শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

প্রাপ্তবয়স্কদের ১৮ ও শিশুদের ১২ শতাংশ মানসিক রোগে আক্রান্ত

| প্রকাশিতঃ ৬ নভেম্বর ২০২২ | ৪:৪১ অপরাহ্ন


ঢাকা : দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ১৮ শতাংশ এবং ১২ শতাংশ শিশু কোনো না কোনো মানসিক রোগে আক্রান্ত বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক। এ অবস্থায় দেশের মানসিক স্বাস্থ্য খাতকে বর্তমানে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (৬ নভেম্বর) রাজধানী শ্যামলীর জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে কমিউনিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণ পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা আগে পিছিয়ে থাকলেও এখন সামনে এসেছে। মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটও সম্প্রসারিত হয়েছে। এনসিডি কর্নারে মানসিক স্বাস্থ্যকেও যুক্ত করা হয়েছে। এতে করে সকল অঞ্চলের মানুষ সহজে কাউন্সেলিং পাবেন, চিকিৎসা পাবেন। দেশের ১৮ ভাগ মানুষ কোনো না কোনোভাবে মানসিকতা সমস্যায় ভোগে। আশঙ্কার বিষয় শিশুদেরও ১২ ভাগ কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় ভুগছে। তবে মানসিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় এখনও ঘাটতি আছে। সারাদেশে এ সেবা বিস্তৃত করতে না পারলে প্রত্যাশা অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া যাবে না।

মন্ত্রী বলেন, করোনাকালে আমরা অসংক্রামক রোগে জোর দিতে পারিনি। স্বাস্থ্যে বাজেটের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যে বরাদ্দ অনেক কম। কিন্তু প্রতি বছর শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে আক্রান্ত হচ্ছে। এমনকি করোনার দুই বছরে আত্মহত্যার ঘটনাও বেড়েছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে পরিকল্পনা রয়েছে। তবে করোনর কারণে যুগোপযোগী এই পরিকল্পনা এতদিন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এখন আবার ডেঙ্গু। কোভিডে মানসিক সমস্যা প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছিল। অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ে, ডমিস্টিক ভায়োলেস্স বেড়ে যায়।

মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে সকলের কার্যকর ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে টেকসই মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে বিদ্যমান ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। বিশেষ করে বিভাগীয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে যেসব বিভাগ রয়েছে তা আরও জোরদার করতে হবে। একদম স্থানীয় পর্যায়ে কীভাবে মানসিক স্বাস্থ্য পৌঁছে দেওয়া যায় আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করছি।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে একটি নীতিমালা তৈরি করে দেবে বলেও জানিয়েছেন অধ্যাপক খুরশীদ আলম।