শুক্রবার, ১২ আগস্ট ২০২২, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯

বিএম ডিপো : নাশকতা নয়, হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড থেকেই বিস্ফোরণ

প্রকাশিতঃ ১৭ জুলাই ২০২২ | ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন


জোবায়েদ ইবনে শাহাদাত : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ আগুন ও বিস্ফোরণ ঘটনার ১ মাস ১৩ দিন পার হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ছয়টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি তদন্ত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা হয়েছে। জেলা প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করলেও এখন বলছে, তারা আর তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করবে না। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ও ডিপো কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি করলেও তাদের প্রতিবেদন এখনও আলোর মুখ দেখেনি। যে তিনটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে, এসব নিয়েও প্রশাসনকে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না। অথচ বিভাগীয় কমিশনার গঠিত তদন্ত কমিটি উক্ত ঘটনার জন্য ডিপোর মালিকদের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টমস, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত ২৫ তদারকি সংস্থারও গাফিলতি পেয়েছে।

জানা গেছে, বিএম ডিপোতে ভয়াবহ আগুন ও বিস্ফোরণ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ, ফায়ার সার্ভিস এবং বিএম কনটেইনার ডিপো কর্তৃপক্ষ। গঠিত ৬টি কমিটির মধ্যে ৩টি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলেও বাকি ৩টি কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনের কোনো সাড়াশব্দ নেই। গঠিত এসব তদন্ত কমিটির কোনটি ৫ দিন আবার কোনটির ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করার কথা থাকলেও ঘটনার প্রায় দেড় মাস হতে চললেও প্রতিবেদন প্রকাশ না করায় প্রশ্ন তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়েও।

ঘটনার তদন্তে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লে. কর্ণেল মো. রেজাউল করিমকে প্রধান করে ফায়ার সার্ভিসের গঠিত তদন্ত কমিটিকেও পাঁচ দিন সময় দেওয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিসের গঠিত তদন্ত কমিটির একজন সদস্য একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে গত ৫ জুলাই মহাপরিচালককে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তদন্ত কমিটি। বিএম ডিপো ট্র্যাজেডির কারণ, ঘটনার জন্য কারা দায়ী- এসব বিষয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে কিছু সুপারিশও দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে কী উল্লেখ করা হয়েছে এবং কাদের দায়ী করা হয়েছে সে বিষয়ে কিছু জানাননি তিনি।

জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘কমিটি প্রদত্ত প্রতিবেদন আমরা মন্ত্রণালয়ের জমা দিয়েছি। এ ব্যাপারে আমার মন্তব্য করা সমীচীন নয়, মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে মন্তব্য করবে। এতটুকু বলতে পারি কিছু ফাইন্ডিংস আমরা পেয়েছি, কিছু সুপারিশও করা হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে ওই ডিপোসহ চট্টগ্রামের অন্যান্য ডিপো পরীক্ষা করেছি। ত্রুটি সংশোধনে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়েছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আপনারা বিশ্বাস করবেন কিনা জানি না, আজ পর্যন্ত আমি জানি না ডিপোর মালিক কে। আমার সাথে মালিকের কথা হয়নি। ওনাদের প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তার সাথে আমার কথা হয়েছে। তদন্ত কমিটিও কোনো রকম প্রেশার ছাড়াই স্বাধীনভাবে নিজেদের তদন্তের কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। কাজেই এক্ষেত্রে মালিকপক্ষ দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না।’

অন্যদিকে ডিপোতে বিস্ফোরণের ঘটনার পর পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। অতিরিক্ত কমিশনার শফিউদ্দিনকে কমিটির প্রধান করে সাত কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়েছিল প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য। কিন্তু সেই প্রতিবেদন আজ পর্যন্ত জমা দিতে সক্ষম হয়নি কমিটি সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত কমিশনার শফিউদ্দিনকে একাধিকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে খুদে বার্তা পাঠিয়ে যোগাযোগ করলেও তিনি সাড়া দেননি। একইভাবে কমিটির অন্য সদস্য, যুগ্ম কমিশনার তারেক হাসান, সালাহউদ্দিন রিজভী, সহকারী কমিশনার উত্তম চাকমার সাথে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার ফোন করেও তাদের পাওয়া যায়নি।

এছাড়াও বিএম ডিপোর বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্তে ৯ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক বদিউল আলমকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটিকেও সময় দেওয়া হয়েছিল সাত কার্যদিবস। এখন পর্যন্ত সেই কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা কিংবা প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে তেমন কোনো বিবৃতিও দিতে দেখা যায়নি সংশ্লিষ্টদের। তদন্ত প্রতিবেদন প্রসঙ্গে জানতে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক বদিউল আলমকে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি।

তবে এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘একই জায়গা থেকে দুটি তদন্ত প্রতিবেদন না করে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির সাথে সমন্বয় করেই আমরা তদন্ত করেছি। যেহেতু ওই কমিটির প্রতিবেদনে জেলা প্রশাসনের সম্পৃক্ততা ছিল, দুটো কমিটি একসাথে কাজ করেছে। তাই আলাদা করে আমরা আর তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করছি না।’

এদিকে, বিস্ফোরণের পরদিন ৫ জুন সরকারের নির্দেশে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে আহ্বায়ক করে ১২ সদস্যের একটা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হলেও পরে সময় বাড়ানো হয়। কমিটি এক মাস সময় নিয়ে গত ৬ জুলাই চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. আশরাফ উদ্দিনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।

বিলম্ব হলেও ১৯ পৃষ্ঠার ওই তদন্ত প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে মালিকপক্ষের অবহেলাকে চিহ্নিত করা হয়। মালিকপক্ষসহ তদারকি সংস্থাগুলোর গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ার কথা জানায় কমিটি। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ না পাওয়াসহ কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল তদন্ত কার্যক্রমে। বিএম ডিপোর এমডি মোস্তাফিজুর রহমান ও পরিচালক মুজিবুর রহমানসহ ২৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও ডিপোটির নির্বাহী পরিচালক ব্রি. জেনারেল (অব.) জিয়াউল হায়দার এবং ডিপোর জিএম (মার্কেটিং) নাজমুল আখতার খান কমিটির ডাকে সাড়া দেননি।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, নাশকতা নয়, হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড থেকেই সেদিনের আগুন ও বিস্ফোরণ ঘটেছিল। এছাড়া ডিপোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সমস্যা, দক্ষ জনবলের ঘাটতি, আইএনডিজি কোড ও ডেঞ্জারাস কার্গো পরিচালনায় নিয়মনীতি না মানার কথাও উঠে আসে সেখানে। প্রতিবেদনটির মাধ্যমে মিলেছে বেশকিছু প্রশ্নের উত্তর। ৫ শতাংশ নয়- বিএম ডিপোর ৫১ শতাংশ এবং আল রাজি কেমিক্যালের শতভাগের মালিক স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক মুজিবুর রহমান সিআইপি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান একুশে পত্রিকাকে বলেন, ডিপোটির নির্বাহী পরিচালক আমাদের চিঠির কোনো জবাব দেননি। আমরা বেশকিছু মাধ্যমে তাকে নোটিশ পাঠিয়েছি। তার ঠিকানা, এমনকি হোয়াটসঅ্যাপেও নোটিশ পাঠিয়েছি। কিন্তু তিনি কোনো রেসপন্স করেননি। আর ডিপোর জিএম (মার্কেটিং) সাড়া দেননি। যেহেতু তিনি পুলিশের মামলার প্রধান আসামি, ধারণা করছি তিনি পলাতক আছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয়কে পাঠিয়ে দিয়েছি। তিনি দেশের বাইরে আছেন, দেশে ফিরে তিনি আমাদের প্রতিবেদনটি পর্যবেক্ষণ করে সেটি নিয়ে কাজ করবেন। যেহেতু বিশেষ নির্দেশনায় তদন্ত করে সেই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে সেহেতু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় নিশ্চয়ই এর প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষের তিন সদস্যের কমিটিও। টার্মিনাল ম্যানেজার, ডেপুটি ডাইরেক্টর ও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের উপকমিশনার নিয়ে গঠিত কমিটির তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও কমিটি গঠনের তিন সপ্তাহ পর গত মাসের শেষ দিকে বন্দর চেয়ারম্যান বিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহানের কাছে ২৪ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।

তবে বন্দর কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টে বিএম ডিপোয় বিস্ফোরণের জন্য ডিপো মালিককে নয়, দায়ী করা হয়েছে মালিকের আরেক প্রতিষ্ঠান আল রাজী কেমিক্যালকে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিপজ্জনক পণ্য পরিবহণে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জার ব্যবহার বাধ্যতামূলক হলেও আল রাজী কেমিক্যাল তা করেনি। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটি দায়দায়িত্ব এড়াতে পারে না। তদন্ত কমিটির রিপোর্টে ডিপো কর্তৃপক্ষের প্রধান চারটি ভুলের কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে জানানো হলেও অগ্নিকাণ্ডের স্পষ্ট কোনো কারণ জানাতে পারেননি তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাজাহান বলেন, দুর্ঘটনার পর আমি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বন্দর থেকে একটি তদন্ত কমিটি করেছি। অনিয়ম ছিল কিনা, তা তদন্ত কমিটি অনুসন্ধান করেই প্রতিবেদনটি দিয়েছে।

এদিকে, বিভাগীয় কমিশনার গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দাখিলের পরদিনই (দীর্ঘ এক মাস পর) প্রকাশ্যে আসে মালিকপক্ষ। নগরের একটি রেস্তোরাঁয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা আহ্বান করলেও সভায় সাংবাদিকদের বেশিরভাগ প্রশ্নের উত্তর দেননি স্মার্ট গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক মেজর (অব.) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী। এতদিন মালিকপক্ষ প্রকাশ্যে আসেনি কেন- এমন প্রশ্নও এড়িয়ে যান বিএম ডিপোর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।

এত প্রাণহানির দায় কার, মামলায় হাত-পা হারানো কয়েকজনকে আসামি করা, বিএম ডিপো কর্তৃপক্ষের দায় থাকার প্রশ্নে সাফাই দিতে গিয়ে নিজের তদন্ত কমিটি গঠনের কথা উল্লেখ করা হয়। যদি বেসরকারি ডিপোটির গঠিত তদন্ত কমিটি এখন পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা কিংবা জনসম্মুখে প্রকাশ কর‍তে পারেনি। এমনকি প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে কিছুই জানেন না।

জানা যায়, মুজিবুর রহমান সিআইপি’র অবর্তমানে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে চাইছে না প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা। তাদের ধারণা, তার অবর্তমানে প্রতিবেদন প্রকাশ ও এর প্রতিক্রিয়া সামলাতে হিমশিম খেতে হবে সংশ্লিষ্টদের, তাই এই বিলম্ব।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পরিবারের সদস্যরা বিদেশ ভ্রমণে ব্যস্ত। যদিও আন্তর্জাতিকভাবে নাড়া দেওয়া ভয়াবহ এই ট্র‍্যাজিডির পরও বেশ ফুরফুরে মেজাজেই আছেন মুজিব ভ্রাতারা। ঘটনার ২৫ দিনের মধ্যেই স্বাভাবিক, স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে মালিকপরিবার ব্যস্ত হয়ে পড়েন বিদেশভ্রমণে। বিস্ফোরণের ঘটনায় সরকারিভাবে গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্ত চলাকালীন সময়েই মুজিবুর রহমান ছুটে যান হজে। আর স্মার্ট গ্রুপের তরুণ পরিচালক তারেকুর রহমান তাজাকিস্তানের নাগরিক সহধর্মিণীকে নিয়ে চলে যান ‘শশুরবাড়ি’ তাজাকিস্তানে। যদিও মুজিবুর রহমান বাঁশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন উপলক্ষে শীঘ্রই দেশে ফিরবেন বলে জানা গেছে।

দেশের বাইরে থাকায় মুজিবুর রহমানের বক্তব্য জানা না গেলেও কথা বলেছেন স্মার্ট গ্রুপের পরিচালক আজিজুর রহমান। শনিবার একুশে পত্রিকাকে তিনি বলেন, ঈদের ছুটির পর আমি আজ প্রথম অফিসে আসলাম। তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনও খবর নিতে পারিনি। তদন্ত প্রতিবেদন কবে নাগাদ জমা কিংবা প্রকাশ করা হবে তাও আমি ঠিক জানি না। এ বিষয়ে জানতে স্মার্ট গ্রুপের জিএমের সাথে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।

তদন্ত প্রতিবেদনের অগ্রগতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্মার্ট গ্রুপের জিএম মেজর (অব.) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘এখনও আমাদের কারখানা চালু হয়নি। আর এ বিষয়ে আমি জেনে তারপর আপনাকে বলতে পারবো। তবে তদন্ত কার্যক্রম চলমান আছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থেই বিলম্ব হচ্ছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মালিকপক্ষ দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ দুর্ঘটনা যে ঘটেছে এটা লুকানোর কিছু নেই, তাই মালিক পক্ষই আমাদের সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছে। এমনটা হলে তো মালিকপক্ষ তদন্ত কমিটিই করতে দিত না। এমনটা যদি কেউ মনে করে থাকেন তাহলে তারা ভুল ধারণা নিয়ে আছেন।’