বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

টি এইচ খানের মৃত্যু: সুপ্রিম কোর্টের কার্যক্রম বন্ধ আজ

প্রকাশিতঃ Monday, January 17, 2022, 10:35 am


ঢাকা : সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও আন্তর্জাতিক আদালতের সাবেক বিচারপতি টিএইচ খানের মৃত্যুতে শোক-শ্রদ্ধা জানিয়ে বন্ধ রাখা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচার কাজ।

সোমবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি সিনিয়র আইনজীবী বিচারপতি টি এইচ খানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আজ আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে বিচারকার্য পরিচালনা করা হবে না। এ সময় আপিল বিভাগের অন্য ৫ বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গতকাল সাবেক বিচারপতি টিএইচ খান মারা যান। বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০২ বছর। তিনি বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন।

১৯২০ সালের ২১ অক্টোবর ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলাধীন ঔটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন টি এইচ খান। ১৯৪০ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করার পর ১৯৪২ সালে তৎকালীন কলকাতা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএ অনার্সে ভর্তি হন।

১৯৪৫ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ অনার্স এবং ১৯৪৬ সালে এমএ পাস করেন। ১৯৪৭ সালে তিনি আইন পেশায় যোগ দেন। ১৯৫১ সালের ১৪ মার্চ তিনি হাইকোর্টের আইনজীবী হন। পরে ১৯৬৮ সালে পূর্ব পাকিস্তান হাইকোর্টে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ তিনি হাইকোর্টে স্থায়ী বিচারপতি হন।

দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৩ সালের জুলাই মাস থেকে আইন পেশায় ফিরে আসার পরের বছর সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ সালে বিএনপি থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮১ সালের ১৫ নভেম্বর আইন, শিক্ষা, ধর্ম, ভূমি ও রাজস্ব এবং ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

১৯৮২ সালে এরশাদ ক্ষমতায় এলে রাজনীতির পাশাপাশি আইন পেশা চালিয়ে যান। ১৯৮৬ সালে এরশাদের নির্বাচনে বিরোধিতা করায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।

টিএইচ খান ১৯৯২ সালে জাতিয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম প্রতিষ্ঠা করেন। সংগঠনটির সভাপতি হিসেবে তিনি ২০১১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিএনপির প্রথম ভাইস চেয়ারম্যান।