
চট্টগ্রাম : সাবেক মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি ও তার ছেলের বিরুদ্ধে সংবাদ পরিবেশনের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বেসরকারি চ্যানেল দীপ্ত টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী জাহেদুল হাসানসহ চারজনকে সকালে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছিলেন আদালত। তবে বিকেলে শারীরিক অসুস্থতা বিবেচনায় কাজী জাহেদুল হাসানকে জামিন দিয়েছেন আদালত।
আজ সোমবার চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক জহিরুল কবির এসব আদেশ দিয়েছেন বলে জানান সাইবার ট্রাইব্যুনালের পিপি মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী।
তিনি একুশে পত্রিকাকে বলেন, আজকে সকালে দীপ্ত টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী জাহেদুল হাসান, পরিচালক কাজী জাহিন হাসান, চিফ অপারেটিং অফিসার কাজী উরফি আহমেদ ও সাংবাদিক আনিসুর রহমান আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান। আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নতুন করে একটি পিটিশন দেন আসামি পক্ষের আইনজীবী। তখন শারীরিক অসুস্থতা বিবেচনায় কাজী জাহেদুল হাসানকে জামিন দিয়েছেন আদালত।
আজকে কারাগারে যাওয়া বাকি তিনজনের জামিন শুনানি আগামীকাল হবে বলেও জানান তিনি।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১৬ ও ২২ মার্চ টিভি চ্যানেলটিতে তৎকালীন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি ও তার ছেলে মুজিবর রহমানকে জড়িয়ে ‘মিথ্যা সংবাদ’ পরিবেশন করা হয়; এতে মন্ত্রী ও তার ছেলের সম্মানহানি হওয়ার অভিযোগ তুলে ২০১৬ সালে চকবাজার থানায় দুটি ও চান্দগাঁও থানায় একটি মামলা করা হয়।
২০১৬ সালের ৫ এপ্রিল তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ (২) ধারায় চকবাজার থানায় সানোয়ারা গ্রুপের ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলম যে মামলাটি করেন, তাতে আসামি করা হয়- দীপ্ত টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী জাহেদুল হাসান, পরিচালক কাজী জাহিন হাসান, চিফ অপারেটিং অফিসার কাজী উরফি আহমেদ ও চট্টগ্রাম অফিসের প্রতিবেদক রুনা আনসারীকে।
এর আগে একই বছরের ৩ এপ্রিল সানোয়ারা গ্রুপের ভূমি ব্যবস্থাপক শেখ আহম্মেদ বাদী হয়ে চকবাজার থানায় দায়ের করা মামলায় আসামি করা হয়- দীপ্ত টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী জাহেদুল হাসান, পরিচালক কাজী জাহিন হাসান, কাজী রাবেদ হাসান, চিফ অপারেটিং অফিসার কাজী উরফি আহমেদ, বার্তা সম্পাদক, চট্টগ্রাম অফিসের প্রতিবেদক রুনা আনসারী ও জমির মালিক পরিচয়দানকারী আবু বকরকে।
এছাড়া একই বছরের এপ্রিলে চান্দঁগাও থানায়ও একটি মামলা করা হয়। এতে উপরোক্ত দুই মামলার কয়েকজনের পাশাপাশি দীপ্ত টিভির সাংবাদিক আনিসুর রহমানকে আসামি করা হয়।
একই ঘটনায় পৃথক দুটি থানায় দায়ের করা মোট তিনটি মামলায় অন্তত আটজনকে আসামি করা হয়। মামলাগুলো হওয়ার পর তারা আদালত থেকে জামিন পান। এরপর উচ্চ আদালতে মামলাগুলো স্থগিত হয়ে যায়। সম্প্রতি স্থগিতাদেশ বাতিল করেন উচ্চ আদালত। এরপর মামলার চার আসামি উচ্চ আদালতে জামিন চাইতে গেলে চট্টগ্রামের সাইবার ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার শর্তে গত ৫ জুন উচ্চ আদালত তাদের ছয় সপ্তাহের জামিন দিয়েছিলেন।
এ প্রেক্ষিতে চার আসামি আজ চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন।