলেছিলেন ‘দিদি ওদের বলে দিয়েছে, তোদের এন্টারটেইনমেন্টের প্রয়োজন হলেই তোরা গিয়ে ধর্ষণ করবি’। সাথে সাথেই পশ্চিমবঙ্গে বিতর্ক বেঁধে যায় অগ্নিমিত্রা পালের এই কটু কথাকে কেন্দ্র করে।

তাদের ধারণা- একজনের ধর্মবিদ্বেষী মনোভাব, অপরজনের তীর্যক বাক্যবান; এ দুই-ই এখন মূলত তাদের স্বপক্ষের অস্ত্রশক্তি। যা জনগণকে ইনিয়ে-বিনিয়ে বুঝাতে পারলেই যেন জিতে যাবে যে- কেউ, এ চিন্তা নিয়েই চলছে বিষোদগার-অপপ্রচার।

তবে এসব কিছু ছাপিয়ে সায়নী ঘোষের নির্বাচনী প্রচারণার ধরন-নতুনত্ব দাগ কাটছে জনমনে। নির্বাচনী আমেজের ষোলকলা যেন পূর্ণ করেই ছাড়ছেন তিনি। ভক্ত-অনুরক্তদের আবদার মেটাতে ধুমধাম ফটোসেশন, শিশু-বৃদ্ধ সকলের সুখ-দুঃখের কথা শোনা, বন্ধুর পথ মাড়িয়ে সবার সঙ্গে হাসিমুখে ঘরে ঘরে ঢুকে পড়া, সাক্ষাৎ আর মালাবদল। এভাবেই ভোটের মাঠে দারুণ সক্রিয় হালের জনপ্রিয় এ অভিনেত্রী।

কয়েকদিন আগে প্রতিদিনকার মতো সায়নী ঘোষ বের হন নির্বাচনী প্রচারণার কাজে। নিরাপত্তাকর্মীসহ বেশ বড়সড় বহর নিয়ে ঘুরেফিরে ছুটে চলছেন গ্রাম থেকে গ্রামে। এমনিতেই প্রিয় তারকার সাথে বহরজুড়ে থাকা নেতা-কর্মীদের আনন্দ-উল্লাসের জুড়ি নেই, তার ওপর মাইকে উচ্চস্বরে বাজনা বাজিয়ে মিছিল সহকারে চলতে থাকে ‘খেলা হবে, খেলা হবে’- এমন ডিজে গান। যেখানেই পা মাড়াচ্ছেন, তৈরি হচ্ছে মিউজিক-মিউজিক এনভায়রনমেন্ট আর প্রাণবন্ত কোলাহল।

এবারের যে কোনও নির্বাচনী বক্তৃতায় ‘খেলা হবে’- শব্দদ্বয় বেশ প্রাসঙ্গিক হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রার্থীদের কাছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়সহ কতিপয় রাজনীতিবিদদের মুখে হামেশা উচ্চারিত হতে দেখা যায় ‘খেলা হবে, খেলা হবে’- শীর্ষক শব্দগুচ্ছ আর সুরের খেলা।

তবে রাজ্যের বিজ্ঞ রাজনীতিক মহলের ধারণা- এবার আসল খেলাই হবে দক্ষিণ আসানসোলে। প্রার্থী বিবেচনায় সায়নী ঘোষের এগিয়ে থাকার বিষয়টিও উঠে এসেছে নানা জনমত জরিপে।

তবে শেষমেশ কে হাসছেন বিজয়ের হাসি। সেটি জানতে অপেক্ষা করতে হবে আগামী ২ মে ফলাফল ঘোষণার দিন পর্যন্ত। একইদিন মিলবে তামিলনাডু, কেরালা ও কেন্দ্রশাসিত পুদুচেরির বিধানসভা ভোটের ফলও।