সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

দেশে করোনায় প্রাণ গেল আরও ২১৮ জনের

| প্রকাশিতঃ ৩১ জুলাই ২০২১ | ৬:০৯ অপরাহ্ন


ঢাকা : করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৯ হাজার ৩৬৯ জন।

শনিবার (৩১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গত ২৪ ঘণ্টায় ২১৮ জনের মৃত্যুর ফলে দেশে এ ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২০ হাজার ৬৮৫ জনে। এছাড়া করোনা শনাক্তের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ৪৯ হাজার ৪৮৪ জনে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্তের হার ৩০.২৪ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩০ হাজার ৯৮০ জনের নমুন পরীক্ষা করা হয়। যাতে শনাক্ত হন ৯ হাজার ৩৬৯ জন। শনাক্তের হার ৩০.২৪ শতাংশ। এর আগে শুক্রবার (তার আগের ২৪ ঘণ্টায়) ৪৫ হাজার ৪৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে ১৩ হাজার ৮৬২ জন শনাক্ত হন, যাতে শনাক্তের হার ছিল ৩০.৭৭ শতাংশ। এ পর্যন্ত মোট গড় হার ১৬.১৪ শতাংশ। গতকাল ছিল ১৬.০৮ শতাংশ।

এদিকে গত এক দিনে করোনায় মারা গেছেন ১২৮ জন। গতকাল ২১২ জন, এর আগে মঙ্গলবার ২৩৭ জন, বুধবার ২৩৭, মঙ্গলবার ২৫৮, সোমবার ২৪৭, রবিবার ২২৮, শনিবার ১৯৫ ও শুক্রবার ১৬৬ জনের মৃত্যু হয়। গত ৭ জুলাই প্রথমবারের মতো দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়ায়। এদিন মৃত্যু হয় ২০১ জনের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে পুরুষ ১৩৪জন ও নারী ৮৪ জন। নতুন মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ১২০ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের ৩৭ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের ৩৭ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের ১৭ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের ৬ জন ও শূন্য থেকে ১০ বছয় বয়সী এক শিশু।

মৃত ২১২ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ৬৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ৫৫ জন, রাজশাহী বিভাগের ২২ জন, খুলনা বিভাগের ২৭ জন, বরিশাল বিভাগের ১০ জন, সিলেট বিভাগের ৯ জন, রংপুর বিভাগের ১৬ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগের ১২ জন।

গত এক দিনে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১৪ হাজার ১৭ জন। এ নিয়ে সুস্থ হলেন ১০ লাখ ৭৮ হাজার ২১২ জন।

দেশে গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর খবর আসে। কয়েক মাস সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার ঊর্ধ্বগতিতে থাকার পর অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। চলতি বছরের শুরুতে করোনাভাইরাসের প্রকোপ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে ছিল। তখন শনাক্তের হারও ৫ শতাংশের নিচে নেমেছিল। তবে গত মার্চ মাস থেকে মৃত্যু ও শনাক্ত আবার বাড়তে থাকে। জুলাই মাসে দৈনিক শনাক্তের হার ২৫ শতাংশের উপরে আছে। মোট গড় হার ১৪ শতাংশের উপরে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো দেশে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়। সে হিসেবে বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেই বলা যায়।

বিশেষজ্ঞরা এটাকে বাংলাদেশে করোনার ‘দ্বিতীয় ঢেউ’ বলছেন। করোনা সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করায় ২৩ জুলাই থেকে আবার ৫ আগস্ট পর্যন্ত কঠোর লকডাউন চলছে।