শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

রাঙ্গুনিয়ার সন্তানের মার্কিন-পুলিশ হওয়ার গল্প

| প্রকাশিতঃ ১০ অগাস্ট ২০২১ | ১০:০৫ অপরাহ্ন


আবছার রাফি : বেড়ে ওঠা গ্রামের আলো-বাতাসে। গ্রামের মেঠোপথ, খেলার মাঠ দাপিয়ে বেড়িয়েছেন শৈশব-কৈশোরে। দুরন্তপনা আর প্রাণোচ্ছ্বলতায় মাতিয়ে রাখতেন গ্রাম। পড়াশোনায়ও ছিলেন সবার চেয়ে আলাদা। মাধ্যমিকের গ-ি পেরিয়ে উচ্চ-মাধ্যমিক শেষ করতে না করতে স্বপ্ন দেখতেন ইউরোপ-আমেরিকায় উন্নত জীবনযাপনে ‘থিতু’ হবেন। অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর মেধার যুগপৎ প্রচেষ্টায় এখন তিনি সেই স্বপ্নের দোরগোড়ায়। হয়েছেন আমেরিকা পুলিশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) সার্জেন্ট।

যদিও দেশে বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে ‘প্রশাসন ক্যাডারে’ যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা ছিলো তার। তবে সেই ইচ্ছা চাপা পড়ে যায় ভাগ্যবিধাতা প্রদত্ত এক সুবর্ণ সুযোগে। বলছিলাম, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের লালানগর গ্রামের পেঠান বাড়ির সন্তান, রাঙ্গুনিয়া খিলমোগল রসিক উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ার আহমেদ তালুকদারের জ্যেষ্ঠ পুত্র মো. শহীদুল্লাহ’র কথা। যিনি বাংলাদেশ থেকে সুদূর আমেরিকায় গিয়ে স্বপ্ন জয়ের গল্প তুলে ধরেছেন একুশে পত্রিকার কাছে। তিনি তুলে ধরেছেন, পরিশ্রম আর মেধায় সফলতা খুঁজে পাওয়ার গল্প। বর্ণনা করেছেন, জীবনসংগ্রামের পরতে পরতে বাধা, সহযোগিতা ও সাফল্যের কথা।

দেশে থাকাকালীন শিক্ষাজীবনের প্রতিটি পরীক্ষায় মো. শহীদুল্লাহ রেখেছেন মেধার স্বাক্ষর। এখন স্বপ্ন দেখেন, মার্কিন পুলিশের লেফটেন্যান্ট হওয়ার। বিশ্বাস রাখেন, পুলিশ সার্জেন্টের পদোন্নতি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মতো লেফটেন্যান্ট পদোন্নতি পরীক্ষার যুদ্ধেও যথারীতি ভালো ফলাফল অর্জন করবেন তিনি।

১৯৯৮ সাল। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র। ইউরোপ-আমেরিকায় যাওয়ার জন্য ছোটবেলা থেকে যেই স্বপ্ন বুনতেন, সেই স্বপ্ন তখন ঘুমোতে দেয় না শহীদুল্লাহকে। তাই স্বপ্নজয়ের পথকে নির্বিঘœ-নিষ্কণ্টক করতে ‘টোয়েফল’ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। কারণ আমেরিকার স্টুডেন্ট ভিসা পেতে হলে ‘টোয়েফল’ পরীক্ষায় ভালো ফলাফল দরকার হয়। ৫৭৮ নম্বর পেয়ে বেশ সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হন ‘টোয়েফল’ পরীক্ষায়।

এবার স্টুডেন্ট ভিসায় আমেরিকা যাওয়ার আবেদন করার পালা। যথারীতি ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘আন্ডার গ্র্যাজুয়েট’ পড়াশোনার জন্য স্টুডেন্ট ভিসায় আবেদন করেন শহীদুল্লাহ। সে আবেদনের অনুকূলে শহীদুল্লাহ’র ডাক পড়ে আমেরিকান দূতাবাসে। স্বপ্নছোঁয়ার একবুক আশা নিয়ে হাজির হন মৌখিক পরীক্ষায়। কিন্তু বিধিবাম- ভাইভা বোর্ডেই নাকচ হয়ে যায় শহীদুল্লাহ’র আবেদন-ইনকম্পিলিট ডকুমেন্টেশন এর কারণে। অর্থাৎ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়ে ১ম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার কোনো কাগজপত্র সাথে করে নিয়ে যাননি শহীদুল্লাহ।

যে স্বপ্নের আমেরিকায় যেতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে ইংরেজি বিষয়ে পড়াশোনা, দিনরাত খেটে টোয়েফল শেষ করা; এর আগে জন্মস্থান হোসনাবাদ প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি, উত্তর রাঙ্গুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮ম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি, ১৯৯২ সালে উত্তর রাঙ্গুনিয়া স্কুল থেকে এসএসসিতে ‘স্টার’, ১৯৯৪ সালে রাঙ্গুনিয়া কলেজ থেকে এইচএসসিতে ‘ফার্স্ট ডিভিশন’ অর্জন; শহীদুল্লাহ’র এসবের কোনও কিছুই যেন ধোপে টিকেনি। প্রত্যাখ্যাত হলেও হাল ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নন তিনি।

স্বপ্নজয়ের প্রশ্নে যেন কোনও আপস নেই শহীদুল্লাহ’র মানসিকতায়। আমেরিকা তিনি যাবেনই, যাবেন। শহীদুল্লাহ’র এমন অভিলাষ, পরিশ্রম-প্রজ্ঞা-খাটুনি দেখে এবার স্বয়ং ভাগ্য বিধাতাই যেন রাজি হয়ে গেলেন তাকে এগিয়ে দিতে। সেই স্বপ্নের প্রাথমিক দুয়ার খুলে যায় ডিভি (ডাইভারসিটি ভিসা) লটারির মধ্য দিয়ে। ২০০১ সালে ডিভির আবেদন করার পর ২০০২ সালে ডিভি লটারিতে মনোনীত হন শহীদুল্লাহ।

সময়টা ২০০২ সালের নভেম্বর মাস। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিষয়ে চূড়ান্ত পরীক্ষায় ‘সেকেন্ড ক্লাস’ পেয়ে স্নাতক শেষ করে মাস্টার্সে অধ্যয়নকালেই উৎসাহ-উদ্দীপনাকে সঙ্গী করে পাড়ি জমান স্বপ্নের দেশ আমেরিকায়। আমেরিকায় গিয়ে ভাবেন, কোন বিষয়ে পড়াশোনা করলে ভালো হবে। যাতে পড়াশোনা শেষ করা মাত্রই চাকরি পাওয়া সহজ হয় এবং বেতনটাও ভালো হয়। দেখলেন- রেজিস্টার্ড নার্সদের চাহিদা খুব বেশি আমেরিকায়। তারপর ২০০৪ সালে আমেরিকার সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্কের তত্ত্বাবধানে ব্রঙ্কস কমিউনিটি কলেজে ভর্তি হন ‘নার্সিং’ কোর্সে। দীর্ঘ চারবছর পর ২০০৮ সালে ‘তাক লাগানো’ ফলাফলের মধ্য দিয়েই সম্পন্ন করেন নার্সিং কোর্স। ৯০ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়ে নার্সিং কোর্স সম্পন্ন করেছেন, কেবল তা-ই নয়, ব্রঙ্কস কমিউনিটি কলেজ থেকে ‘ডীনলিস্ট’ নামের একটি সার্টিফিকেটও পেয়েছেন শহীদুল্লাহ। প্রতি সেমিস্টারে ভালো ফলাফল করলে স্বীকৃতিস্বরুপ তাকে ‘ডীনলিস্টে’ অর্ন্তভুক্ত করা হয়।

নিজের খরচ তো আছেই, তারওপর পড়ালেখার খরচও চালিয়ে নিতে হয়। কিন্তু এত খরচ কীভাবে মেটাবেন, এমন চিন্তা যখন ঝেঁকে বসে শহীদুল্লাহ’র মাথায়; তখনই পার্টটাইম কাজের চাকরি নেন ‘ইজি পিকিংস’ নামে এক ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে। কিন্তু সেখানে বেশিদিন করা হয়নি ওই চাকরি, যে বেতনে চলতে ফিরতে হিমশিম খেতে হয় রোজ, তা ছেড়ে দেওয়াই ভালো; ফলে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন শহীদুল্লাহ। তারওপর তুলনামূলক একটু ভালো থাকতে আমেরিকার পথে-প্রান্তরে চালিয়েছেন ‘ইয়েলো ক্যাব’। সপ্তাহে অন্তত দুদিন ক্যাব চালিয়ে যে পরিমাণ ডলার উপার্জন করতেন, তাই-ই ছিলো শহীদুল্লাহ’র পুরো সপ্তাহ চালিয়ে নেওয়ার সম্বল।

তারপর ২০০৮ সাল। ‘ইয়েলো ক্যাব’ চালানোর সময় রাস্তায় চোখে পড়ে আমেরিকান পুলিশের চৌকস-শৃঙ্খলিত কার্যক্রম। পুলিশের সুসংবদ্ধ-পরিপাটি দৃশ্য দেখে তাদের সম্পর্কে ভালোলাগা মনে গেঁথে যায় শহীদুল্লাহ’র। এই পেশার প্রতি নিজের ভালোলাগায় নতুন মাত্রা যোগ হয় আপনজনদের উৎসাহ-অনুপ্রেরণা। সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেন, তিনি আমেরিকা পুলিশে চাকরি করবেন। এরপর একই বছরের মাঝামাঝি সময়ে পরীক্ষা দেন নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) ‘অফিসার’ পদে। প্রচুর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই সরকারি চাকরির পরীক্ষায় ৯২ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়ে ফলাফল তালিকার শীর্ষে জায়গা করে নেন শহীদুল্লাহ। এরপর ২০০৮ সালের জুলাই মাসে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে যোগদান করেন ‘পুলিশ অফিসার’ হিসেবে।

তারপর ২০১০ সালে মা ফেরদৌস বেগম, বাবা মো. আনোয়ার আহমেদ তালুকদার আর স্ত্রী ফারজানা ববিকে নিয়ে যান আমেরিকায়। স্বামী শহীদুল্লাহ’র চেয়ে স্ত্রী ফারজানা ববিও কম মেধাবী-পারদর্শী নন। আমেরিকা যাওয়ার পর তিনিও মনোনিবেশ করেন তথ্য-প্রযুক্তির ক্যারিয়ারের। কাজ নেন, আমেরিকার সুপরিচিত আইটি কোম্পানিতে। একনাগাড়ে দীর্ঘ চার বছর সেই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তিনি। নিজেকে গড়েছেন একজন দক্ষ সফটওয়্যার ডেভেলপার হিসেবে। এখন সেখানে তিনি মেধা-প্রজ্ঞাকে সঙ্গী করে তথ্য-প্রযুক্তি খাতে নিজেকে এগিয়ে নিচ্ছেন অনন্য উচ্চতায়। এরই মাঝে স্বামী শহীদুল্লাহ আর স্ত্রী ফারজানা ববির ঘর আলো করে জন্ম নেয় আদরের সন্তান ফারদিন।

সময়টা ২০১৭ সাল। বাংলাদেশের বিসিএস পরীক্ষার চেয়েও চ্যালেঞ্জিং প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় আমেরিকান পুলিশের পদোন্নতি পরীক্ষায়। কিন্তু সে চ্যালেঞ্জ যতই কঠিন-দুষ্কর হোক, গ্রহণ করাই চাই-ই শহীদুল্লাহ’র। অংশগ্রহণ করেন পুলিশ অফিসার থেকে সার্জেন্ট পদে পদোন্নতির পরীক্ষায়। ফলাফল হয় পরের বছর ২০১৮ সালে। সেই পরীক্ষায়ও ৮০ শতাংশ নম্বর পেয়ে নিজেকে সফলতার শীর্ষে অর্ন্তভুক্ত করে নেন সার্জেন্ট পদের পদোন্নতি তালিকায়। আমেরিকান পুলিশে পদ খালি হওয়া সাপেক্ষে পদোন্নতিপ্রাপ্ত নতুন সার্জেন্টদের আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু ধারাবাহিকভাবে নিয়োগ, সার্জেন্ট পদের সংখ্যার অপ্রতুলতা, তারওপর করোনাভাইরাসজনিত কারণ; থমকে যায় পদোন্নতি। এরপর ২০২১ সালের ৩০ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে সার্জেন্ট পদে দায়িত্ব পান শহীদুল্লাহ।

প্রচ- স্বপ্নবিলাসী রাঙ্গুনিয়ার এ সন্তান স্বপ্নের ইচ্ছেডানায় ভর করে বিদেশ পাড়ি জমালেও দেশমাতৃকার প্রতি গভীর মমত্ববোধ লালন করেন যাপিতজীবনের পরতে পরতে। দেশের মানুষের যে-কোনো সঙ্কট-দুঃসময় তাকে ভাবিয়ে তুলে বিদেশের মাটিতে। তাই করোনা মহামারিতে জন্মস্থানের মানুষের জীবনজীবিকা সামলানোর কঠিন কসরত দেখে ব্যথাতুর হয়ে পড়েন তিনি। করোনাকবলিত দেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতে নানাভাবে আর্থিক সহযোগিতা পাঠাতে থাকেন শহীদুল্লাহ। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের ১ টাকায় আহার কার্যক্রমেও আর্থিক সহযোগিতা পাঠান। এছাড়া নানা সময়ে আর্থিক অনুদান দিয়েছেন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা- ইউএনএইচসিআরে।

আমেরিকা পুলিশের গুরত্বপূর্ণ বিভাগের সার্জেন্ট হওয়া আর অজপাড়াগাঁ থেকে আমেরিকা যাবার স্বপ্ন এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে দীর্ঘদিনের সাধনা-সংগ্রাম। কীভাবে সম্ভব হলো এই দুর্গম যাত্রা?- জবাবে একুশে পত্রিকাকে শহীদুল্লাহ বলেন, ‘ছাত্রজীবন থেকে আমেরিকা আসার ঝোঁক ছিল আমার। পড়াশোনায় বেশ মনযোগী ছিলাম। আমার এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি হচ্ছে কঠিন অধ্যবসায়। আমেরিকায় আসতে না পারলে দেশে বিসিএস দিয়ে প্রশাসনে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা ছিল।’

‘এক সময় আমেরিকায় আমার এক কাজিনের বাসায় থাকতাম আমি। সে আমাকে অনুপ্রেরণা-সাহস জুগিয়েছে পুলিশ অফিসার হতে। আর সার্জেন্ট পদে পদোন্নতি পরীক্ষা দিতে এবং পড়াশোনা চালিয়ে যেতে যে মানুষটা সবসময় পরামর্শ-সহযোগিতা দিয়েছেন, সার্বক্ষণিক পাশে থেকেছেন; তিনি আমার স্ত্রী ফারজানা ববি। তার সহযোগিতা না থাকলে আমার এতদূর আসা হয়তো সম্ভব হতো না।’ বলেন শহীদুল্লাহ।

‘আমি আমেরিকায় থাকলেও আমার জন্মস্থান বাংলাদেশ এবং দেশের মানুষের প্রতি অন্যরকম দরদ অনুভব করি সবসময়। গ্রামে হেসেখেলে বড় হওয়া আর গ্রাম্য প্রকৃতির নান্দনিক-মনোমুগ্ধকর পরিবেশে ছোটাছুটি করার স্মৃতি এখনো বেদনাবিধূর করে তোলে, তাই দেশে ছুটে আসি বারবার। আমি দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই, যাতে আমি আমেরিকায় থেকে তাদের জন্য গৌরব এবং সম্মান বয়ে আনতে পারি।’ – বলেন নিউইয়র্ক পুলিশের গর্বিত কর্মকর্তা শহীদুল্লাহ।

শহীদুল্লাহ’র চাচাতো ভাই, চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মো. আবু মনসুর একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘ছোটকাল থেকেই অত্যন্ত মেধাবী-বিনয়ী ছিল শহীদুল্লাহ। পড়াশোনা নিয়ে তার ব্যস্ততা, দৌড়াদৌড়ি দেখে আমরা ভাবতাম, তার সাফল্যে একদিন আমাদের সবার বুক ভরে যাবে, তার কর্মে আমাদের গ্রাম আলোকিত হবে। আজ সত্যি সত্যি তাই হলো। আমেরিকায় পুলিশে যুক্ত হয়ে সে শুধু আমাদেরকে নয়, দেশের ১৭ কোটি মানুষকে গৌরবান্বিত করেছে। তরুণ সমাজের অনুপ্রেরণা-অনুকরণের মানুষে পরিণত হয়েছে।’