সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

নির্ধারিত দামে বিক্রি হয়নি চামড়া, অনেকেই দিয়েছেন বিনামূল্যে

| প্রকাশিতঃ ১০ জুলাই ২০২২ | ১১:২১ অপরাহ্ন


চট্টগ্রাম : ঈদুল আজহার আগে সরকার কোরবানির পশুর চামড়ার যে দর নির্ধারণ করে দিয়েছিল সেই দরে চামড়া বিক্রি হয়নি। তবে গত কয়েক বছর ধরে চামড়া নিয়ে যে ফেলনা ভাব ছিল সেটা কিছুটা কেটেছে। দাম না পেয়ে চামড়া ফেলে দেওয়ার মতো কোনো খবর এখনও পাওয়া যায়নি।

এবার সরকার নির্ধারিত দাম অনুযায়ী ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট ৪৭ থেকে ৫২ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৪০ থেকে ৪৪ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ঢাকায় ১৮ থেকে ২০ টাকা, বকরির চামড়া প্রতি বর্গফুট ১২ থেকে ১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

রোববার (১০ জুলাই) কোরবানি শেষে বিভিন্ন স্থান থেকে কম মূল্যে চামড়া সংগ্রহ করেছেন মৌসুমি ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা। এছাড়াও বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন ও এতিমখানা বিনামূল্যে চামড়া সংগ্রহ করেছেন।

আগের মতো চামড়ার দাম নেই। তাই চামড়া নিয়েও তেমন আগ্রহ ছিল না মানুষের। এর পরেও গরুর আর মহিষের চামড়া কিছুটা বিক্রি হলেও ছাগলের মাংস বিনামূল্যেই সংগ্রহ করেছেন অনেকেই।

গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশের সদস্যরা বিভিন্ন স্থান থেকে গরু মহিষ ও ছাগলের চামড়া সংগ্রহ করেছেন। অনেকেই তাদের বিনামূল্যে চামড়া দিয়েছেন।

তবে গত কয়েক বছর মৌসুমি ব্যবসায়ীরা যেভাবে নাজহাল হয়েছিলেন, এবার তেমনটা দেখা যাচ্ছে না।

গাউসিয়া কমিটি চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানান, চট্টগ্রাম জেলায় এ বছর তারা এক লাখ চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়েছেন, যার মধ্যে ৫০ হাজার শুধু মহানগরী এলাকা থেকে সংগ্রহ করা হবে। চামড়ার দাম কম হওয়ায় অনেকেই আমাদের বিনামূল্যে দান করে দিয়েছেন।

আগের বছরগুলোতে তারা যে পরিমাণ চামড়া সংগ্রহ করতেন এ বছর তার চেয়েও বড় আকারে সংরক্ষণের কাজ করছেন জানিয়ে আব্দুল্লাহ বলেন, চট্টগ্রাম নগরীতে চামড়া সংগ্রহের জন্য তাদের সংগঠনের ৭০০ ইউনিটের মাধ্যমে অন্তত ৬ হাজার কর্মী কাজ করছেন। প্রায় ৮০টি গাড়ির মাধ্যমে বিভিন্ন পাড়া মহল্লা থেকে সংগ্রহ করা চামড়া এনে মাদ্রাসা মাঠে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ মুসলিম উদ্দিন বলেন, কিছু চামড়া এসেছে। সরকার নির্ধারিত দামেই চামড়া কেনা হচ্ছে। প্রথম দিন শুধু শহরের ভেতরে যেসব পশু কোরবানি হয়েছে সেগুলোর চামড়া আমরা কিনব। গরমের কারণে চামড়া ফেলে রাখলে নষ্ট হয়ে যাবে। তাই লবণ দিয়ে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে রাখা জরুরি।

দেশে চামড়া ব্যবসায়ীদের কাঁচা চামড়া সংগ্রহের প্রধান মৌসুম ঈদুল আজহা। এক দশক আগেও যেখানে একটি গরুর চামড়া আকারভেদে ১২০০ থেকে ৩০০০ টাকায় বিক্রি করা যেত। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সেই একই চামড়া ৫০০ টাকাতেও বিক্রি করতে পারছেন না মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। পানির দরে না বিক্রি করে অসংখ্য চামড়া ফেলে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে।