মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

আফিফ-মিরাজের বিশ্বরেকর্ড, ঘুরে দাঁড়ানোর মহাকাব্য লিখল বাংলাদেশ

| প্রকাশিতঃ ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২২ | ৭:৩৫ অপরাহ্ন


চট্টগ্রাম : ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির কথাই মনে করিয়ে দিলেন মেহেদি হাসান মিরাজ ও আফিফ হোসেন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেদিন দুইশর বেশি রানের পার্টনারশিপ গড়ে ম্যাচ জেতান সাকিব আল হাসান ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। চট্টগ্রামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তা করে দেখালেন এই দুই তরুণ।

সপ্তম উইকেটে বাংলাদেশের আগের রেকর্ড (১২৭) টপকে নতুন রেকর্ড (১৭৪) গড়লেন আফিফ হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজ। তাদের ব্যাটে চেপে জয়ের হাসি হাসল টাইগাররা। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে আফগানিস্তানের দেওয়া ২১৬ রানের টার্গেট টপকে ৪ উইকেটের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।

২৮ রানে ৫ উইকেট, ৪৫ রানে নেই ৬ উইকেট। একে একে ফিরে গেলেন তামিম, লিটন, মুশফিক, ইয়াসির রাব্বি, সাকিব আল হাসান এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের পুরো শক্তিই বলতে গেলে শেষ হয়ে গেছে। শঙ্কা দেখা দিয়েছিল, কত কম রানে শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশ!

স্নায়ুযুদ্ধ তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশের সমর্থকদের মনে। কিন্তু দুই তরুণ মেহেদী হাসান মিরাজ এবং আফিফ হোসেন ধ্রুব যে বীরত্ব দেখালেন, তা রীতিমতো অবিশ্বাস্য। ১৭৪ রানের অবিশ্বাস্য এক জুটি গড়ে ৭ বল হাতে রেখেই ৪ উইকেটের এক অবিশ্বাস্য জয় এনে দিলেন বাংলাদেশকে।

২১৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ শুরুতেই পড়ে বিপাকে। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে ফজলহক ফারুকির বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন লিটন দাস। এর এক বল পর তামিমও ফেরেন তার শিকার হয়েই। দুটো উইকেটেই শুরুতে আবেদন নাকচ করে দিয়েছিলেন আম্পায়ার। তবে এরপর রিভিউ নিয়ে সফল হয় আফগানরা।

এক ওভার পর আবারও আক্রমণে আসেন ফারুকি। এবার তুলে নিলেন মুশফিককে। আম্পায়ার শুরুতে আউট দিলেও এরপর রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। সেই রিভিউতেও অবশ্য মুশফিকের ভাগ্য বদলায়নি। উলটো বাংলাদেশ রিভিউ হারিয়েছে একটা। সেই ওভারের শেষ বলে দারুণ এক বলে তিনি শিকার করেন অভিষিক্ত ইয়াসির আলীকে।

কিছুক্ষণ পর সাকিব আল হাসানও ফেরেন মুজিব উর রহমানকে কাট করতে গিয়ে বোল্ড হয়ে। এরপর মাহমুদউল্লাহ বিদায় নেন রশিদ খানের বিদায় হয়ে। তারপরেই দেখা যায় তাদের অবিশ্বাস্য এই জুটি।

সপ্তম উইকেটে দুজনে গড়েন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটি, যা ৫০ রানের মধ্যে ৬ উইকেটের পতনের পর যেকোনো উইকেটে ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা পার্টনারশিপ এবং সার্বিকভাবে (আগে ও পরে ব্যাটিং মিলে) দ্বিতীয় সেরা। রান তাড়ায় ৭ম উইকেট জুটিতে এটাই বিশ্বের সেরা পার্টনারশিপ।