বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

স্রোতের বিপরীতে হেঁটে সফল এক উদ্যোক্তা

প্রকাশিতঃ Thursday, January 20, 2022, 1:36 pm


জোবায়েদ ইবনে শাহাদত : মনজুরুল হক। বারকোড রেস্টুরেন্ট গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা। মাত্র চারজন কর্মী নিয়ে ২০১৩ সালে নগরীর বাদশা মিঞা পেট্রলপাম্পের পাশে একটি পরিত্যক্ত দোকানের ছোট্ট পরিসরে শুরু করেছিলেন বারকোড ক্যাফে। সেখানে খাবার ছিল মাত্র চার পদের।

সেই ছোট্ট বারকোড ক্যাফে থেকে এখন মনজুরুলের ২০টি রেস্টুরেন্ট। চট্টগ্রামে ১৫টি, ঢাকায় ৪টি। এছাড়া দেশের সীমানা পেরিয়ে আমিরাতের শারজাহতে একটি রেস্টুরেন্ট রয়েছে মনজুরুল হকের; যেখানে স্থানীয় এবং এশিয়া মহাদেশীয় খাবার পরিবেশন করা হয়। মনজুরুলের বারকোড গ্রুপে এখন কর্মীর সংখ্যা তিন শতাধিক।

মনজুরুল হকের বাবা নূর মোহাম্মদ ছিলেন এন মোহাম্মদ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা। বাংলাদেশ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে শীর্ষস্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তৈরি সাম্রাজ্য ছিল তাঁর জন্য। কিন্তু উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া এন মোহাম্মদের মত শিল্প গ্রুপের ব্যবসা ছেড়ে উদ্যোক্তা হতে চেয়েছিলেন তিনি। যদিও উদ্যোক্তা হিসেবে মনজুরুল হকের এই পথচলা মোটেও সুখকর ছিল না।

ছোট্ট বারকোড ক্যাফের সাফল্যের পর মনজুরুল চট্টগ্রামের মুরাদপুরে আরেকটি রেস্টুরেন্ট চালুর সিদ্ধান্ত নেন। সম্পন্নও করেন ‘বারকোড সিফুড’ নামে সেই রেস্টুরেন্টের যাবতীয় প্রস্তুতি। কিন্তু উদ্বোধনের একদিন আগেই ২০১৫ সালের ২২ মার্চ এটি আগুনে পুড়ে যায়। রেস্টুরেন্টের পাশাপাশি চোখের সামনে স্বপ্ন ছাই হতে দেখেন মনজুরুল। সেসময় প্রায় কোটি টাকার লোকসান হয় তাঁর।

আশেপাশের অনেকেই তখন বলছিলেন, এসব ব্যবসা সবার জন্য নয়, সবাইকে দিয়ে সব হয় না। সময় থাকতে বাবার ব্যবসায় মন দেওয়ার উপদেশও তাঁকে শুনতে হয়েছে অহরহ। কিন্তু যত বাধাই আসুক, থামবো না- এই শপথ নিয়ে চলতে থাকা মনজুরুল আগুনেই খুঁজে পেয়েছিলেন নিজের রেস্টুরেন্টের জন্য নতুন থিম। একই স্থানে চালু করেন ‘বারকোড অন ফায়ার’ নামে নতুন রেস্টুরেন্ট।

এরপর তাঁকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একে একে প্রতিষ্ঠা করেন বারকোড ক্যাফে, বারগুইচ টাউন, ওমেট্রা, মেজ্জান হাইলে আইয়্যুন, বীর চট্টলা, তেহেরিওয়ালা, বারকোড জিইসি, বারকোড মেরিনা ক্যাপেলা, বারকোডিয়ান। রেস্টুরেন্ট ব্যবসার পাশাপাশি চট্টগ্রাম ক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠন-প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে আছেন তিনি।

দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প গ্রুপের মালিকের সন্তান মনজুরুল হকের জন্য তৈরি ছিল ব্যবসায়িক ‘সাম্রাজ্য’। সেই মসৃণ পথের বিপরীতে কেন হাঁটলেন প্রশ্নে মনজুরুল হক বলেন, ‘আমার সবসময় ইচ্ছে ছিল নিজস্ব পরিচয় তৈরি করার। আমার জন্ম এবং বেড়ে ওঠা আমিরাতের শারজাহতে। পড়াশোনা করেছি সিঙ্গাপুরের টেমস বিজনেস স্কুলে বিজনেস ম্যানেজমেন্ট নিয়ে। পড়াশোনার সুবাদে ব্যবসার প্রতি আমার একটা ঝোঁক তৈরি হয়। আমার বাবাও চাইতেন আমি নিজে কিছু করি। বাবাকে সততার সঙ্গে কঠোর পরিশ্রম করতে দেখেছি। তিনি ছিলেন আমার অনুপ্রেরণা। বাবা বলতেন, যদি সততার সঙ্গে কঠোর পরিশ্রম করতে পারো তাহলে তুমি নিজের স্বপ্নকেও বাস্তবে রূপ দিতে পারবে। আমি আমার স্বপ্নকে অনুসরণ করেছি।’

ভিন্ন এই পথচলার শুরুর অভিজ্ঞতা কেমন ছিল- জানতে চাইলে মনজুরুল হক বলেন, ‘শুরুতে তো আমাকে অনেক কথা শুনতে হয়েছে। কারণ আমার বাবা ছিলেন এন মোহাম্মদ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা। সেই জায়গা থেকে আমি পারিবারিক ব্যবসায় যোগ দিবো- এটা অনেকটা ডিসাইডেড। কিন্তু আমি যখন রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় আসলাম, তখন অনেকেই বলেছেন- একজন ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টের ছেলে খাবারের দোকান দিবে? তোমার বাবা কত কী করেছে আর তুমি এসব কী করছো? কত প্রশ্ন করেছে, আরও কত কী। হাসি-ঠাট্টাও করেছের অনেকেই।’

‘সত্যি বলতে, নিজের লক্ষ্য ঠিক রেখে যদি আপনি কাজ করে যান তখন নেগিটিভিটিকেও পজিটিভিটিতে বদলে নেওয়া যায়। আমিও ঠিক তাই করেছি। আমার ফোকাসড ছিলো যে আমি কী করবো, কেন করবো। হয়তো এর জন্য আমাকে অনেক কিছু শুনতে হয়েছে, অনেক সাফার করতে হয়েছে, কিন্তু তাতে আমি কান দেইনি। একটা কথা আছে না- পাছে লোকে কত কী বলে তাকে কী আসে যায়।’

এতো ব্যবসা থাকতে রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় কেন আসলেন? মনজুরুল হক বলেন, ‘যখন আমি রেস্টুরেন্ট চালুর কথা ভাবছিলাম ২০১২ সালের দিকে, তখন চট্টগ্রামে এমন কোন কফি শপ ছিল না যেখানে মানুষ আমেরিকানো, ক্যাপুচিনো বা লেটো কফির আসল স্বাদ পাবেন। মানুষের এক কাপ ভালো কফির চাহিদা ছিল, এমনকি এর জন্য তারা টাকা দিতে প্রস্তুত ছিল। সেই উপলব্ধি থেকে বারকোড কফি শপ স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। ক্যাফে শুরুর পর আমরা ব্যাপক সাড়া পাই।’

‘এরপরই আমি ভালো সিফুডের একটি রেস্টুরেন্টের অভাব বোধ করলাম। সমুদ্র পাড়ের বাসিন্দারা সিফুডের অথেনটিক টেস্ট নিতে পারবে না তা কীভাবে হয়। তাই বারকোড সিফুড নামে আরেকটি রেস্টুরেন্ট দেওয়ার পারিকল্পনা করি। প্রায় এক কোটি টাকা খরচ করে মুরাদপুরে রেস্টুরেন্টটি প্রস্তুত করি। কিন্তু উদ্বোধনের আগের রাতেই রেস্টুরেন্টটি আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। তারপরও আমি থেমে থাকিনি। একই জায়গায় আরেকটি রেস্টুরেন্ট দেই, যার নাম রাখি- ‘বারকোড অন ফায়ার’। এরপর মানুষের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন স্পেশাল খাবারকে কেন্দ্র করে রেস্টুরেন্ট দিয়েছি। ধীরে ধীরে এগিয়েছি।’

বারকোড দিয়েই রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় পদার্পণ করেছেন মনজুরুল হক। বারকোড নামটাই কেন পছন্দ করলেন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘শুরুতে আমার রেস্টুরেন্টের নাম ওমেট্রা ঠিক করেছিলাম। কিন্তু পরে দেখলাম এই নামটা তেমন ফ্রেন্ডলি না, আর নামটা তেমন এট্রাকটিভও না। আমি এমন একটা নাম খুঁজছিলাম যেটা একবার শুনলেই নামটা মানুষের মনে গেঁথে যাবে। অনেক চিন্তা-ভাবনার পর বারকোড নামটা ঠিক করলাম। যেহেতু প্রায় প্রতিটি পণ্যের সাথেই বারকোড থাকে, যেটা স্ক্যান করে ওই পণ্য সম্পর্কে জানতে পারা যায়। তাই বারকোড নামটার সাথে মানুষের একটা কানেকশন আছে। এজন্যই আমার রেস্টুরেন্টটির নাম বারকোড রেখেছি।’

বারকোড রেস্টুরেন্টের বিশেষত্ব তুলে ধরে মনজুরুল হক বলেন, ‘বাইরের দেশগুলোতে মেনু কার্ড থাকে না। একটি বারকোড স্ক্যানার থাকে, যেটা স্ক্যান করলে ফোনেই খাবারের মেনু চলে আসে। আমি আমার সব রেস্টুরেন্টে বারকোড স্ক্যানের এই সুবিধাটি রেখেছি। এটি একদিকে যেমন স্মার্ট অন্যদিকে ইউজার ফ্রেন্ডলি। এছাড়া গ্রাহকদের অনুরােধেই বারকোড পরিবারের রেস্টুরেন্টগুলাের খাবার হােম ডেলিভারি দেওয়ার জন্য ‘বিআরজি ফুড ডেলিভারি সার্ভিস’ রেখেছি। এই সার্ভিসের মাধ্যমে বারকোড ক্যাফে, বারগুইচ টাউন, মেজ্জান হাইলে আইয্যুন, বীর চট্টলা, বারকোডিয়ান্স কিংবা বারকোড জিইসি রেস্টুরেন্টের যেকোন খাবার ঘরে বসেই অর্ডার করতে পারবেন। বার্কোডিয়ান্স মেম্বারশিপ কার্ডধারীরা যেকোনো অর্ডারে ফ্রি ডেলিভারি সুবিধা পাচ্ছেন।’

সাউথ ইন্ডিয়ার জনপ্রিয় খাবার দোসাকে নতুন আঙ্গিকে নিয়ে এসেছে বারকোড। এতো খাবার থাকতে দোসা কেন? মনজুরুল হক বলেন, ‘একটা সময় আমি স্ট্রিট ফুড নিয়ে কিছু করার চিন্তা করছিলাম। আমি স্ট্রিট ফুডকে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে মানুষের সামনে পরিবেশন করতে চাইছিলাম। দোসা ভারতে বেশ জনপ্রিয় একটা স্ট্রিট ফুড। আমাদের দেশে যেসব রেস্টুরেন্টে দোসা পাওয়া যেতো সেগুলো ছিল বেশ দামি। আমি চাইছিলাম স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে এবং সুলভ মূল্যে মানুষের কাছে দোসাকে ছড়িয়ে দিতে। আমি দোসা নিয়ে প্রায় বছরখানেক কাজ করেছি। তারপর আমি রেস্টুরেন্টে দোসা চালু করেছি। মানুষের কাছ থেকে বেশ ভালো সাড়াও পেয়েছি।’

কফি শপ ভিত্তিক রেস্টুরেন্টের পাশাপাশি চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান এবং তেহেরিকে কেন্দ্র করে রেস্টুরেন্ট চালু করেছেন মনজুরুল হক। এর কারণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের মেজবানির সুনাম সারাদেশেই আছে। চট্টগ্রামের বাইরে থেকে যারা আসেন তারা মেজবান টেস্ট করতে চান। এমনকি চট্টগ্রামের অনেকেই আমাকে মেজবান সহজলভ্য না হওয়ার বিষয়ে আক্ষেপ করে বলেছেন, যদি সবসময় মেজবান পাওয়া যেতো! তবে চাইলেই মেজবান খাওয়ানো যায় না, কারণ মেজবান রান্নার বেশকিছু আলাদা ধাপ ও প্রক্রিয়া আছে। যেহেতু আমি নিজেও মেজবান ভালোবাসি, তাই চিন্তা করলাম, লাভ-লোকসান যাই হোক না কেন আমি মেজবানকে সহজলভ্য করবো।’

‘সেই ভাবনা থেকেই আমি মেজবান হাইলে আইয়্যুন রেস্টুরেন্ট চালু করেছি। আমি চেয়েছিলাম যারাই চট্টগ্রামে আসবে তারা যাতে মেজবানের খাঁটি স্বাদ পান। রেস্টুরেন্টে মেজবানের এই প্রচেষ্টা মানুষের ভালো লেগেছে। আজ চট্টগ্রাম ছাড়াও ঢাকার তিনটি শাখার পাশাপাশি দুবাইতেও আমি মেজবান পৌঁছে দিয়েছি। এমনকি ইন্টারন্যাশনাল ফুড ব্লগার ‘ফুড রেঞ্জার’ মেজবানের রান্না খেয়ে বলেছেন তিনি এমন সুস্বাদু গরুর মাংস আগে কখনো খাননি।’

‘আর তেহেরির বিষয়টা হলো, চট্টগ্রাম শহরে ভালো তেহেরি পাওয়া যেত না। সেই অভাববোধ থেকেই আমি তেহেরিওয়ালা রেস্টুরেন্টের যাত্রা শুরু করি। সরিষার তেল ও বেশকিছু উপাদানের মিশ্রণে আমরা বেশ ইন্টারেস্টিং তেহেরির রেসিপি তৈরি করেছি। মানুষ আমাদের এই প্রচেষ্টাকেও লুফে নিয়েছে। আমার সবচেয়ে ভালো লাগে যখন দেখি আমার কাজের পর অনেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে তারাও একই কাজটি করছে। আগে যেখানে তেহেরির একটি রেস্টুরেন্টও ছিল না, আমার তেহেরিওয়ালা চালু হওয়ার পর তেহেরিকে কেন্দ্র করে নতুন ৪-৫টি রেস্টুরেন্ট চালু হয়েছে। রেস্টুরেন্ট জগতে আমি এ ধরণের পরিবর্তন আনতে চাই।

বারকোডের এতো জনপ্রিয়তার পেছনের রহস্য কী জানতে চাইলে মনজুরুল হক বলেন, ‘আমরা খাবারের মানের ব্যাপারে কোনো ধরনের আপস করি না। আমি বিশ্বাস করি, খাবার খাওয়াটাও এক প্রকার ইবাদত। সেই ইবাদতের কোনো ধরনের ঘাটতি থাকুক তা আমি চাই না। আমার কোনো রেস্টুরেন্টে বাসি খাবার বিক্রি করা হয় না। এমনকি আমাদের বীর চট্টলা এবং মেজ্জান হাইলে আইয়্যুনের কোনো রেফ্রিজারেটর নেই। এসব রেস্টুরেন্টে অর্ডারের পর তাৎক্ষণিকভাবে খাবার তৈরি করে দেওয়া হয়। স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের ব্যাপারে আমরা গ্রাহকদের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আর আমাদের প্রত্যেকটি রেস্টুরেন্টের খাবার মূল্য সকল ধরনের মানুষের কথা চিন্তা করেই রাখা হয়েছে। আমি মনে করি, এসব বিষয় গ্রহকদের মন জয় করতে পেরেছে, তাই তারা আমাদের এতো ভালোবাসা আর সাপোর্ট দিচ্ছেন।’

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মনজুরুল হক বলেন, ‘দেশের রেস্টুরেন্টে ব্রেকফাস্টে এখন পর্যন্ত অভিনব কিছু আসেনি। সেই বিষয়টা মাথায় রেখে আমি বারকোড ফুড জাংশনে উইন্টার ব্রেকফাস্ট আনছি। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে আমরা এটি শুরু করতে যাচ্ছি। যেখানে মাত্র ৪৯০ টাকায় আমরা প্রায় ২৫-৩০ পদের খাবার সার্ভ করবো। ব্রেকফাস্টও যে এনজয় করা যায় তা আমরা দেখিয়ে দিতে চাই। আমি নিশ্চিত যে, পূর্বের মত এবারও মানুষ আমাদের সাপোর্ট করবে। এছাড়াও বেশকিছু পরিকল্পনা আমার আছে যেগুলো ধীরে ধীরে নিয়ে আসবো। যেমন পাহাড়কে কেন্দ্র করে যেসব পর্যটন এলাকাগুলো আছে সেখানে পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনের জন্য বৈচিত্র্যময় খাবারের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা আমার আছে। আমি এসব বিষয় নিয়ে কাজ করছি। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে খুব তাড়াতাড়ি আমাদের নতুন কিছু কাজ আপনাদের সামনে নিয়ে আসতে পারবো বলে আশা করছি।’

‘যেহেতু রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় এসেছি, আমার একটা পরিকল্পনা আছে। আমি কী করতে চাই, এই রেস্টুরেন্ট ব্যবসাকে কোথায় নিয়ে যেতে চাই, সত্যি বলতে আমি কখনো শুধু ব্যবসা নিয়ে চিন্তা করিনি, ভবিষ্যতে এর ব্যতিক্রম হবে না। মানুষকে এনগেজ করা, নিজের কাজে অন্যের সম্পৃক্ততা বেশ আনন্দের। আমি রেস্টুরেন্ট ইন্ডাস্ট্রিতে এমন একটা স্ট্যান্ডার্ড লিমিট করতে চাই যেখানে মানুষ রেস্টুরেন্টকে, খাবারকে উপভোগ করবে।’ বলেন মনজুরুল হক।

উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য কী কী যোগ্যতা প্রয়োজন বলে মনে করেন, প্রশ্নে মনজুরুল হক বলেন, ‘আমরা অনেকেই মনে করি উদ্যোক্তা হতে টাকার প্রয়োজন। আসলে কিন্তু তা নয়। আর্থিক মূলধনের পাশাপাশি যে জিনিসটা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সেটা হলো ভালো একটা আইডিয়া, ভালো কনসেপ্ট। মানুষের প্রয়োজনীয়তা কী সেটা বুঝতে হবে। তারপর সেই অনুযায়ী ভালো একটা আইডিয়া তৈরি করতে হবে। আজকাল অনেকে ইনভেস্টর পাওয়া যায়, যারা ভালো কনসেপ্ট দেখলেই এগিয়ে আসেন। বিষয়টা যদি সোশ্যাল সার্ভিসের কিছু হয়, কঠোর পরিশ্রম আর স্বপ্ন সত্যি করার জেদ থাকে তাহলে যে কেউ সফল হতে পারবে বলে আমি মনে করি।’