সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

আরএসআরএম গ্রুপের ঋণখেলাপি মামলায় রিসিভার নিয়োগ

| প্রকাশিতঃ ৮ অগাস্ট ২০২৩ | ১০:৩৩ অপরাহ্ন


চট্টগ্রাম : রতনপুর স্টিল রি-রোলিং মিলস (আরএসআরএম) গ্রুপের ১৮ কোটি ২ লাখ টাকা খেলাপি ঋণ আদায়ের মামলায় রিসিভার নিয়োগ দিয়েছেন আদালত। বাদী পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) অর্থ ঋণ আদালতের বিচারক মুজাহিদুর রহমান এই আদেশ দেন।

বিষয়টি একুশে পত্রিকাকে নিশ্চিত করেছেন অর্থ ঋণ আদালতের বেঞ্চ সহকারী রেজাউল করিম।

জানা যায়, মার্কেন্টাইল ব্যাংক জুবলী রোড় শাখা ২ মাস আগে আরএসআরএম গ্রুপের বিরুদ্ধে ১৮ কোটি ১ লাখ ৯৩ হাজার ৮১ টাকা ঋণ খেলাপির অভিযোগে মামলা দায়ের করে। মামলায় আরএসআরএম গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান রতনপুর শিপিং লাইনস লিমিটেড ও এটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজানুর রহমান, প্রতিষ্ঠানটির দুই পরিচালক মিজানুর রহমানের বাবা মাকসুদুর রহমান ও চাচা মো. ইউনূস ভূঁইয়াকে আসামি করা হয়েছে। তারা নগরীর পাঁচলাইশ রোড় ১০৮ এর বাসিন্দা।

রিসিভার নিয়োগের আদেশে বলা হয়েছে, ২০১১ সালে আরএসআরএম গ্রুপের উপরোক্ত মালিকদের ১৮ কোটি ১ লাখ ৯৩ হাজার ৮১ টাকা ঋণ দেয় মার্কেন্টাইল ব্যাংক। কিন্তু শর্তাবলি ভঙ্গ করে বিবাদীরা ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করেননি। অনিয়মিতভাবে কিছু টাকা পরিশোধ করলেও তারা ঋণ খেলাপিতে জড়িয়ে পড়েন। সর্বশেষ ২০১৯ সালের ১৪ মার্চ ঋণটির পুনঃতফসিল করা হয়। এ নিয়ে ওই ঋণের ২ বার পুনঃতফসিল সম্পন্ন হয়। এরপরও ঋণ গ্রহীতারা অর্থ পরিশোধ করেননি।

বাদী ব্যাংকের মতে বিবাদীরা ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি। ঋণের বন্ধকি সম্পত্তি থাকতে বিবাদীরা মাসিক বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করলেও ব্যাংককে কোনো টাকা পরিশোধ না করে খেলাপি রেখে দেন। অর্থঋণ আদালত আইন ২০০৩ এর ১২(৩) এর ধারা অনুযায়ী ব্যাংক বন্ধকী সম্পত্তি বিক্রির জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে বিবাদীরা হাইকোর্টে রিট মামলা দায়ের করেন। এতে বন্ধকি সম্পত্তি বিক্রি বাধাগ্রস্ত হয়।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে বিবাদীরা দেশের শীর্ষ ঋণ খেলাপি। সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ৬৯(এ) ধারা অনুযায়ী বন্ধক গ্রহীতার আবেদন অনুসারে বন্ধকি সম্পত্তির রিসিভার নিয়োগের বিধান রয়েছে। এ প্রেক্ষিতে বাদী তফসিলভুক্ত সম্পত্তির ভাড়া আদায় করে সানড্রাই একাউন্টে জমা করার আবেদন করেছেন৷

অন্যদিকে বিবাদীর আইনজীবী জানিয়েছেন, বিবাদীরা দেশের স্বনামধন্য ব্যবসায়ী। তাদের সঙ্গে ব্যাংকের দীর্ঘ ১ যুগেরও বেশি সময় ধরে সম্পর্ক। বিবাদীরা লেনদেন করছেন এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অর্থ পরিশোধও করেছেন। বাদী ব্যাংক উচ্চহারে সুদ আরোপ করে তাদের দায়কে স্ফীত করেছেন। তাছাড়া মামলাটি দায়ের হয়েছে মাত্র ২ মাস আগে। এ পর্যায়ে রিসিভার নিয়োগের সুযোগ নেই।

আদালত দুই পক্ষের নথি পর্যালোচনা করে মামলায় বন্ধকি সম্পত্তির রিসিভার হিসেবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (সার্বিক) নিয়োগ দিয়েছেন।

আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি বিবাদীগণের পারিবারিক সম্পত্তি। যেখানে বহুতল ভবন রয়েছে। ২০১৯ সালে পুনঃতপসীলভুক্ত হলেও তারা ঋণ পরিশোধ করছেন না। সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে রিসিভার নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। রিসিভার সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয় কাজ সম্পাদন করতে পারবেন। তবে বন্ধকদাতার কোন পরিচালন কর্মী ও ভবনের ভাড়াটিয়াদেরকে যৌক্তিক কারণ ছাড়া উচ্ছেদ করতে পারবেন না এবং বর্তমান কর্মীদেরকে অব্যাহতিও দিতে পারবেন না।

আদেশে রিসিভারকে প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে দরখাস্তে বর্ণিত তফসিলভুক্ত সম্পত্তির ভাড়া আদায় করে পে-অর্ডারের মাধ্যমে চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে রিসিভার প্রতিমাসে ৩০ হাজার টাকা সম্মানি প্রাপ্য হবেন। মামলার বাদী মার্কেন্টাইল ব্যাংকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রিসিভারকে সহযোগিতা করবেন।