
চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা মাদরাসা-এ-তৈয়বিয়া অদুদিয়া সুন্নিয়া ফাজিল-এর অধ্যক্ষ মো. আবু তৈয়ব চৌধুরী এমফিল ডিগ্রী অর্জন করেছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধীনে ‘হযরত আবু বকর (রা:)-এর প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও আধুনিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা’ শীর্ষক অভিসন্দর্ভের জন্য তাকে এমফিল ডিগ্রি প্রদান করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ৫৩৪ তম অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেট সভায় তাঁকে এ ডিগ্রি প্রদান করা হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড. আ. ন. ম আবদুল মাবুদের তত্ত্বাবধানে তিনি এ গবেষণাকার্য সম্পাদন করেন। তাঁর পরীক্ষক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড. সানাউল্লাহ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান।
অধ্যক্ষ মো. আবু তৈয়ব চৌধুরী চট্টগ্রামের আনোয়ার উপজেলার ৯ নং পরৈকোড়া ইউনিয়নের ওসখাইন গ্রামের মৃত রঞ্জু মিয়া চৌধুরী ও মৃত মাছুমা খাতুনের সন্তান। শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপে মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। গ্রামে প্রাথমিক শিক্ষার পাঠ চুকিয়ে মাধ্যমিকে (দাখিল) ভর্তি হন চট্টগ্রামের ছোবহানিয়া আলিয়া কামিল এম. এ মাদরাসায়। তারপর পটিয়া শাহচাঁন্দ আউলিয়া কামিল মাদারাসা থেকে উচ্চমাধ্যমিকের (এইচএসসি) পড়াশোনা শেষ করেন তিনি। এরপর চট্টগ্রামের মাদরাসা জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল থেকে ফাজিল (ডিগ্রি), কামিল (মার্স্টাস) সম্পন্ন করেন তিনি। ১৯৯২ সালে কামিল (মাস্টার্সে) ফিকহ বিষয়ে সারাদেশে ২য় স্থান এবং ১৯৯৮ সালে তাফসির বিষয়ে ৭ম স্থান অর্জন করেন তিনি। একই সাথে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামিক স্টাডিজে অনার্স (স্নাতক) ও মাস্টার্সে (স্নাতকোত্তর) ফার্স্ট ক্লাস পেয়ে সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হন তিনি।
কর্মজীবনের শুরুতে ১৯৯২ সালে ১ জানুয়ারিতে আরবি প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন রাঙ্গুনিয়া নুরুল উলুম কামিল (এম.এ) মাদরাসায়। সেখানে কিছুদিন আরবি প্রভাষক হিসেবে চাকরি করার পর পদোন্নতি পেয়ে যোগ দেন উপাধ্যক্ষ পদে। ২০০৯ সাল ৩১ আগস্ট পর্যন্ত মোট ১৭বছর ৮মাস এই চাকরি শেষে ২০০৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনাস্থ আরবি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাদরাসা-এ তৈয়বিয়া অদুদিয়া সুন্নিয়া ফাজিলে (ডিগ্রি)। এখনো তিনি অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োজিত আছেন এই মাদরাসায়।