শুক্রবার, ১২ আগস্ট ২০২২, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯

লিটন-মুশফিকে প্রথম দিন বাংলাদেশের

প্রকাশিতঃ ২৬ নভেম্বর ২০২১ | ৫:১২ অপরাহ্ন


চট্টগ্রাম : দিনে শুরু যে সারাদিনের চিত্র দেখায় না সেটা আরও একবার প্রমাণ করলেন লিটন কুমার দাস ও মুশফিকুর রহিম। টি-টোয়েন্টিতে ধারাবাহিক ব্যর্থ দল, তার উপর স্কোরবোর্ডে ৫০ রান না উঠতেই নেই চার উইকেট। সেখান থেকে দলকে টেনে নেয় জুটি। সাথে চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিনটাও নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ।

অথচ বাজে পারফরম্যান্সে একের এক পর এক সমালোচনা সহ্য করে যেতে হয়েছে লিটনকে। বাদ পড়েছেন টি-টোয়েন্টি দল থেকে। খারাপ করলে বাদ পড়তেন টেস্ট থেকেও। এমন পাহাড়তম চাপকে জয় করেছেন লিটন।

Nagad
ফিফটির পর থেকেই বাঁহাতে ব্যথা অনূভব করছিলেন লিটন। সাথে পায়েও স্ক্যাম্প করছিলো। শেষদিকে খুঁড়িয়েও হেঁটেছেন। ব্যস্ত রেখেছেন ফিজিওকে। এমন প্রতিকূল অবস্থাতেও দলকে তো টেনেছেনই সাথে আদায় করেছেন নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিও। যেখানে ছিল ১০ বাউন্ডারি ও এক ছক্কা। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ১১৩ রান করে।

Kabir Steel Re-Rolling Mills (KSRM)
বিশ্বকাপের ব্যর্থতার পর পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ‘বাদ’ পড়েন মুশফিক, সংবাদমাধ্যমে এমনটাই ছিলো তার দাবি। যদিও টেস্ট খেলার ভালো প্রস্তুতি বলে জানায় বোর্ড। কারণ যাই থাকুক মানসিক চাপটা পুরোপুরি ছিল মুশফিকের উপর।

তাই চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দলের দুই দিন আগেই এসে অনুশীলন শুরু করেন মুশফিক। তার প্রতিদান প্রথম দিনই পেয়ে গেলেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল। সেঞ্চুরি না পেলেও দলের বৈঠা টেনে নিয়েছেন তিনিই। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৮২ রানে। যার মাঝে ছিলো ১০টি বাউন্ডারি।

দুজনের ২০৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিই বাংলাদেশকে প্রথম দিন শেষে এগিয়ে রেখেছে। অথচ লিটন কুমার যখন মাঠে নামেন তখন স্কোরবোর্ডে রান ৪৯ আর উইকেট নেই চারটি।

দিনের প্রথম সেশনটা ছিল বাংলাদেশের জন্য দুঃস্বপ্নের। চারটি উইকেট হারাতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। ২৮ ওভারে রান উঠেছিল ৬৯। তবে দ্বিতীয় সেশনে এসে ইনিংস মেরামতের কাজটা ভালোভাবেই করে যাচস দুই ব্যাটার লিটন দাস এবং মুশফিকুর রহিম।

৩৩ রানের মাথায় দুই ওপেনার ফিরে যাওয়ার পর নাজমুল হোসেন শান্ত আর মুমিনুল হক মিলে চেষ্টা করেছিলেন বাংলাদেশের ইনিংস মেরামত করতে। কিন্তু মাত্র ১৫ রানের জুটি গড়তে পারলেন তারা দু’জন। ১৯ বলে ৬ রান করে ফিরে যান মুমিনুল।

সাজিদ খানের করা ইনিংসের ১৬ তম ওভারের প্রথম বলেই ব্যাটের কানায় লাগিয়ে ক্যাচ দেন মোহাম্মদ রিজওয়ানের হাতে। আম্পায়ার আউট না দিলে রিভিউ নেয় পাকিস্তান। তাতে দেখা যায়, ব্যাটের কানায় লাগিয়েছেন বল মুমিনুল হক।

পরের ওভারেই উইকেট দিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। পাকিস্তানের মিডিয়াম পেসার ফাহিম আশরাফের বলকে খেলতে গিয়ে পয়েন্টে ক্যাচ দেন সাজিদ খানের হাতে। টিভি আম্পায়ার রিপ্লে দেখে আউট দেন।

চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের উইকেট ব্যাটিং বান্ধব। কিন্তু পাকিস্তানের দুই পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি এবং হাসান আলির সামনে উইকেট কোনোই ব্যাপার নয়। যে কোনো উইকেটেই ঝড় তুলতে সক্ষম তারা। ইনসুইং, আউটসুইং, কাটার-স্লোয়ারে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের মাঝে আতঙ্ক ছড়ানোর কাজটা ভালোই করতে পারেন তারা।

বাংলাদেশের দুই ওপেনারও এই দুই পেসারের আগুনে বোলিংয়ের সামনে টিকতে পারলেন না। উইকেট বিলিয়ে দিতে বাধ্য হলেন। দলীয় ১৯ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারান সাইফ হাসান। শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে ক্যাচ তুলে দেন আবিদ আলির হাতে।

এরপর দলীয় ৩৩ রানের মাথায় হাসান আলির এলবিডব্লিউর শিকার হন আরেক ওপেনার সাদমান ইসলাম। দুই ওপেনারের ব্যাট থেকেই এসেছে সমান ১৪টি করে রান।