রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ১০ শ্রাবণ ১৪২৮

নগদের সুনামে ঈর্ষান্বিত হয়ে বিকাশের অপপ্রচার : পিবিআই

প্রকাশিতঃ সোমবার, জুলাই ১৯, ২০২১, ২:৩৬ অপরাহ্ণ


ঢাকা : দেশের জনপ্রিয় মোবাইল ব্যাংকিং সেবা প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’ এর সুনামে ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান ‘বিকাশ’ অপপ্রচার চালিয়েছিল বলে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে উঠে এসেছে।

সম্প্রতি পিবিআইয়ের অর্গানাইজ ক্রাইম ইউনিটের একটি তদন্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে। প্রতিবেদনটি ইতিমধ্যে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি নগদের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ (লিগ্যাল অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স) তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী বিকাশের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।

এজাহারে বলা হয়, নগদের সুনামে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি অপরাধী চক্র সংঘবদ্ধ হয়ে প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক ক্ষতি ও জনগণের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে লিফলেট মুদ্রণ ও বিতরণ করছে।

সারা দেশে নগদ লিমিটেডের প্রায় ৩ লাখ আউটলেটসহ বিভিন্ন বাজার ও জনবহুল স্থানে বিভিন্ন সময়ে ‘একটু ভেবে দেখবেন কী’ শিরোনামে একটি লিফলেট ছড়ানো হয়। এর মাধ্যমে নগদের আর্থিক ও সামাজিক সুনামের ক্ষতিসাধন করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান নগদের ৫১ শতাংশ শেয়ার ডাক বিভাগের। বাকি ৪৯ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লিমিটেডের।

এজাহারে আরও বলা হয়, পূর্বপরিকল্পিতভাবে লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে অপপ্রচার, প্রতারণা ও মানহানিকর গুজব রটিয়ে কোম্পানির সুনাম ও আর্থিক ক্ষতিসাধন করা হয়েছে।

মামলা গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) সত্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব দেয় আদালত। ২৮ ফেব্রুয়ারি মামলা তদন্ত শুরু করে পিবিআই। তদন্ত শেষে বিস্তারিত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয় পিবিআই পরিদর্শক মো. মেছবা উদ্দিন।

গত ২৩ জুন প্রস্তুত করা ওই তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নগদের দ্রুত প্রসার এবং ব্যবসায়িক সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করতে বিভিন্ন সময়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে বিকাশ। বিকাশের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সংঘবদ্ধভাবে নগদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিথ্যা অপপ্রচার ও মানহানিকর গুজব ছড়িয়ে নগদের সুনাম নষ্ট এবং আর্থিকভাবে ক্ষতি সাধন করা করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ ডাক বিভাগের অংশীদারিত্বে পরিচালিত নগদ লিমিটেডকে জনসম্মুখে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নগদ হাজারে ১১ টাকা চার্জ নেওয়ার কারণে অতি অল্প সময়ের মধ্যে দ্রুত প্রসার লাভ করে এবং জনগণের মধ্যে সুনামের সঙ্গে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করে। পাশাপাশি বিকাশ হাজারে ২০ টাকা চার্জ নিয়ে ব্যবসা করে আসছিল। ফলে নগদ সহজেই প্রসার লাভ করতে শুরু করে। আর তাতেই বিকাশ ঈর্ষান্বিত হয়ে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়।

পিবিআই প্রমাণ পেয়েছে, বিকাশের বিজনেস ক্লাস্টার হেড নাজমুল করিম ও রিজিওনাল ম্যানেজার আব্দুহ সুফীর নম্বর থেকে ‘সেন্ট্রাল নর্থ ক্লাস্টার’ নামের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে অপপ্রচারে নেতৃত্ব দেওয়া হয়। পরে সে গ্রুপ আবার মুছেও ফেলেছেন তারা।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাজমুল করিম ও আব্দুহ সুফীর মোবাইল নম্বরে দিয়ে করা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে অন্যদের লিফলেটগুলো সরবরাহ করা হয়।

পিবিআই-এর তদন্ত কর্মকর্তা, নামজমুল করিম ও আব্দুহ সুফীকে জিজ্ঞাসাবাদে তারা যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে বলা হয়েছে, ‘চাকরির স্বার্থে ও বিকাশ কোম্পানিকে আর্থিকভাবে লাভবান করার জন্য তারা সকলে একই উদ্দেশ্যে নগদ লিমিটেডকে হেয়প্রতিপন্ন ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্যে এহেন কাজটি করেছে মর্মে প্রতীয়মান হয়।’

পিবিআই-এর তদন্ত প্রতিবেদন আরও বলছে, ৯ ফেব্রুয়ারি দৈনিক বনিক বার্তায় এমএফএস অপারেটর নগদ নিয়ে একটি নেতিবাচক খবর প্রকাশিত হয়। সেই খবরটি কৌশলগত দিক অবলম্বন করে পরস্পর যোজসাজশে পরিকল্পিতভাবে লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে নগদের বিরুদ্ধে মিথ্য অপপ্রচার ও মানহানিকর গুজব ছড়িয়ে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম নষ্ট এবং আর্থিকভাবে ক্ষতি সাধন করা করা হয়েছে।

আদালতে দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, দৈনিক বণিক বার্তায় প্রকাশিত খবরটির ভিত্তিতে তারা কিছু সংযোজন ও বিয়োজন করে আরও চটকদার করে লিফলেট আকারে ঢাকাসহ সারাদেশে বিভিন্ন বিকাশ ও নগদ এজেন্ট পয়েন্টে বিতরণ করে নগদের সুনামসহ আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতিসাধন করে। তাছাড়া এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের অংশীদারিত্বে পরিচালতি নগদ লিমিটেডকে জনসম্মুখে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বিকাশের মোট ১৬ জন কর্মকর্তার নগদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে জড়িত থাকার তথ্যপ্রমাণ পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তারা হলেন বিকাশের সেন্ট্রাল নর্থ ক্লাস্টারের ক্লাস্টার বিজনেস হেড এ কে এম নাজমুল করিম, নারায়ণগঞ্জ রিজিওনাল ম্যানেজার মশিউর রহমান, রিজিওনাল ম্যানেজার আব্দুহ সুফী, রিজিওনাল কো-অর্ডিনেটর আলামিন হোসেন, এরিয়া ম্যানেজার আবু হেনা গোলাম কিবরিয়া, ঢাকার টেরিটরি অফিসার গোলাম সারোয়ার, বিকাশের ট্রিলজি ডিস্ট্রিবিউশনের ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম ও সুপারভাইজার নাহিদ হাসান।

অভিযুক্তদের মধ্যে আরও আছেন- টেরিটরি ম্যানেজার নুমানুল হক, জারাফ সেলস অ্যান্ড মার্কেটিংয়ের জেনারেল ম্যানেজার মির্জা শিহাব উদ্দিন, ডিস্ট্রিবিউটর অ্যান্ড মার্চেন্ডাইজিং মানেজার রামানন্দ চন্দ্র সরকার, ডিএসও মাজহারুল ইসলাম শাওন, আরিফ তরিকুল ইসলাম, শেখ ফরিদ ও নাঈম।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোন ধরনের মন্তব্য করতে রাজি হননি বিকাশের প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম।