মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

আদালতে জবানবন্দি দিলেন সেই নারী পর্যটক ও তার স্বামী

| প্রকাশিতঃ ২৪ ডিসেম্বর ২০২১ | ৯:৪০ অপরাহ্ন


কক্সবাজার প্রতিনিধি : কক্সবাজারে স্বামী-সন্তানকে জিম্মি করে গণধর্ষণের স্বীকার হওয়ার অভিযোগ করে ভুক্তভোগী গৃহবধূ ও তার স্বামীকে আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকাল ৪টার দিকে তাদের কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হামীমুন তানজিনের আদালতে তোলা হয়। এরপর সন্ধ্যা ৬টার তারা আদালত থেকে বের হয়ে আসেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার ট্যুরিস্ট জোনের এসপি জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের (ভিকটিম নারী ও তার স্বামী) আদালতে তোলা হয়। তারা সেখানে আদালতকে ঘটনার বর্ণনা দেন। আদালতে তোলার আগে আমরা আমাদের মতো করে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছি।

এদিকে, দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তে নেমেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। কিন্তু ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ ওই নারীকে ধর্ষণের ঘটনার মধ্যে অনেক ‘রহস্য’ পাওয়া যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেছেন।

মুহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, তার (ভিকটিম নারীর) বক্তব্যের সঙ্গে স্বামীর বক্তব্যের মিল নেই। গত কয়েক মাসের মধ্যে তারা বেশ কয়েকবার কক্সবাজার এসেছেন বলে তথ্য-উপাত্ত হাতে এসেছে। নানা হোটেল ও কটেজে তার অবস্থানের তথ্যও মিলেছে। একেক জায়গায় তার নাম একেকভাবে লিপি করা। এ কারণে তাকে প্রাথমিক দৃষ্টিতে পর্যটক বলা যাচ্ছে না। মাসের ব্যবধানে এ নারী একাধিকবার কক্সবাজার আসা এবং একেকবার একেকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়ার পেছনে অন্য রহস্য লুকিয়ে আছে। আমরা তাও খোলাসা করে জানার চেষ্টা করছি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, বুধবারের ঘটনায় অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে।

এর আগে ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, তিনি ধর্ষিত হওয়ার পর সাহায্যের জন্য পুলিশের জাতীয় সেবা ৯৯৯- নম্বরে ফোন দেন। পুলিশ তাকে জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার না করে থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পরামর্শ দেয়।

এরপর র‌্যাবকে ফোন করে জানালে র‌্যাব ১৫-এর একটি টিম এসে তাকে উদ্ধার করে। তার স্বামী ও সন্তানকে উদ্ধার করা হয় পর্যটন গলফ মাঠ এলাকা থেকে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. হাসানুজ্জামান বলেন, ধর্ষণের সময় কিংবা ওই দিনে তারা ৯৯৯ নম্বরে আসা কোন ফোন পাননি। আমি থানার অফিসারদের সঙ্গেও কথা বলেছি, তারাও জানিয়েছেন ৯৯৯-এ নারী ও তার স্বামী কেউ ফোন করেননি। ঘটনার সময় দায়িত্বরত থানার ডিউটি অফিসারও জানিয়েছেন, এমন ঘটনায় ৯৯৯ থেকে থানায় কোনো কল আসেনি। তা ছাড়া ৯৯৯-এ যে কেউ ফোন করলে সেটি রেকর্ড থাকে।

তিনি বলেন, আমি নিজে ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে কথা বলেছি ও তার স্বামীর সঙ্গে কথা বলেছি, তারা বলেছেন ৯৯৯-এ ফোন করেননি। তার স্বামী বলেছেন, তিনি একটি সাইনবোর্ডে র‌্যাবের নম্বর দেখে সেখানে ফোন করেন।

৯৯৯ পুলিশের একটি জাতীয় সেবা উল্লেখ করে বিপদগ্রস্তরা সহায়তার জন্য এ নম্বরে কল করলে ফোন পাওয়া মাত্র তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশের একটি টিম সবসময় প্রস্তুত রাখা হয় বলে জানান এসপি মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান।