বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৮ আশ্বিন ১৪২৮

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পেয়ারার উৎপাদনে, বিপাকে চাষিরা

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২১, ১১:১১ পূর্বাহ্ণ


এম কে মনির, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) : জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের ঋতু চক্র বদলে যাচ্ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের পেয়ারা উৎপাদনের ওপরেও পড়তে শুরু করেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সাধারণত মাঘ-ফাল্গুন মাসে পেয়ারাগাছে ফুল আসে। কিন্তু এবার ফুল দেরিতে এসেছে। বৈশাখ মাসে বৃষ্টি হলে ফলন ভালো হয়। কিন্তু ওই মাসে তেমন বৃষ্টি হয়নি। যার কারণে পেয়ারার ফলন ভালো হয়নি।

চাষিরা বলছেন, সীতাকুণ্ডের পেয়ারা উপরে সবুজ ভিতরে লাল। যুগ যুগ ধরে সুস্বাদু এ পেয়ারার খ্যাতি দেশজোড়া। এমনকি গত কয়েক বছর ধরে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে স্থানীয়ভাবে লাল গোঁয়াচি খ্যাত এ পেয়ারা।

সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ডে এ পেয়ারার বাগান রয়েছে শতশত। শুধু যে স্বাদেই অতুলনীয় তাই নয়, প্রতি বছর এর বাম্পার ফলন হয় রেকর্ড পরিমাণ। আর এসব পেয়ারার বাগান পরিচর্যায় সারা বছর কাটিয়ে দেয় হাজারও পেয়ারা চাষি।

যারা বছরজুড়ে মুখিয়ে থাকে পেয়ারার মৌসুমের দিকে। বাগানে উৎপাদিত এ পেয়ারা বিক্রি করে সারা বছরের কাঙ্খিত অর্থও উপার্জিত হয় চাষিদের।

কিন্তু এ বছর পেয়ারার মৌসুম শেষ হতে চললেও শতশত বাগানের পেয়ারা গাছগুলো ফলশূন্যই পড়ে আছে।

স্থানীয়রা বলছেন, এমন ঘটনা নজিরবিহীন। সীতাকুণ্ডের হাটবাজারগুলোতে গিয়ে এর সত্যতা মিলে। যেখানে এ মৌসুমে পেয়ারা বিক্রেতাদের ভিড় থাকে লক্ষণীয়।

সীতাকুণ্ড বাজারে বড় আকারের ‘চাইনিজ পেয়ারা’ কিনতে দেখা যায় কয়েকজন ক্রেতাকে। কথা হলে তাদের একজন জানান, দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাচ্ছি। পেয়ারার মৌসুম, বাচ্চারা পেয়ারা খেতে চাই। কী আর করবো সীতাকুণ্ডের পেয়ারা না পেয়ে বাধ্য হয়ে এই পানসে পেয়ারা কিনছি।

বংশ পরম্পরায় পেয়ারা চাষ করে আসছেন এমন একজন চাষি জামশেদ উদ্দীন; তিনি বলেন, প্রতিবারের ন্যায় এবারও বাগান পরিচর্যায় কোন কমতি ছিলো না আমাদের। কিন্তু এ বছর আমার কয়েক একর পেয়ারা বাগানের পুরোটাই ফল শূন্য। শতশত গাছগুলোর ডালপালা কেবল খাঁ খাঁ করছে। গাছের দিকে তাকালে হৃদয়টা মোচড় দিয়ে ওঠে। আগামী একটি বছর কীভাবে পরিবার নিয়ে দিনাতিপাত করবো সে ভাবনার অন্ত নেই।

বাড়বকুণ্ড বাজারের ব্যবসায়ী জাহিদ বিন সিদ্দিকী বলেন, অন্যান্য বারের তুলনায় এবার পেয়ারার ফলন খুবই কম। যা উল্লেখ করার মতো নয়।

এদিকে উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাজিম উদ্দীন পেয়ারার ফলন শূন্য এ কথা মানতে নারাজ। তিনি বলছেন, কাক ডাকা ভোরে চট্টগ্রাম শহরে চলে যায় পেয়ারা। এজন্য সীতাকুণ্ডের বাজারগুলোতে তেমন পেয়ারা দেখা যায় না। তবে পেয়ারা বাগানগুলোতে ফলনের সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য দিতে পারেননি তিনি।

যদিও বাড়বকুণ্ডের পেয়ারা চাষি ইউসুফ, যিনি একাই ১০টি পেয়ারা বাগানের মালিক, তিনি বলছেন, সময়মত বৃষ্টি না হওয়ার কারণে এবার পেয়ারার ফলন আসেনি। যে কয়টি পেয়ারা ধরেছে তাও অপরিপক্ক থেকে যায়। তার বাগানে ফলন একেবারেই হয়নি।

তার মতে, প্রতিবছর পেয়ারার মৌসুমে বাড়বকুণ্ড বাজারে দৈনিক ৪ থেকে ৫ লক্ষ টাকার পেয়ারা বেচাকেনা হয়। অথচ এবছর বাজারে মাত্র কয়েকদিন দশ থেকে বিশ হাজার টাকার পেয়ারা বেচাকেনা হয়েছে।

এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা রঘু নাথ নাহা একুশে পত্রিকাকে বলেন, সাধারণত মার্চ-এপ্রিলের দিকে পেয়ারা গাছে ফুল আসে। তখন বৃষ্টি না হলে পর্যাপ্ত পেয়ারার ফলন হয় না। এবার সেসময় অনাবৃষ্টির কারণে অনেক পেয়ারা গাছে ফলন হয়নি।