মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

‘আইনজীবীদের সম্পর্কে সমাজের প্রচলিত ধারণা বদলাতে হবে’

প্রকাশিতঃ বুধবার, অক্টোবর ৬, ২০২১, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) বলেছেন জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রয়োজনে সুদূর চীন দেশে যাও। আজকের বিশ্বে চীন সবচেয়ে বৃহৎ শক্তিদের একটি। চীন এখন এশিয়াকে হুমকি দিচ্ছে। রাজনীতি, কূটনীতি, বাণিজ্য, সামরিক শক্তি সবকিছুতেই আজ চীনের আকাশসম অর্জন। এসব কিছুই সম্ভব হয়েছে জ্ঞান অন্বেষণের ফলে। চীন জ্ঞান অন্বেষণ করে প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় এগিয়ে গিয়েছে বহুধাপ। আমাদের নবী করিম (স.) সে কথা বুঝেছিলেন যে চীন আজকের এই পর্যায়ে আসবে। তাইতো তিনি জ্ঞান অন্বেষণে চীনে যেতে বলেছেন। কথাগুলো বলছিলেন আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম এর উপাচার্য প্রফেসর আনোয়ারুল আজিম আরিফ।

মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে কুমিরাস্থ বিশ্ববিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে আইন অনুষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘লিগ্যাল সিস্টেম অব বাংলাদেশ : সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক সেমিনারে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পবিত্র কুরআন তেলওয়াত ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্যে দিয়ে শুরু হওয়া সেমিনারে তিনি আরও বলেন, জ্ঞান অন্বেষণ হচ্ছে সত্যের পথে ছুটে চলা। সত্যকে ডিঙিয়ে কখনো জ্ঞান অন্বেষণ করা যায় না। বাংলাদেশের আইন পেশা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা বাজে ধারণা বিদ্যমান। এটা একেবারেই মিথ্যে নয়। সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট গেলে মানুষের ভোগান্তির চরম সব গল্প শোনা যায়। এ পেশাকে অবলম্বন করে অনেকেই মানুষকে কষ্ট দিচ্ছে। তোমাদেরকে সেই পথ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সত্যের আন্দোলনে যোগ দিতে হবে। আমরাও একসময় ক্লাস থেকে দেশ ও দশের প্রয়োজনে রাজপথে নেমেছিলাম। যখন শত্রুরা চারিদিকে দেশটাকে আবারও গিলে খাচ্ছে, আবারও গ্রাস করছে তখন আমরা ক্লাস ছেড়ে রাজপথে নেমেছিলাম। আইনজীবীদের সম্পর্কে আমাদের সমাজে প্রচলিত বাক্য বদলাতে হবে। আর এটা তোমারই পারবে। যেখানে অসংখ্য মানুষের অভিযোগ, যেখানে অসততার ছড়াছড়ি, নির্যাতিত মানুষের বিচারহীনতার নিরব কান্না, সেখানেও কিছু মানুষ রয়েছে আর্তমানবতার সেবায় কাজ করছে। সততাকে পুঁজি করে অসততার বিরুদ্ধে লড়ছে। আমরা আমাদের সন্তানদের সেই পথে দেখতে চাই।

সেমিনারে উপাচার্য আনোয়ারুল আজিম আরিফ আরও বলেন, আজ বিশ্ববিদ্যালয় এক নতুন অর্জন পেতে যাচ্ছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে রেলস্টেশন করা হচ্ছে। অতীতে যা ছিল না তা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও করা হবে। আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয়কে ঢেলে সাজাতে চাই। বিশ্বশিক্ষার মহিরুহে পরিণত দিতে চাই।

সেমিনারে প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশের ডেপুটি এটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম; তিনি বলেন, জীবনে বড় হতে হলে সবার আগে ছোট হওয়া চাই। অর্থের পেছনে নয়, যোগ্যতা অর্জনের পেছনে ছোটো। জাগতিক অর্থ তোমাকে খুঁজে নিবে। সততা আর নিষ্ঠা থাকলে মানুষ তার অর্জন ঠিকই পায়। তাই তোমরা সততাকে পুঁজি করে ক্যারিয়ার গড়ে তোল। তবে ব্যক্তির চেয়ে রাষ্ট্র বড়। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যদি বাংলাদেশ স্বাধীন না হতো, বায়ান্ন’র ভাষা আন্দোলনে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা না করা হতো তাহলে আজকে আমি ডেপুটি এটর্নি জেনারেল হতে পারতাম না। পারতাম না বাংলায় কথা বলতে। আমরা যেন আমাদের অতীত ভুলে না যাই।

সেমিনারে শিক্ষার্থীদের আইন বিষয়ক বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ডেপুটি এটর্নি জেনারেল আবুল হাশেম বলেন, বাংলাদেশে এখনো শত বছরের পুরোনো আইন চালু আছে। তবে বর্তমান সরকার আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যে বেশকিছু আইন আমরা সংশোধন করেছি। কিছু আইনে বিচার হওয়ার পূর্বেই নির্দোষ ব্যক্তি অনেক দুঃখকষ্ট ভোগ করেন, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। এটাই আমাদের দেশের নিয়ম। আমাদের দেশের আইনে সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের উপদেষ্টা মোরশেদ মাহমুদ খান-এর সভাপতিত্বে অর্ধদিনব্যাপী এই সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন উপ উপাচার্য প্রফেসর ড. মাসরুরুল মাওলা, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সফিউর রহমান।

আইন অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক অ্যাডভোকেট নাছির উদ্দীনের সঞ্চালনায় সেমিনারে বক্তব্য রাখেন আইন অনুষদের চেয়ারম্যান মনজুর হোসেন পাটওয়ারী, আইন অনুষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল মালেক, আইআইইউসি ল’ ক্লাবের সভাপতি প্রফেসর কাজী আরশাদুল হক।

সেমিনারপূর্ব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আইআইইউসি ল’ ক্লাবের জিএস সাঈদ জুবায়ের ওপেল, এজিএস অনিক আহমেদ, পাবলিক রিলেশন অফিসার তৌসিফ ইনান প্রমুখ। সেমিনারে আইআইইউসি আইন অনুষদের বিভিন্ন সেমিস্টারের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ অংশ নেন।