শুক্রবার, ১২ আগস্ট ২০২২, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ স্কোর জিম্বাবুয়ের

প্রকাশিতঃ ৩০ জুলাই ২০২২ | ৭:০০ অপরাহ্ন


খেলাধুলা ডেস্ক : শুরুটা হয়েছিল টসে হার দিয়ে। ব্যাটিংয়ে নামে জিম্বাবুয়ে। তাসকিনের ডেলিভারিতে ইনিংসের শুরুটাই হয় ওয়াইড দিয়ে। তারপর জিম্বাবুয়ে স্কোরবোর্ডে রান যোগ করেছে বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই।

টাইগার বোলারদের ওপর ব্যাটিং তান্ডব চালিয়েছেন মেধেভেরে ও রাজা। দুজনে ২০৬ রানের লক্ষ্য দিয়েছেন বাংলাদেশকে। বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে এটিই সর্বোচ্চ স্কোর তাদের, সব মিলিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

লেগ সাইড ঘেঁষা লাইনেই বল করে গেছেন তাসকিন আহমেদ। ইনিংসের প্রথম চারটি ডেলিভারির তিনটিই হয়েছে ওয়াইড। চতুর্থ বৈধ ডেলিভারিতে কাউ কর্নার দিয়ে তুলে চার মেরেছেন রেজিস চাকাভা। তাসকিনের করা প্রথম ওভারে উঠেছে ৮ রান। দ্বিতীয় ওভারেই নাসুম আহমেদকে আনেন নুরুল। এ বাঁহাতি স্পিনার করেছেন আঁটসাঁট বোলিং-ই।

কোনো বাউন্ডারি দেননি, তাঁর ওভারে এসেছে ৪ রান।
তবে টাইগার সমর্থকদের বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। তৃতীয় ওভারেই ব্রেক থ্রো এনে দেন মোস্তাফিজুর রহমান। রেজিস চাকাভাকে ফিরিয়ে ভাঙেন জিম্বাবুয়ের উদ্বোধনী জুটি। বাঁহাতি পেসারের স্টাম্পে থাকা ফুললেংথ ডেলিভারি ছক্কায় ওড়ানোর চেষ্টায় সফল হননি চাকাভা। মিডউইকেটে বেশ উঁচুতে উঠে যাওয়া ক‍্যাচ নেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ভাঙে ১৫ রানের জুটি। এক চারে ১১ বলে ৮ রান করেন চাকাভা।

পাওার প্লেতে আর কোনো উইকেট পড়েনি। ৬ ওভার শেষে ৪৩ রান যোগ করে জিম্বাবুয়ে। পাওয়ার প্লের প্রথম ৫ ওভারে পাঁচজন বোলার ব্যবহার করেন অধিনায়ক সোহান। তাসকিন আহমেদ দিয়ে শুরু। এরপর নাসুম আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, মোসাদ্দেক হোসেনের পর পঞ্চম ওভারে পঞ্চম বোলার হিসেবে শরীফুল ইসলামকে দিয়ে বোলিং করানো হয়।

সপ্তম ওভারের প্রথম বোলে মোসাদ্দেকের শিকার জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক আরভিন। জোরের ওপর করার বলের লাইনে যেতে পারেননি। লেগে ঘুরানোর চেষ্টায় খেলতে পারেননি ব্যাটে। এলোমেলো হয়ে যায় স্টাম্প। ফিরে যাওয়ার আগে ২ চারে ২১ রান যোগ করতে পেরেছিলেন রানের খাতায়।

এরপরই জিম্বাবুয়ের ঘুরে দাঁড়ানোর শুরু হয়। মেধেভেরেক সঙ্গে নিয়ে গতি সমান রেখে দ্রুত রান তুলতে থাকেন শেন উলিয়ামস। তাদের জুটি ছাড়িয়ে যায় পঞ্চাশের ঘর। তবে বিপজ্জনক হয়ে উঠা এই জুটিকে ফেরান প্রথম আঘাত হানা মোস্তাফিজ। মোস্তাফিজের স্লোয়ার ঠিক মতো বুঝতে পারেননি বাঁহাতি এই ব‍্যাটসম‍্যান। বেরিয়ে এসে চড়াও হওয়ার চেষ্টায় মাঝ ব‍্যাটে খেলতে পারেননি। ব‍্যাটের কানায় লেগে এলোমেলো হয়ে যায় স্টাম্প। ভাঙে ৩৭ বল স্থায়ী ৫৬ রানের জুটি। উইলিয়ামস ১৯ বলে চারটি চার ও এক ছক্কায় করেন ৩৩।

উলিয়ামস ফিরে গেলেও রাজাকে নিয়ে রানের খাতা সচল রাখেন মেধেভেরে। দ্রুত রান যোগ করে তুলে নেন ক্যারিয়ারের সপ্তম অর্ধশতক। থেমে থাকেননি সিকান্দার রাজাও। দুজনে মিলে টাইগার বোলারদের যেন শাসন করছিলেন। মাত্র ২৩ বলে ফিফটি তুলে নেন রাজা। শেষ ওভারে গিয়ে রিটায়ার্ড হার্টে যান মেধেভেরে। ফেরার আগে ৯ চারে ৬৭ রান তুলে নেন। কিন্তু থেমে থাকেননি রাজা। তার ধুন্দুমার ব্যাটিংয়ে ২০৬ রানের টার্গেট দেয় জিম্বাবুয়ে। সিকান্দার রাজা অপরাজিত থাকেন ৬৫ রানে। মাত্র ২৬ বলে ইনিংসটি তার সাজানো ছিল ৭ চার ও ৪ ছক্কায়।

মাত্র ৩ উইকেটে ২০৫ রানে জিম্বাবুয়ের দুটি উইকেট নেন মোস্তাফিজ। উইকেটের সঙ্গে খরচ করেছেন ৪ ওভারে ৫০ রান। ৩ ওভারে ২১ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন মোসাদ্দেক। শুরুটা আটোসাটো দিয়ে করলেও শেষ পর্যন্ত ৪ ওভারে ৩৮ রান দিয়ে থাকতে হয়েছে উইকেট শূন্য। খরচের খাতা বড় হলেও উইকেটের দেখা পাননি তাসকিন ও শরিফুল।