বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

মিতু হত্যা: বাবার করা মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন

প্রকাশিতঃ Tuesday, January 25, 2022, 8:47 pm


চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের আলোচিত মাহমুদা খানম মিতু হত্যার ঘটনায় তার বাবা মোশাররফ হোসেনের দায়ের করা মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে পিবিআই।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তদন্ত সংস্থাটির এসপি নাইমা সুলতানা আদালতে ২৬৬ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

একই সঙ্গে আলোচিত এই মামলায় চট্টগ্রামের সাবেক এসপি ও মিতুর স্বামী বাবুল আক্তারের নিজের করা মামলায় জামিন নামঞ্জুর করেন আদালত।

গত ৯ জানুয়ারি মিতু হত্যার ঘটনায় পাঁচলাইশ থানায় নিজের করা মামলায় বাবুলকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আদালত।

পিবিআই জানায়, মিতু হত্যার ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। একটি মামলার বাদী বাবুল আক্তার। এই মামলায় আদালতে পিবিআই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছিল। কিন্তু আদালত সেটি গ্রহণ না করে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে সেই মামলাটির অধিকতর তদন্ত চলছে। একই ঘটনার দুটি মামলা থাকায় আদালত থেকে একটি পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। তাই আদালতের পর্যবেক্ষণ মেনে ও আইনের বিধি-বিধান অনুসরণ করে মিতুর বাবার দায়ের করা মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় সড়কে খুন হন পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতু। সে সময় মিতু হত্যায় তার স্বামী একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় জঙ্গি হামলার অভিযোগ আনেন এবং তিনি কাউকে আসামি হিসেবে চিহ্নিত করেননি। মূলত তিনি একাধিক জঙ্গিবিরোধী অভিযান পরিচালনা করায় সহজে এই হত্যাকাণ্ডকে জঙ্গি হামলা বলে চালিয়ে দেন।

এই মামলা প্রথমে পাঁচলাইশ থানা এবং পরে চট্টগ্রামের গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করে। কিন্তু প্রায় চার বছরের তদন্ত শেষেও কোনো ক্লু উদঘাটন না হওয়ায় মামলাটি ২০২০ সালের জানুয়ারিতে তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। এরপরই মূলত সাক্ষী ও বাদীর দেয়া তথ্য উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে একের পর ক্লু উদঘাটন শুরু হয়। এতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত মুসার সঙ্গে সাইফুলের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। আর সাইফুলের সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল বাবুল আক্তারের। পিবিআই-এর কর্মকর্তারা কামরুল শিকাদর মুসা এবং সাইফুল হককে অনুসরণ করেই হত্যার মূল হোতা বাবু্ল আক্তারের কাছে পৌঁছান।

গত বছরের মে মাসে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গিয়ে বাবুল আক্তারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে শ্বশুর মোশাররফ হোসেন তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় প্রতিবেদন দিল তদন্ত সংস্থা।