সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

বর্ষায় বাণিজ্য মেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা, বেশিরভাগ স্টলেরই কাজ শেষ হয়নি

| প্রকাশিতঃ ১ জুন ২০২২ | ১০:৩০ অপরাহ্ন


এম কে মনির : জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকে বর্ষাকাল। যদিও চট্টগ্রামসহ দেশজুড়ে আগাম বৃষ্টিপাত শুরু হয় গত মে মাসের মাঝামাঝিতে। ফলে বর্ষায় মেলা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে এবার চট্টগ্রামে বাণিজ্য মেলার বেশিরভাগ স্টলেরই কাজ শেষ হয়নি। মেলা শুরুর পরদিনও স্টলগুলোতে চলছিল গোছানোর কাজ।

এর আগে মঙ্গলবার (৩১ মে) বিকালে নগরীর রেলওয়ে পলোগ্রাউন্ড মাঠে মাসব্যাপী আর্ন্তজাতিক বাণিজ্য মেলা উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

উদ্বোধনের পরদিন আজ বুধবার বিকেলে বাণিজ্য মেলায় গিয়ে দেখা গেছে, বেশিরভাগ স্টল অপ্রস্তুত। ক্রেতা-দর্শনার্থী সমাগম নেই বললেই চলে। বিক্রিও একেবারে কম। হাতে গোনা কয়েকটি দেশি স্টল চালু হলেও বিদেশি স্টলগুলোর দেখা নেই। এতে আগত দর্শনার্থীরা হতাশ হয়ে ফিরেছেন।

বাণিজ্য মেলা ঘুরে দেখা যায়, মার্কস ও কয়েকটি ক্রোকারিজ পণ্যের স্টল বসেছে শুধু। অন্য স্টলগুলোতে এখনো নির্মাণ কাজ চলছে। মেলায় আগত সীমিত সংখ্যক দর্শনার্থী কপি শপে বসেই সময় পার করছেন।

মেলা প্রাঙ্গণে কথা হয় কয়েকজন ক্রেতা-দর্শনার্থীর সঙ্গে। তাদের মধ্যে আয়শা আক্তার বলেন, ‘এবারের মেলায় বেশিরভাগ স্টলই এখনো বসেনি। দোকান নির্মাণ কাজ চলমান থাকায় মেলায় দেখার মতো তেমন কিছু নেই বললেই চলে। উদ্বোধনের পর স্টলের কাজ চলা বা মেলা শুরু না হওয়া সত্যিই দুঃখজনক।’

মেলায় স্টল নেয়া ক্রোকারিজ পণ্যের দোকানি মো. রিপন বলেন, ‘দুদিন পার হলেও ক্রেতার দেখা নেই। একদিকে বৃষ্টি। অন্যদিকে বেশিরভাগ দোকান অপ্রস্তুত। বর্ষাকাল হওয়ায় বিক্রি নিয়ে আমরাও শঙ্কায় আছি।’

একই কথা বললেন, ফুল দোকানি হৃদয় ও কসমেটিকস দোকানি জাহিদও। তারা বললেন, মেলা উদ্বোধন করা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু অনেক দোকানই উদ্বোধন হয়নি। এখনো তাদের কাজ চলছে। বৃষ্টির দিনে মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলা জমে না ওঠলে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে তাদের।’

এদিকে গতবারের মতো এবারও মেলার টিকিটের মূল্য ১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নগরের বিভিন্ন স্কুলের শিশু থেকে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে প্রবেশ করতে পারবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এক এ মেলা মাসব্যাপী চলবে। মেলা প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীরা বিনামূল্যের ওয়াইফাই সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন।

৪ লাখ বর্গফুটে আয়োজিত এ মেলা আরও থাকবে ১২ হাজার ৩২০ বর্গফুটের একটি ওপেন প্লাজা, যেখানে বিশ্রাম নিতে পারবেন দর্শনার্থীরা। আর শিশুদের জন্য থাকবে তিন হাজার বর্গফুটের একটি বিনোদনকেন্দ্র।

এবারের মেলায় ১৭ টি প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়নে ভারত, থাইল্যান্ড ও ইরানের উদ্যোক্তারা তাদের পণ্য প্রদর্শন করবেন বিদেশী স্টলগুলোতে। এছাড়াও ৩৩টি প্রিমিয়ার স্টল, ৯৯টি গোল্ড স্টল, ৪৮টি মেগা স্টল, ১৪টি ফুড স্টল, ২টি আলাদা জোনসহ মোট ৩৭০টি স্টল থাকবে। এবার ৪’শ টিরও বেশি দেশি ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে মেলায়। এ ছাড়া মেলায় বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন স্থাপন করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে মেলার দায়িত্ব থাকা চট্টগ্রাম চেম্বারের জয়েন্ট সেক্রেটারি মো. নুরুল আবছার চৌধুরী একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘মেলা উদ্বোধন করা হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার। এ মেলা ১ মাস চলবে। আগামী শুক্রবারই মেলা জমে ওঠবে আশা করি। স্টল বরাদ্দ নেয়া ব্যক্তিরা তাদের পণ্য আনতে সময় নিচ্ছে। স্টল সাজাতে যে কাজ চলছে তা দুয়েকদিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আশা করছি, বাণিজ্য মেলা চট্টগ্রামের মানুষের মিলনমেলায় রূপ নেবে। এখানে চট্টগ্রামের তথা দেশীয় অনেক পণ্য প্রদর্শিত হবে। বিদেশি স্টলগুলোও শীঘ্রই চালু হবে।’