সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

লাফিয়ে বাড়ছে রডের দাম

| প্রকাশিতঃ ১২ মার্চ ২০২২ | ৭:০৭ অপরাহ্ন


একুশে প্রতিবেদক : রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অজুহাতে চট্টগ্রামে রডের দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি টনে দাম বেড়েছে ৭ হাজার টাকার বেশি। প্রতি টন রড ৮৫ থেকে ৯২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সপ্তাহ দুয়েক আগেও ছিল ৮২ হাজার থেকে ৮৫ হাজার টাকার মধ্যে। এর কারণ হিসেবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কাঁচামালের সরবরাহ সংকটকে দায়ী করছেন উৎপাদনকারীরা।

খুচরা পর্যায়ের বিক্রেতারা বলছেন, ওই যুদ্ধ শুরুর আগে থেকেই দাম বাড়ানো হচ্ছে। হাটহাজারী বড়দিঘির পাড় এলাকার রড-সিমেন্টের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শফি ট্রেডার্সের মালিক বলেন, গত ১২ থেকে ১৫ দিন ধরেই বাড়ছে রডের দাম। কোম্পানির প্রতিনিধিরা প্রায় প্রতিদিনই নতুন দর জানিয়ে দিচ্ছেন। এ অবস্থায় বেশি রড কিনছেন না তারা। নগরের বায়েজিদ এলাকার আলম ট্রেডার্সের বিক্রয় কর্মী ওয়াহিদ আলী বলেন, গত তিন সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে চট্টগ্রামে উৎপাদিত রডের দাম।

ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে বর্তমানে তিন ধরনের এমএস রড পাওয়া যায়। এর মধ্যে অটো কারখানাগুলোতে তৈরি ৭৫ গ্রেড (৫০০ টিএমটি) রড সবচেয়ে ভালো মানের রড। প্রতি টনে এই মানের রডের দাম বেড়েছে ৭ হাজার টাকা। সেমি অটো কারখানাগুলোতে তৈরি ৬০ গ্রেড (৫০০ ওয়াট) এবং সাধারণ বা ৪০ গ্রেডের রড।

এর আগে ২০১২ সালে এক লাখ টাকা ছুঁয়েছিল টনপ্রতি রডের দাম। এরপর দাম কমে প্রায় অর্ধেকে নামে। বছর দেড়েক আগেও রডের টন ছিল প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা। কিন্তু কয়েক দফায় বেড়ে এখন ভালো মানের প্রতি টন রড খুচরা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৯২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে বিএসআরএম, কেএসআরএম ও জিপিএইচসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রতি টন ৭৫ গ্রেডের রড বিক্রি হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯২ হাজার টাকায়, যা সপ্তাহ তিনেক আগে ছিল ৮২ থেকে ৮৫ হাজার টাকা। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে সেমি অটো মিলের ৬০ গ্রেডের (৫০০ ওয়াট) রডের দাম ৮২-৮৫ হাজার থেকে বেড়ে হয়েছে ৮৫ থেকে ৯২ হাজার টাকা। সাধারণ ৪০ গ্রেডের রডের দাম বেড়েছে প্রতি টনে প্রায় ১০ হাজার টাকা। ৭৮ থেকে ৮২ হাজার টাকার রড এখন ৮২ থেকে ৮৬ হাজার টাকা।

ইস্পাত ব্যবসায়ীরা জানান, বিশ্ববাজারে রড উৎপাদানের কাঁচামালের দাম বেড়েছে। নির্ধারিত সময়ে চাহিদা অনুয়ায়ী কাঁচামাল পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া ইউক্রেনে যুদ্ধ লাগার কারণে আগে যেখানে এক-দেড় মাসে জাহাজ আসত এখন তা ছয় মাসে আসতে পারবে কিনা, তা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে। এসব কারণে কারখানায় উৎপাদনের যে সক্ষমতা রয়েছে সে অনুযায়ী উৎপাদন করা যাচ্ছে না। এছাড়া জাহাজ ভাড়াও বেড়েছে। এসব কারণে রডের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। ফলে রডের বাজারে প্রভাব পড়েছে।

বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও শাহরিয়ার স্টিল মিলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মাসাদুল আলম মাসুদ বলেন, ‘কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় রডের দামও বেড়েছে। গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম থেকে কাঁচামাল কেনা পড়েছে টনপ্রতি ৭৩ হাজার টাকা। এগুলো প্রসেসিং করে রড তৈরি করতে আরও ১৫ হাজার টাকা খরচ হবে। এতে টনপ্রতি রডে বর্তমানে উৎপাদন খরচ পড়ছে ৮৮ হাজার টাকা।’