বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর ২০২২, ২১ আশ্বিন ১৪২৯

অবৈধ সম্পদ: যুগ্ম সচিবের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

প্রকাশিতঃ ১১ অগাস্ট ২০২২ | ১১:৪০ অপরাহ্ন


ঢাকা : জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এবার দুর্নীতি দমন কমিশন মামলা করলো যুগ্ম সচিব মো. সাজ্জাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের পরিচালক হিসেবে কর্মরত এই কর্মকর্তা আগে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ছিলেন।

তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত ৭৫ লাখ টাকার বেশি সম্পদের সন্ধান পায় দুদকের অনুসন্ধানী দল।

পরে বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) দুদকের সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে সংস্থাটির সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলাটি করেন।

বিষয়টি দুদকের উপ পরিচালক (জনসংযোগ) মু. আরফি সাদেক মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, সাজ্জাদুল ইসলাম জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৭৫ লাখ ৫৯ হাজার ১১১ টাকার সম্পদ অবৈধভাবে অর্জন করে তা ভোগ দখলে রেখে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেন।

মামলার অনুসন্ধানে বলা হয়, আসামি সাজ্জাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের সত্যতা পাওয়া যায়। দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে যে সম্পদের হিসাব দাখিল করেছেন তা তার বৈধ আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সাজ্জাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের সত্যতা পাওয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশন হতে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি দেয়া হয়। পরে ২০২০ সালের ৯ ডিসেম্বর তিনি সম্পদ বিবরণী দুদকে জমা দেন।

দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে তিনি ১ কোটি ৬৯ হাজার ৭৩ হাজার ৬৫৩ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৬৫ লাখ ৩ হাজার ২৩২ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ সর্বমোট ২ কোটি ৩৪ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮৫ টাকার সম্পদ এবং ৩২ লাখ ৯৪ হাজার ৯৭ টাকার ঋণ/দায়-দেনার তথ্য দেন।

কিন্তু সাজ্জাদুল ইসলামের দেওয়া সম্পদ বিবরণী যাচাইকালে প্রাপ্ত তথ্য ও রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় সাজ্জাদুল ইসলামের নামে দায়-দেনা বাদে ২ কোটি ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৮৮ টাকার তথ্য পাওয়া যায়।
অপরদিকে তিনি ২০০৪-০৫ করবর্ষ থেকে ২০২০-২১ করবর্ষ পর্যন্ত পারিবারিক ব্যয় করেছেন ৯৫ লাখ ৯১ হাজার ২৫১ টাকা। তার পারিবারিক ব্যয়সহ অর্জিত সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৯৭ লাখ ৭৪ হাজার ৩৯ টাকা। কিন্তু তার এই স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের টাকার সম্পদ অর্জনের বিপরীতে বৈধ গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস পাওয়া যায় ২ কোটি ২২ লাখ ১৪ হাজার ৯২৮ টাকা।

এক্ষেত্রে তার আয় অপেক্ষা অতিরিক্ত সম্পদের পরিমাণ ৭৫ লাখ ৫৯ হাজার ১১১ টাকার, যা তার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ও অবৈধ পন্থায় অর্জন করেছেন মর্মে পরিলক্ষিত হয়। এ কারণে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।