মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

গ্রামীণ টেলিকমের চাকরিচ্যুতদের শর্ত জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট

| প্রকাশিতঃ ৩০ জুন ২০২২ | ২:০৪ অপরাহ্ন


ঢাকা : গ্রামীণ টেলিকম থেকে চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের শর্তসমূহ জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে একটি তালিকা দাখিলের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এ সংক্রান্ত একটি নথিও আদালতে দাখিল করতে বলেছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক কোম্পানি বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদেশের বিষয়টি জানান গ্রামীন টেলিকমের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান।

তিনি বলেন, চাকুরীচ্যুতরা কি টার্মস এন্ড কন্ডিশনে চাকরি নিয়েছেন সেটি জানতে চেয়েছেন আদালত।

অপরদিকে শ্রমিকদের আইনজীবী ইউসুফ আলী আদালতকে জানান, শ্রমিকরা এ পর্যন্ত গ্রামীণ টেলিকম থেকে ৩৮০ কোটি টাকা পেয়েছেন। বাকি টাকা এখনও পরিশোধ করা হয়নি। মামলা প্রত্যাহারের শর্তে গ্রামীণ টেলিকমের চাকরিচ্যুত ১৭৬ জন শ্রমিকের পাওনা বাবদ ৪৩৭ কোটি টাকায় সমঝোতা করেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

এর আগে, গত ৭ ফেব্রুয়ারি নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ টেলিকমের অবসায়ন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের পক্ষে এ আবেদন দায়ের করা হয়।

অ্যাডভোকেট ইউসুফ বলেন, গ্রামীণ টেলিকমের কাছে শ্রমিকদের পাওনা আড়াইশ কোটি টাকার বেশি। এই পাওনা টাকার দাবিতে কোম্পানিটির অবসায়ন চাওয়া হয়েছিল।

দীর্ঘদিন ধরে গ্রামীণ টেলিকমে শ্রমিক ছাঁটাইকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে অসন্তোষ চলে আসছিল। শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন (বি-২১৯৪) সিবিএর সঙ্গে আলোচনা না করেই এক নোটিশে ৯৯ কর্মীকে ছাঁটাই করে গ্রামীণ টেলিকম কর্তৃপক্ষ।

গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আশরাফুল হাসান স্বাক্ষরিত এক নোটিশের মাধ্যমে এ ছাঁটাই করা হয়।

এরপর ওই নোটিশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন ২৮ জন কর্মী। পরে রিটটি আমলে নিয়ে ড. ইউনূসকে তলব করেন হাইকোর্ট। গত বছরের ৪ এপ্রিল ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন— গ্রামীণ টেলিকমের এমডি আশরাফুল হাসান, পরিচালক নুর জাহান বেগম ও শাহজাহান।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদফতরের কর্মকর্তারা ড. ইউনূসের গ্রামীণ টেলিকম পরিদর্শনে যান। সেখানে গিয়ে তারা শ্রম আইনের কিছু লঙ্ঘন দেখতে পান। এর মধ্যে ১০১ জন শ্রমিক-কর্মচারীকে স্থায়ী করার কথা থাকলেও তাদের স্থায়ী করা হয়নি। শ্রমিকদের অংশগ্রহণের তহবিল ও কল্যাণ তহবিল গঠন করা হয়নি।

এছাড়া কোম্পানির লভ্যাংশের ৫ শতাংশ শ্রমিকদের দেওয়ার কথা থাকলেও তা তাদের দেওয়া হয়নি। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে এ মামলা করা হয়।